ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে যে দলটি (আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, ৬৫ বছর পর সেই দলটির বর্তমান সভানেত্রীর নাম পৃথিবীর সব ঘৃণ্যতম স্বৈরশাসকের নামের সঙ্গে লেগে থাকবে।”
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “৬৫ বছর আগে যেই দলটি (আওয়ামী লীগ) গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যাত্রা শুরু করেছিল, সেই দলটি এখন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।”
সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে জি-৯ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অতীতে হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। আর প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনো বিষয় না। এটা দুর্ভাগ্যজনক।”
ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগ এমন দল যারা বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে নিজেরা নিজেদের শেষ করেছে। আর তারা যাকে সামরিক স্বৈরশাসক বলে দাবি করেন সেই জিয়াউর রহমানই আওয়ামী লীগের পূর্ণজন্ম দিয়েছেন।”
সেমিনারে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাকর্মীরা আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। প্রতিপক্ষ হলো রাষ্ট্রযন্ত্র। কারণ শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমনভাবে ব্যবহার করছে তা আমাদের কৌশলে মোকাবেলা করতে হবে।”
আর প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমান জঙ্গিদের হাতে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া বিচারকের রউফ আবদুল রহমানের নিহত হওয়ার ঘটনা থেকে বাংলাদেশের বিচারকদের শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এ কথা বলার জন্য আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনবেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আগে অভিযোগ আনতে হবে।কারণ তিনি বলেছেন আই ডোন্ট কেয়ার।”
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল।
অনুষ্ঠানে গত পাঁচ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নিপীড়নের ওপর ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
