সিলেটের খবর ডেস্ক:বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন হয়, তার বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। আর নির্যাতনের প্রকৃত তথ্য ও কারা দায়ী তা সংগ্রহ করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
৫ জানুযারি নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় সংখ্যালঘুরা হামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন রাত থেকে এ হামলা বেড়ে যায়। এখনো হামলা হচ্ছে। আর এ হামলার কারণে সারা দেশেই সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে আছে। হামলায় আহত-নিহত ছাড়াও সংখ্যালঘুদের শত শত বাড়িঘর, দোকানপাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ঘটেছে মন্দিরে আগুন এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও। সংখ্যালঘুদের বড় একটি অংশ বাড়িঘর, ব্যবসা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ ভয়ে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের বেশি ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা, যশোর, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, দিনাজপুর, মাগুরা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। এজন্য আইন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি বিবেচনা করে অনুমোদন দেয়ার পর তা গেজেট আকারে জারি করা হবে।
শুধু ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাই নয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সব ঘটনাই বিচারের আওতায় আনা হবে। রামু বৌদ্ধপল্লীতে হামলার ঘটনার বিচারও হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।
মানবাধিকার কমিশন এবং সরকারের প্রতিনিধিরা এরই মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব এলাকায় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সেসব এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছে। আর জেলা প্রশাসকরা এরই মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পাঠাতে শুরু করেছেমন্ত্রণালয়ে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনের পর জানান, সংখ্যালঘুদের রক্ষায় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। যাতে কোনো সংখ্যালঘু পরিবার হামলা বা নির্যাতনের শিকার না হয়, সেজন্য তাদের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা হতে হবে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ। নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে পুলিশ বা তদন্ত সংস্থাকে নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, অপরাধী কোনো দলের হতে পারে না। অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ন্যায় বিচারের জন্য প্রয়োজন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত তদন্ত। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী পুলিশই এসব ঘটনার তদন্ত করবে। তাই পুলিশকে আগে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। আর সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো ভয়ে অনেকেই সাক্ষী দিতে চাইবে না। সুষ্ঠু তদন্ত না হলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে না।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন
203
previous post
