বৃষ্টিভেজা রাত

by News Room

শাহিদ হাতিমী :ছেলেটির নাম তোফায়েল। অনেক দিনের পরিচিত। শ্যামলা চেহারা। মায়াবী আকর্ষণ। দীপ্তিময় অবয়ব। দুষ্টুমির পাশাপাশি যথেষ্ট ভদ্রও। কথা-বার্তায় পান্ডিত্যের শেষ নেই। কথায়-কাজেও মিল আছে। শিক্ষার্জনের পাশাপাশি মুটোমুটি লেখালেখী এবং ছাত্র রাজনীতিও করে। একদা সন্ধ্যায় বললো কোথাও যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম কেন? জানালো অপারেশন আছে। অবাক হলাম উত্তর শুনে। মাত্র ক’ঘন্টা আগে হেসে-গল্পে গেলো। এরমধ্যে কী এমন হয়েছে যে, অপারেশন করতে হবে? আবারো প্রশ্ন করলাম। কীরে তোর মাথা ঠিক আছে? কি বলছিস, ভেবে চিন্তে বলছিস তো? দুস্ত এতো পেরেশান হচ্ছিস কেন? আমার কোনো অসুখ হয়নি। বলে কি? সে তো ডাক্তার, হাকিম, ইঞ্জিনিয়ার, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক অথবা গ্রাম্যমাতবরও নয়। অথচ স্বজ্ঞানে বলছে অপারেশন আছে। সন্ধ্যার পূর্ব থেকেই আজ বৃষ্টি হচ্ছে। মুষলদ্বারে বৃষ্টি। টপ টাপ, চপ চাপ বৃষ্টি। মাঝে-মাঝে ভয়ংকর বিঝলীও দেখা যাচ্ছে। ঘন্টাখানেক আগে মাগরিবের আযান হয়েছে। এশার আযানের সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। মুঠোফোনটি বেজে উঠলো। এসময়টাতে প্রায় দিনই তোফায়েল আসতো এবং দরোজায় এসে মোবাইলে রিং দিতো। ভাবলাম হয়তো সে এসেছে। না, ফোনটা আবারো ঢড়ং ঢড়ং বিড়িং বিড়িং ধ্বনিতে বেজে উঠলো। হাতে নিলাম, স্কিনের দিকে তাকালাম। না, তোফায়েল নয়, ফোন দিয়েছে হুসনা। এক বছর থেকে হুসনাকে জানি। কখনো দেখা হয়নি, তবে কন্ঠ পরিচয় ক’মাস থেকে। তোফায়েলের ক্লাসমেট ও বন্ধু হওয়ার সুবাদেই এই জানাজানি। ফোনের কথায় আসাযাক। ভাইয়া! তোফায়েলের মোবাইল বন্ধ কেন? জানিনা। সে এখন কোথায়? অপারেশনে। ভাইয়া, আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন? তোফায়েলের কী হয়েছে? অপারেশন কিসের? সে তো আমাদের বাড়ীতে আসার কথা ছিলো? এতসব জানিনারে বোন। আচ্ছা হুসনা! তোমার বাড়ী কোথায়? কেন? আ হা! বলোনা? ঐ তো সিলেটের কুলাউড়ায়। তাই না কি, তো…
ভাইয়া! আমি এখন রাখছি, তোফায়েল ফোন করেছে। ঠিক আছে বললাম এবং মনে মনে উচ্চারিলাম, শুভ হুসনা, শুভ তোফায়েল, শুভ বৃষ্টিভেজা রাত। রাত এখনো ১০টার কাছাকাছি। তোফায়েলের ফোন। বন্ধু! আমার জন্য দোয়ার দরখাস্ত। কেন? বললো আর মাত্র ঘন্টা দু’একের মধ্যে সেই গ্রামে পৌঁছে যাবে। দ্রুত জিজ্ঞেস করলাম কোন গ্রামে? বললো যেখানে অপারেশন হবে। এবার একটু ধমকের সহিত বললাম কী আবুল-তাবুল করছিস। তখন, বিনয়ের সাথে জানালো একটি মেয়েকে ভালোবাসে এবং তাকে কি একটা গিফ্ট প্রদানের জন্য যাচ্ছে। জানতে চাইলাম এটাই কি তোর অপারেশন? বললো হ্যাঁ। বাতিনীভাবে অনেক হাসলাম। জাহিরী বললাম গিফ্ট দেবে ভালো কথা, কিন্তু বৃষ্টির রাতে কেন? বা-রে দুস্ত! এই সরল বিষয়টা বুঝলেনা। ‘সেই সন্ধ্যায় থেকে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে অর্থাৎ গগণ থেকে ঝরেপড়া জল, মানেÑ বৃষ্টি কেটে-কেটে পায়ে হেটে-হেটে তার সাথে সাক্ষাত অথবা তাকে গিফ্ট দিতে যাচ্ছি, এর চাইতে বড় অপারেশন আর কি হতে পারে?
