ডেস্ক: সিলেটে একটি শিৰাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে মঞ্চে প্রধান অতিথির আসনে বসে সিগারেট ফুকা এ দেশের সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সম্পূর্ণ অসামাজিক অশ্রাব্য গালিগালাজে ফুঁসে উঠেছে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ। নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে সিলেটসহ সারাদেশে। এছাড়াও মন্ত্রীপরিষদ থেকে তাকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। অবিলম্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী তার ভুল বুঝতে না পারলে সিলেটের স্থানীয় সাংবাদিক মহলের পৰ থেকে আসতে পারে কঠোর কর্মসূচি। এ ব্যাপারে সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের ডাক’র চিফ রিপোর্টার সিরাজুল ইসলাম আমাদের সিলেট ডটকমকে জানান, ১১ আগস্ট সোমবার সিলেটের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের এ ব্যাপারে জরুরি বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে পরবর্তী পদৰেপ।৯ আগস্ট শনিবার সিলেটে আদিবাসী দিবস উপলৰ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্ক্তব্যের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশ্যে চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করলেন ‘সিলেটী দামান’ বর্তমান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। এদিকে, সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এ অসামাজিক কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠেছেন সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের সিলেটবাসী। জানাচ্ছেন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। এরই সাথে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করছে মহলবিশেষ। সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের প্রশ্ন- যে দেশের সমাজকল্যাণমন্ত্রী বিনা উস্কানিতে একটি সভা-মঞ্চের বক্তব্যের শুর্বতেই সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুর্ব করে দেন সে দেশে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ আদৌ কী সম্ভব!
এদিকে, সমাজকল্যাণমন্ত্রীর চরম অসৌজন্যমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
সিলেট প্রেসক্লাব :
সিলেটে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কে তাঁর ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে সিলেট প্রেসক্লাব।
এক বিবৃতিতে প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী দিবসের আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের সাথে মন্ত্রীর অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সাংবাদিক সমাজ সম্পর্কে মন্ত্রী যেভাবে কুরুচিপূর্ণ মন-ব্য করেছেন তা অনভিপ্রেত এবং অনাকাক্সিক্ষত। একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ শুধু সিলেটবাসী নয়, গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজকে মর্মাহত করেছে। তারা বলেন, এ ধরণের অশালীন ও আক্রোশমূলক বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরুপ। তারা মন্ত্রীর এ বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং এ ধরণের আচরণ পরিহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় সিলেটের সাংবাদিকরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রস-াবিত জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালার খসড়া নিয়ে যেখানে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ সুধী মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে-ঠিক সেই মুহূর্তে মন্ত্রীর এ ধরণের উল্টাপাল্টা বেপরোয়া মন-ব্য আমাদেরকে আশাহত করেছে। সেই সাথে দেশবাসীর কাছে সিলেটবাসীর ভাবমূর্তিও নষ্ট করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে মন-ব্য করা হয়।
ইমজা :
সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী সিলেটে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি ও অশ্রাব্য মন্তব্য করায় সিলেট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অশালীন বক্তব্যের জন্য তাকে মন্ত্রী পরিষদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
শনিবার রাতে ইমজা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের জর্বরী সভায় মন্ত্রীর সকল অনুষ্ঠান বয়কট করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি ইমজার পৰ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে এই বিকৃত মানসিকতার মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার দাবিতে কর্মসূচি প্রদানেরও আহবান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী বারবার সাংবাদিকদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়ে তিনি বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন যা আমাদের জাতির জন্য লজ্জাজনক।
সভায় বক্তব্য দেন এনটিভির সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মঈনুল হক বুলবুল, দেশ টেলিভিশনের বিভাগীয় প্রতিনিধি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, যমুনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান মাহবুবুর রহমান রিপন, এসএ টিভির ব্যুরো প্রধান আব্দুল আলীম শাহ, চ্যানেল এস এর স্টাফ রিপোর্টার সজল ছত্রী, চ্যানেল নাইন এর স্টাফ রিপোর্টার দেবাশীষ দাস দেবু, যমুনা টিভির রিপোর্টার প্রত্যুষ তালুকদার, এন টিভির ক্যামেরাপার্সন আনিস রহমান, রিপোর্টার মার্বফ আহমদ, বাংলা টিভির ক্যামেরাপার্সন এস আলম আলমগীর, এস এ টিভির ক্যামেরাপার্সন শ্যামানন্দ শ্যামল, যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন নিরানন্দ পাল ও ফয়সল আহমদ মুন্না, চ্যানেল এস এর ক্যামেরাপার্সন বেলাল আহমদ, চ্যানেল নাইন এর ক্যামেরাপার্সন শাকিল আহমদ সোহাগ।
ওজাস :
সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর অসামাজিক আচরণ এবং অশ্লীল বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট(ওজাস)। সংগঠনের সভাপতি মুহিত চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোহিত দিদার এক বিবৃতিতে বলেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী সাংবাদিকদের নিয়ে যে অশালীন এবং কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তা সভ্যসমাজে এক বিরল ঘটনা।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, এই অনভিপ্রেত এবং কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।অন্যতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীকে বয়কট করাসহ কঠোর আন্দোলনে যাবে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ।
ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন :
গতকাল সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর অশালীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতো একটি দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাজ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে জাতি। কিন্তু সুধীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে জন সম্মুখে একজন মন্ত্রী হয়ে তিনি সাংবাদিক সমাজকে উদ্দেশ্য করে যেভাবে অশৱীল ভাষা ব্যবহার করে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে আমরা বিস্মিত, হতবাক। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে এরকম আচরণ কোনভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি এধরণের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চার ৰেত্রে হুমকি স্বরূপ।
বিবৃতিতে তারা বলেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকাশ্যে ৰমা চাইতে হবে। তা না হলে আমরা পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
