ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিদর্শনে আসছেন র‌্যাপ

by News Room

মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আবার ঢাকা আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জে র‌্যাপ। সোমবার তিন দিনের সফরে আসছেন তিনি। পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্টিফেন জে র‌্যাপ এর আগেও তিন দফা ঢাকা সফর করেছেন। তবে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর এটি তার প্রথম সফর। বরাবরের মতো এবারের সফরেও তার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ সরেজমিন পরিদর্শন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে এ সংক্রান্ত একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে ওই পরিদর্শন ও সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্র শনিবার নিশ্চিত করেছে মার্কিন ওই দূতের আগ্রহ মতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় নামার পরপরই তিনি ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্য পরিদর্শনে যেতে পারবেন। সেখানে প্রসিকিউশন টিম, তদন্ত কর্মকর্তা ও ট্রাইব্যুনাল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

সফরের দ্বিতীয় দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের সঙ্গে বৈঠকের সময়ক্ষণ ঠিক হয়েছে। সফরের তৃতীয় দিনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে বলে সূত্র আভাস দিয়েছে।

গত বছর মে মাসের মাঝামাঝিতে সর্বশেষ ঢাকা সফর করেন যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক মার্কিন ওই দূত। সেই সময় তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসি পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। সেই ফাঁসির আদেশ এখনও ঝুলে আছে। মাঝপথে এক নেতার ফাঁসি হয়ে গেছে। অবশ্য গত বছর যখন র‌্যাপ ঢাকা সফর করেন তখন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি চলছিল। র‌্যাপ তা প্রত্যক্ষ করতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যান। প্রায় ২৫ মিনিট তিনি আপিল বিভাগের এজলাসকক্ষে অবস্থান করেন।

নির্বাচনের আগে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের সঙ্গে অভিযুক্ত জামায়াতের একটি সমঝোতার গুঞ্জন রয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই তা স্বীকার করে না। এমন পরিস্থিতিতে ফের ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন ওই দূত। অবশ্য বরাবরই ওই কার্যক্রম নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ ছিল তার। গত বছর ঢাকা ছাড়ার আগে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হওয়ার সময় থেকে এ পর্যন্ত তিনবার ঢাকায় এসেছি। বিচার নিয়ে কথা বলেছি। এবারও বলবো সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। যেহেতু রায়ের বিরুদ্ধে আসামি পক্ষের আপিল করার সুযোগ রয়েছে তাই নাশকতা না করে আইন অনুযায়ী তাদের সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানাই।

বিচার নিয়ে র‌্যাপের বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল সরকারের কাছে। ২০১১ সালে আইনের বিষয়ে কিছু সংশোধনীর কথা বলেছিলেন তিনি। যার কিছুটা কার্যকর হয়েছে। বাকিটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এবারের সফরেও বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন ঢাকার কূটনীতিকরা।

You may also like

Leave a Comment