এতসব আগর-বাগর করতে করতে অনেক রাতে ঘুমিয়েছি। পরদিন অফিস না থাকায়, ইচ্ছে ছিলো সকালে অনেক্ষণ ঘুমাবো। কথায় আছে ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ অনেক সময় আবার হয়ও না। সকাল ন’টার দিকে দরোজায় নক করার শব্দে জেগে উঠি। দরজা খুলে দেখি তোফায়েল। সারাটা শরীরে জামা-কাপড়সহ ভিজে সেত সেতে অবস্থায়। কিরে তোর এমন অবস্থা কেন? আর বলিস না দুস্ত। বন্ধু, গিফ্ট, ভালোবাসা, সাক্ষাত অথবা প্রয়োজন-যাই বলিনা কেন, তা সবকিছুই বৃষ্টিভেজা রাতের আলামত। সে যাহোক, উদ্দেশ্য সফল হয়েছে কি না বল? তোফায়েল খুব জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো সে কথা আর জানতে চাইস না বন্ধু। মলিন চেহারায় বললাম আমাকে যদি নাই বলতে তবে, এই সকালে ঘুম ভাঙ্গালে কেন? রাগ করিস না ভাই, সবই বলছি একটু ফ্রেশ হতে দে-না। তোফায়েলের স্বীয় কন্ঠে শুনাযাক পরবর্তী কাহিনী।
মেয়েটির সাথে বিশেষ সম্পর্কিত হওয়ার পূর্বে একাধিক নামে তাকে ডাকতাম। মোবাইল ও বিভিন্ন নামে তার নাম্বার সেইভ করতাম। যেমন- বৃষ্টি, সাথী, হাসি, দুঃখীনি, কালোনি, পল্লিবালা, মরুভূমি, নাগিনী, সোহাগিনী, মায়াবিনী ইত্যাদি। পরে তার আসল নাম জানতে পারি। মেয়েটির মৌলিক নাম ‘শরীফা’। আর বান্ধবী মহলে হুসনা। আমরা যদি শব্দদ্বয়কে এককরি তো দেখতে পাবো “শরীফা হুসনা” এর সহজ বাংলা অর্থ ‘ভদ্র সুন্দরী’। তো বেশ ক’দিন থেকে হুসনা বৃষ্টিদিনে তাদের বাড়ী যাবার নিমন্ত্রণ করে। কিন্তু সময় হয় না। গতকাল গবেষক এমএন সিদ্দিক কথারছলে বললেন “রাতে বৃষ্টিতে ভেজার মাঝে অন্যরকম এক স্বাদ অনুভূত হয়”। এদিকে একটি ডায়রী ক’দিন থেকে তাকে দেবো বলে মনস্থির করেছি। আজও বৃষ্টি হচ্ছে দেখে সে আমন্ত্রণ করেছে। ব্যাস, বৃষ্টি হচ্ছে। তো উপভোগ করে নেই স্বাদটাকে। অন্য সময়ে সুযোগ নাও আসতে পারে। যাতায়াত চিন্তা করলাম। প্রথমে রাজপথের বাসযাত্রা, পরে ফাঁড়ি পথের মাঝারি বাহন, এরপর গ্রামের গন্তব্য ঘরের মেঠোপথ। বাস যাত্রার পরিক্রমা শেষ করলাম। মুটোমুটি আগ-পিছ একঘন্টা বৃষ্টিতে ভেজলাম। মাঝারী বাহনের