সিলেটের খবর ডেস্ক:প্রচার চলতে থাকা ধারাবাহিক নাটক জয়িতাতে আর নেই ঈতিশা। বৈশাখী টিভির নিজস্ব প্রযোজনায় নির্মিত নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছিলেন এই লাক্স-চ্যানেল আই তারকা। শিল্পী-নির্মাতার বিরোধের জের ধরেই ধারাবাহিকটিতে তাকে আর দেখা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে নির্মাতা লুৎফুন নাহার মৌসুমী ও ফাতেমা-তুজ জোহরা ঈতিশা রাইজিংবিডির কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
নাটকটি সম্পর্কে ঈতিশার অভিযোগ, ‘আমি নাটকটির সেকেন্ড লট পর্যন্ত কাজ করলেও নির্মাতা আমাকে কোনো পারিশ্রমিক দেননি। তিনি আমাকে একবার চেকে সম্মানী দিলেও তা ব্যাংক থেকে বাউন্স করেছে।’
ঈতিশা আরো জানান, ‘আমি সর্বশেষ ২৮ নভেম্বর ঢাকার বাইরে জয়িতায় কাজ করেছি। আমার শরীর খারাপ করায় ওই দিন রাতেই আমি ঢাকায় ফিরে আসি। এর আগে ২৭ নভেম্বর পরিচালকের কথামতো রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করেছি। এরপর অবশ্য আমার আর ডেট দেননি তিনি। আমার পারিশ্রমিক না পেয়ে কাজে অপারগতা প্রকাশ করায় তিনি আমার সঙ্গে খুবই বাজে ব্যবহার করেছেন। একজন আর্টিস্ট হিসেবে যেটা আমি কোনোভাবে ধারণাও করতে পারিনি। উনি আমার বাবাকেও গালিগালাজ করে মোবাইল ফোনে এসএসএস পাঠিয়েছেন। সেটি এখনো আমার ফোনে আছে।’
ঈতিশার অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মাতা লুৎফুন নাহার মৌসুমীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ধারাবাহিকটির শুরু থেকে ৪২-৪৫ পর্ব পর্যন্ত ঈতিশাকে নাম ভূমিকায় দেখা যাবে। এরপর থেকে অন্য একজন শিল্পীকে দেখা যাবে।’
তার কথার সূত্র ধরে ঈতিশাকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, ‘প্রথমত, মেয়েটার আচরণ খুবই বাজে। তার কিছু ব্যবহারে আমার সেটের অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তার সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল, যত দিন ধারাবাহিকটির শুটিং শেষ না হয় তত দিন অন্য কোনো ধারাবাহিক অথবা সিনেমায় অভিনয় করতে পারবে না সে। কিন্তু ঈতিশা সেই শর্ত ভেঙে গত ডিসেম্বরে কক্সবাজারে একটি সিনেমায় শুটিং করেছে। সব মিলিয়ে আমি অন্য একজনকে নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হয়েছি।’
তিনি জানিয়েছেন, ১৬ জানুয়ারি ধারাবাহিকটির ২৯তম প্রচার হওয়ার কথা। বর্তমানে নাটকটির তৃতীয় লটের শুটিং শেষ হয়েছে। মোট ৭৮ পর্ব পর্যন্ত শুটিং হয়েছে । এই লটে অন্য একজন অভিনেত্রীকে নিয়ে কাজ করেছি। তবে এখনই তার বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
ঈতিশার পারিশ্রমিকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মৌসুমী বলেন, ‘আমি নাটকটির একটি বিশেষ প্রোমো শুট করেছিলাম। সেজন্য আমি ঈতিশা এবং তার কো-আর্টিস্ট রওনক ও সাঈদ বাবুকেও কোনো সম্মানী দিইনি। তা ছাড়া মগবাজরস্থ আমার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ডেস্কের অফিস থেকে সম্মানী নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হলেও ঈতিশা ও তার বাবা কেউ আমাদের কাছ থেকে চেক কালেক্ট করেনি।’
এ বিষয়গুলো জানিয়ে ঈতিশার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এর আগেও জয়িতার মূল আর্টিস্ট চেঞ্জ হয়েছে শুধু আর্থিক ঝামেলার কারণে। এবার যেন এর সুরাহা হয়, সেজন্যই আমি বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই।’ তার দাবি, অভিনয়শিল্পীরা যেন তাদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্যই তিনি বিষয়টি নিয়ে এত সোচ্চার।
