সিলেটের খবর ডেস্ক:জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে এ মোমেন বলেছেন, নম্বর ওয়ান পিস কিপিং কান্ট্রি হিসাবে জাতিসংঘ আমাদের ছাড়া চলতে পারে না।আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক থাকে না। পর্যবেক্ষক ডেকে আনা মানে অন্যদের মাতব্বরী করতে দেয়া। কিন্তু বাংলাদেশ ইস্যুতে জাতিসংঘের বরাত দিয়ে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে জাতিসংঘ রোল মডেল হিসাবেও দেখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি তারানকোর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর, জাতিসংঘ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য বানোয়াট, শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশী সৈন্য প্রেরণ, নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ভূমিকা নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ভূমিকা এসব বিষয়ে ড. মোমেন খোলামেলা কথাবার্তা বলেন।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সাম্প্রতিক সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারি অনুমোদন নিয়েই তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। প্রধান দুটি দলকে এক টেবিলে বসানোর এজেন্ডা নিয়েই তিনি এদেশে সফরে এসেছিলেন। সবার সাথে সাক্ষাত করতে পেরেছেন বলেতিনি(তারানকো) খুশি। তবে, সময়ের অভাবে সেটা সফল হয়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারানকো গত তিন মাসের বিশ্বের অন্তত একশ’টি দেশ সফর করেছেন। তিনি বলেন, মেম্বার স্টেট দায়িত্ব না দিলে নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের করার কিছুই নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে এ কূটনীতিক বলেন, অনেকেই বলেন, রাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচুউরিটি এখনো আসেনি। সবাই চায়, এক্ষেত্রে আমাদের যেন ম্যাচুউরিটি আসে। তিনি বলেন, ‘মডেল কান্ট্রি’ হিসাবে দেশে ভালো ইলেকশন না হলে আমরা বড় মুখ করে কথা বলতে পারি না।
যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব দু:খ প্রকাশ করেছেন এ প্রশ্নের জবাবে ড. মুমিন বলেন, ‘ দুদলের মধ্যে সংলাপ চলা অবস্থায় মহাসচিব কেবল ফাঁসি পেছাতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন।’ তিনি এ ব্যাপারে কোন দু:খ প্রকাশ করেননি। ড. মোমেন বলেন, জাতিসংঘ জাতিসংঘ মানবতা বিরোধী অপরাধে বিচারের পক্ষে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে-এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কোন শত্রু নেই, মিত্র আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘেরও সম্মান-কনফিডেন্স রয়েছে। সবগুলো ফোরামে বিশেষ করে সোস্যাল ইকনমিক সেক্টরে বাংলাদেশের অবস্থান সৃদৃঢ়। বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘের ৪২টি কমিটির চেয়ার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ড. মোমেন বলেন, জাতিসংঘসহ বিশ্বের কাছে একসময় বাংলাদেশের পরিচিতি ছিলো তলাবিহীন ঝুঁড়ি হিসেবে, কিন্তু এখন রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জাতিসংঘের সবাই এশিয়ার দিকে চেয়ে আছে। আগামীতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে এশিয়ার দেশগুলো।নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক থাকে না। পর্যবেক্ষক ডেকে আনা মানে অন্যদের মাতব্বরী করতে দেয়া। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের দিন ছুটিও ঘোষণা করা হয় না। নির্বাচনে জাতিসংঘ কোন পর্যবেক্ষক পাঠায় না,তবে ইউএনডিপি কেবলমাত্র টেকনিক্যাল সাহায্য করে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপির দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনে কারচুপির খুব একটা সুযোগ নেই।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে মন্তব্য করে ড. মোমেন বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ থেকে লোক নেবে না- এমন সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, এই সংবাদ প্রকাশের কিছুদিন আগে আমরা সাড়ে ১২শ’ শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছি। পরে প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আরো আড়াই শ’ সৈন্য চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাতে রাজি হয়েছেন।
তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে লোক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। আমরা ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত ইকুইপম্যান্টসহ সৈন্য দিতে পারি, যা অন্য কোন দেশ পারে না।
তাই জাতিসংঘও বাংলাদেশ থেকে লোক নিতে বেশি আগ্রহী। বর্তমানে শান্তি মিশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী রয়েছে। সুনামের সাথে তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গত ৭ বছরে ৮ হাজারেরও বেশি সৈন্য জাতিসংঘ মিশনে কাজ করেছে। মহিলা সদস্যরাও সুনামের সাথে কাজ করছে।
জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন ভুল তথ্য দিয়ে জাতিসংঘ মিশনে সৈন্য না নিতে আহ্বান করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশকে সমর্থন না দিতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ড. মোমেন।
ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা বেড়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন অভ্যন্তরিণ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে ও বিজয়ী হচ্ছে। ৫ বছর আগেও জাতিসংঘে বাংলাদেশ এমন সম্মানজনক আসনে ছিল না।বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ হয়েও ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপম্যান্ট গোল’ অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন- বাংলাদেশ মডেল অব ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট দেশে পরিণত হচ্ছে। সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশে সরকার ও এনজিও একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের ম্যাচুউরিটি আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন- এক্ষেত্রে আমাদের অর্জন খুব বেশি সুখকর নয়। বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি অফিস স্থাপনে কাজ চলছে বলেও জানান মোমেন।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন খুব বেশি সুখকর নয়: ড. একে এ মোমেন
152