কাজ শেষ করলাম। হুসনাদের জন্য কিছু ফ্রুইট ও কেক বিস্কুট কিনলাম। সাথে সূধীজনের মোবাইল ফোনটিতে রিং বাঁজতে বৃষ্টির ছন্দে তাল মেশানো রিংটোনটি সাময়িক মনের মাঝে শৈলি অনুভব হলো। বার ক’য়েক রিং হওয়ার পরও বৃষ্টিছোবলের কারণে ফোন ধরা হলো না। আকস্মিক অদূরে জ্বলে উঠলো একটি টর্চ লাইটের আলো। কোন পথচারীর হাতে আলোটির কাড়াল। সেই আলোতে দেখতে পেলাম স্কয়ারদিক টিনে চওড়া একটি ঘর। ভাবলাম চওড়া ঘরের বারান্দায় অল্পক্ষণ দাড়ানো যায়।
রাত ২টা বাজতে মাত্র ক’মিনিট আছে। গন্তব্যের মৌলিক মেঠোপথে না যেয়ে স্বল্প সময়ে পৌঁছার লক্ষে মাঠের পথে রওয়ানা হলাম। ইতিমধ্যে হুসনা জানিয়েছে কিভাবে- কোনদিকে- কোনঘরে পৌছতে হবে। বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দের কলরবে তার সবকথা বুঝতে না পারলেও সে যে এখনো জাগ্রত আছে- অপেক্ষা করছে এটা পরিস্কার। হুসনাদের বাড়ির আঙ্গীনায় প্রবেশ করলাম। বৃষ্টিভেজা রাতের সকল বাঁধাডিঙ্গিয়ে বাড়ির চতুরপার্শ দেখে নিলাম। বাড়ির উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণের অর্ধাংশ পর্যন্ত ধানচাষের আবাধ জমি দেখতে পেলাম। ধারণামতে বাড়িটির ঠিক মাঝখানে পৌছে দাড়ালাম। এদিক- ওদিক থাকালাম। মাঝখানে হাতপাচেঁক ফাঁকা রেখে উত্তর-দক্ষিণমুখি চওড়া করে দু’টি ঘর দন্ডয়মান, যে কারণে পশ্চিমদিকে কী আছে দেখতে পেলাম না। যে স্থানে দাড়িয়ে ছিলাম সেখানটার বামদিকে অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিমমুখী পুরাতন একটি ঘরও দৃষ্টিগোচর হলো। ঘরটির পাশে নাগামরিচ ও পেপে গাছের ক’টি চারাও নয়নে ভাসলো। বাড়ির পূর্বদিকে দেখা গেলো একটি পুকুর। তবে সারাটা বাড়িতেই বেশ ক’টি সুপারির চারা নজরে পড়লো। এসব দৃষ্টি বিনোদনের অবচেতন সুযোগে “মশা” বন্ধুদের ঈদ হচ্ছিলো। তারা মিছিল করে আমার পায়ে ইনজেকশন মারছিলো। তাদের (মশা) উপর হাত বুলিয়ে দেয়ার জন্য দু’ হাতের কুটুমানাগুলো বাম হাতে নিয়ে ডান হাতে উভয় পা ঘষা-মাঝা করে ফিরিয়ে নিলাম। ফিরিয়ে এনে যখন হাতখানাতে নজর বুলালাম, দেখি সারাটা হাতের পেট রক্তে রঙিন। তখন অনিচ্ছাতেই বললাম একেই বলে বৃষ্টিভেজা রাতের ভিন্ন রকম মজা।
