নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ পাল্টা হুশিয়ারি দেন।
রিজভী বলেন, ‘আন্দোলন স্তব্ধ করতে এ ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। হুমকিদাতারা হয়তো ভুলে গেছেন, এর পরিণতি হয় দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়তো জনগণের সামনে বিচারের মুখোমুখি হওয়া।’
রবিবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছিলেন, ‘আমরা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছি। এবার আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করা হলে প্রত্যেকের হাত-পা কেটে দেয়া হবে।’
তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কঠোর হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেয়ার পরে তার সহচরদের হাত-পা কাটার বক্তব্য প্রমাণ করে (প্রধানমন্ত্রী) কঠোর হলে আন্দোলনকারীদের পরিণতি কী হবে। আমরা জানতে চাই, হাত-পা কেটে দেয়ার পরে আন্দোলন হলে তখন কি হবে?’
বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, হাত পা কাটার কথা বলা হচ্ছে। এরপর আন্দোলন হলে তখন কি হবে? তখন হয়তো প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হবে। কিন্তু তাতে লাভ হবে না।
রিজভী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি গত উপজেলা নির্বাচনগুলোতে যেসব প্রিজাইডিং অফিসাররা দায়িত্ব পালন করেছেন বাকি নির্বাচনগুলোতে সেসব কর্মকর্তাদের রাখা হবে না। আগের নির্বাচনগুলোতে সরকার নানা ষড়যন্ত্র করলেও ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি। তাই এখন তারা পুরো টিম পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগ বাকি নির্বাচনে সবগুলো উপজেলা গ্রাস করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদের দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, জঙ্গিবাদের টার্ম হলো আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের। সরকার একবার বলছে তারা জঙ্গি নির্মূল করেছে। এখন তাহলে কিভাবে জঙ্গির উত্থান হলো? আসল কথা হলো জঙ্গির উৎস, চর্চা ও উৎপাদন ক্ষেত্র হলো বর্তমান শাসক দল।
জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সার্বিকভাবে সুযোগ পেলে জঙ্গিদের সঙ্গে কাদের সম্পর্ক তার জবাব দিবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সোমবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত জোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা এখন ১৯ নয় ২০-দলীয় জোট। কারণ বিশ্ব থেকে তাদের আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠন সহযোগিতা করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, মো. শাহজাহান, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
