বিশ্লেষণ:তুরস্ক-ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ছে

by News Room

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গত সপ্তাহের নির্ধারিত তুরস্ক সফর বাতিল করা নিয়ে আঙ্কারা ও তেহরানের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।

 

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিয়ে দেশ দুটির অবস্থান বিপরীতমুখী এবং শিয়া ও সুন্নীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে।

 

ইরান ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ক্রমবর্ধমান লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে দুটি দেশের সরকার সমর্থক গণমাধ্যমগুলো।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং তার কন্যা সুমিইকে নিয়ে ইরানি সরকারি গণমাধ্যমের খবরে মেজাজ বিগড়ে যায় তুরস্কের। এর জের ধরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফের পূর্বনির্ধারিত তুরস্ক সফর বাতিল করা হয়।

 

‘এটি গুরুতর। আমার মনে হয় ইরানি গণমাধ্যমে, বিশেষ করে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে এরদোগান এবং তার পরিবার নিয়ে প্রতিবেদনে (তুর্কি) প্রেসিডেন্টের দপ্তর হতাশ হয়েছে,’ বলছিলেন ইস্তাম্বুলের কাদির হাস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিশেষজ্ঞ সোলি ওজেল।

‘ইরাকি কুর্দিস্তান এবং সিরিয়া নিয়ে তাদের বিরোধ নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন বিষয়টি জনসমক্ষে এলো।’

 

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা এবং ইরাকের কুর্দিস্তান নিয়ে ক্রমবর্ধমান বৈরিতার পাশাপাশি প্রধান কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকের বিরুদ্ধে আঙ্কারার যুদ্ধ ঘোষণায় সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মুরাত বিলহান।

 

‘ইরান তুরস্ককে হুমকি দিতে মাঝে মাঝেই পিকেকে গোষ্ঠীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু এখন সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে পিকেকে-কে কাজে লাগাতে চায় ইরান। তারা আইএসের বিরুদ্ধে সফলভাবে লড়ছে। এ কারণে ইরান চায় না যে পিকেকে গোষ্ঠীর ওপর তুরস্ক কঠিনভাবে আঘাত করুক,’ বলছিলেন বিলহান।

আঙ্কারা এর আগে অভিযোগ করেছে যে ইরানি সীমান্ত থেকে পিকেকের হামলা বন্ধে তেহরান ব্যর্থ হচ্ছে। বিশ্লেষক ওজেল বলছেন, সেই হুমকি এখনো রয়েছে।

 

পিকেকে গোষ্ঠীকে তেহরানের সমর্থনের কারণে আঙ্কারা এই গোষ্ঠীর সাথে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর আহ্বানকে বাতিল করে দিচ্ছে।

 

ভয়েস অব আমেরিকার বিশ্লেষণ

You may also like

Leave a Comment