এখানেই শেষ নয়। আরো মজা- আরো স্বাদ রয়েছে। পাঠকের সুবিধার্থে তোফায়েলের কথাগুলো এখানে আমার মতো করে লিখছি। তোফায়েল রক্তমাখা হাতটা পরিস্কারের জন্য বৃষ্টির পানিতে বাড়িয়ে ছিলো, ঠিক তখনই দেখলো উত্তর ঘরের বারান্দায় কে যেনো বসে আছে। একটু তাড়াতাড়িই হাতটা পরিস্কার করে সামনেরদিকে-মানে উত্তর ঘরেরদিকে অগ্রসর হলো। তার ধারণা ছিলো এসময়ে এখানে হুসনা ছাড়া অন্য কেউ আসার-বসার বা থাকাটা অসম্ভব। সে এক’পা দু’পা করে এগুচ্ছে আর ভাবছে, আজকের এই দিনে-বৃষ্টিভেজা রাতে-গভীর রাতে পৃথিবীর ঘুমন্ত প্রাতে, তার প্রেয়সী, স্রেয়সী, সুহাগিনী মায়াবিনী, স্বপ্নবুনা-কল্পনা, স্মৃতি-প্রীতি, ভালোলাগা-ভালোবাসা, প্রেম-প্রেমিকা তাকে দেখে- তাকে পেয়ে- অতি কাছে পেয়ে কী করবে? কীভাবে তাকে গ্রহণকরবে-বরণকরবে? এমন স্মরণীয় সুযোগ প্রেমিক মজনুর জীবনীতে আসে নি। শিরী-ফরহাদ প্রেম কাহিনীতেও মিলেনি। যা আমার ললাটে এক্ষুনি হাযির। মাত্র বারান্দায় পা রাখতে যাচ্ছে তোফায়েল। অপার থেকে কর্কসকন্ঠে শব্দ এলো-কে? সাথে জ্বলে উঠলো মিনি টর্চের আলো। তোফায়েল তো অবাক-হতবাক-নির্বাক। আওয়াজশুনে মাথায় যেনো এভারেষ্টের চুঁড়া ভেঙ্গে পড়েছে। আলো দেখে মনে হলো দ্রুতবেগে আসা মেঘমালার সংঘর্ষে বিঝলি তরাঙ্গায়িত হয়েছে। তোফায়েলের সংকটময় সময়ের ভাবনা দীর্ঘ হলো না। সেই কন্ঠটি এবার আরো উচ্চআওয়াজে জানতে চাচ্ছে এখানে কে? মহিলা কন্ঠ। অবশ্য মেয়েটি কিছুটা ভয়ে সম্ভবত অল্পটা পিছু হটেছে। তখন তোফায়েলের স্মরণ হয়ে গেলো বছর খানেক আগে পাঠ করা কবি হেলাল হাফিজের ‘ডাকাত’ কবিতার প্রথম ছত্রগুলো।
তুমি কে হে?
সোনালী ছনের বাড়ি তছনছ করে রাতে
নির্বিচারে ঢুকে গেলে অন্দর-মহলে
বেগানা পুরুষ, লাজ-শরমের মাথা খেয়ে
তুমি কে হে?
দ্বিতীয় বারের আওয়াজে তোফায়েল জবাব না দেয়াতে মেয়েটি এবার চিৎকার শুরু করে দিলো। এই! কে কোথায় আছো? তাড়াতাড়ি এসো? বাড়িতে ডাকাত ঢুকেছে। এই অমুক-তমুক জলদি এসো? ডাকাত! ডাকাত!!
