তাহমিনা ইয়াসমিন চৌধুরী:সাধারণ কথায়, আমাদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ভালো, মন্দ যে জ্ঞান অর্জন করি সেটা হলো শিক্ষা। এ বিষয়টাকে আরেকটু পরিষ্কার করে বুঝতে হলে আগে জানতে হবে জ্ঞান কী? বুদ্ধি এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে অর্জিত বিদ্যা হলো জ্ঞান। অভিজ্ঞতা হলো বাস্তব সত্যকে বাস্তব ঘটনার মাধ্যমে পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা। আর বুদ্ধি হলো অভিজ্ঞতা কিংবা কল্পিত বিদ্যার উপর ভিত্তি করে যে চিন্তা করা হয়, সে চিন্তার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া এবং ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা।অর্থাৎ চেতনাকে উপলব্ধি করে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা হলো বুদ্ধি। এ বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণ করে যদি শিক্ষা সম্পর্কে জানতে হয় তাহলে সবার আগে বুঝতে হবে, শিক্ষার উদ্দেশ্য কী? শিক্ষার উদ্দেশ্য কল্যাণ এবং অকল্যাণ দুটোই হতে পারে। তবে প্রতিটি মানুষের শিক্ষার প্রথম উদ্দেশ্য থাকে তার নিজের কল্যাণ।
একেক মানুষের কাছে শিক্ষার উদ্দেশ্য একেকরকম। একেক মানুষের কাছে কল্যাণের অর্থও একেকরকম। কেউ যদি সারা বিশ্বের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন, তাহলে তার শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে একরকম, আবার কেউ যদি শুধু নিজের কিংবা কোন একটা জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করেন তাহলে তার শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে আরেকরকম। সুতরাং আগে বুঝতে হবে, কে কীভাবে কল্যাণ এবং শিক্ষাকে দেখছেন?
শিক্ষা মানুষ বিভিন্ন জায়গা, বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন ঘটনা অর্থাৎ বিভিন্ন পরিবেশ থেকে অর্জন করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য তৈরী হয় পরিবার থেকে। আর এই উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে কল্যাণ এবং শিক্ষার চিন্তাও পরিচালিত হয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষে মানুষে বিভেদ বন্ধ করা, সকল মানুষের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা, কারও ব্যাক্তিস্বাধীনতায় আঘাত না করা, মানুষ জন্মগতভাবে যে ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় সে ক্ষমতাকে স্বীকার করা এবং শ্রদ্ধা করা, তাহলে বুঝতে হবে সেটা শিক্ষা। শিক্ষা হবে সার্বজনীন, শিক্ষা কোন নির্দিষ্ট জাতি কিংবা কারও ব্যক্তিগত কোন বিষয় নয়। কোন শিক্ষা যদি কোন নির্দিষ্ট জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায় কিংবা মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে তাহলে সেটা শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত নয়। শিক্ষার প্রথম কথা হলো মানুষে মানুষে বিভেদ বন্ধ করা।