তোফায়েলের তখন যে অবস্থা। হাতের প্যাকেটগুলো কোথায় যে ছুঁড়ে ফেলেছে অজানা। কোনদিকে যে পালাবেÑ কীভাবে যে নিজেকে আড়াল করবেÑ এসব কিছুই না ভেবে শুধু লংজাম-ই খেলছে। অর্থাৎ এমনভাবে সে দৌড়াচ্ছে সম্ভব হলে বিমানের ন্যায় উড়ালদিয়েও দৌড়াতো-পালিয়ে যেত। মুষলদ্বারে বৃষ্টির পানিতে ভেজা সত্যেও এতদ্রুত-এতজোরে দৌড়িয়েছে যে, কন্ঠনালী শুকিয়ে জিহবাও মরুভূমি হয়ে যাবার উপক্রম। এর মাঝে হোচট খেয়েছে বার কয়েক। একপর্যায়ে খুজে পেলো গ্রামের মেটোপথের মোড়ে সেই টিনসেট ঘরের সন্ধ্যান। ঘরটির বারান্দায় পৌছে ধপাস করে সারাটা শরীর মাটির তরে এলিয়ে দিলো। অবশ্য বৃষ্টি অনেকটা থেমে গেছে। শরীর এলিয়ে দিতে হাতে একটি বোতলের মত জিনিষ লাগালো। বোতলই। বোতলটি হাতে নিয়ে শুয়া থেকে উঠে বসলো তোফায়েল। এই বোতল এখানে কেন? প্রশ্নের উত্তর সে নিজেই বের করলো যে, সম্ভবত যাবার সময় এখানে ক্ষনিক রেস্টের সময়ে জাম্বিল ছিড়ে পড়ে গিয়েছিলো। অন্যথায় এটা এখানে আসবে কেন? জুসের বোতলটিকে এই মুহুর্তে তোফায়েল আল্লাহর রহমতের ঝমঝম পানি ভাবলো। এমুহুর্তে এ জুস এখানে না হলে হয়তো সে জ্ঞানহারাতে হতো। জুস পানকরার এক পর্যায়ে তোফায়েলের মনে হলো জুসের বোতলটি তাকে যেনো কিছু একটা বলতে চায়? সে ভাবুক হয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বোতলেরদিকে থাকালো। কল্পনার ক্যাম্পাসে তোফায়েলের তখন মনে হল বোতলটি মনে হয় কথা বলতে জানে। কল্পনারত অবস্থায়ই তোফায়েল বোতলের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করে হে বোতল! তুমি কি কিছু বলতে চাও? ঠিক তখনই কেউ যেনো তাকে বলে উঠলো ছি; তোফায়েল, ছি! তুমি এত নীচ হলে কেমনে? তোমার পারিবারিক মর্যাদাটা এভাবে ক্ষ্ন্নু করলে? কত বড়-বড় লোকেরা তোমাকে ভালোবাসে। সহপাঠি ও বন্ধু-বান্ধবদের কত শত-শত ভালো-ভালো উপদেশ দিয়ে থাকো। সুখী-শান্ত-সমাজবিনির্মানের স্বপ্নও দেখো। এই অল্পবয়সে গ্রামের-সমাজের-শহরের অনেকেই তোমাকে নিয়ে গর্ব করে। অথচ, আজ সমাজের অচেনা সামান্য এক মহিলা তোমাকে ডাকাত-ডাকাত বলে সম্বোধন করছে। আর তুমি কা-পুরুষের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছো? ছি; তোফায়েল ছি! বোতলের দিকে থাকিয়েশুনা কারো কন্ঠের কথাগুলো তোফায়েল খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো।
সবশুনে তোফায়েল নিতান্তই অনুতপ্ত হল। আবারো বৃষ্টির মিছিল শুরু হয়ে গেলো। তোফায়েল তখন আফসুস করে বৃষ্টির উদ্দেশ্যে বললো হে বৃষ্টিভেজা রাত! একজন ভালো মানুষকে ডাকাত বানালে, এই বুঝি তোমার নিয়তি। আজকাল সমাজে এমন ঘটনা-দূর্ঘটনা ঘটছে। আসুন এমন গর্হীত কাহিনী থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েকে রক্ষা করি। আমাদের ভাই-বোনদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখি। স্মরণ করিয়ে দেই পবিত্র আল-কুরআনের সেই বাণী- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেরা বাচোঁ, পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদেরকেও বাচাঁও-দোজখের আগুন থেকে”। সৃষ্টিকর্তা তার শ্রেষ্টজীব মানুষদের সঠিক বুঝ দান করুণ।

লেখক: কলামিস্ট, সম্পাদক, পুষ্পকলি সাহিত্য সংঘ, শিক্ষক- দারুল আজহার মডেল মাদরাসা, সিলেট।

You may also like

Leave a Comment