কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:প্রেমিকের প্রেমের ফাঁদ বুঝতে পারেনি স্কুলছাত্রী(১৪)। অকৃত্রিম বিশ্বাস নিয়ে সে দাঁড়িয়েছিল প্রেমিক সুস্মিত সুলতান (২০) এর পাশে। ভালবেসে দেহ-মন সব উজাড় করে দিয়েছিল। ছোট্ট একটি গৃহকোণের স্বপ্ন দেখতেও শুরু করেছিল।
কিন্তু প্রেমিকের প্রতারণায় তাসের ঘরের মতোই ভেঙে গেল তার সে স্বপ্ন-সাধ। ভালবাসার এমন অমর্যাদাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারে নি সে। বিশ্বাসভঙ্গের বেদনা নিয়ে পৃথিবীকেই চিরবিদায় জানালো আবেগী মেয়েটি। সম্পর্কের অবনতির জের ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-এ প্রেমিক সুস্মিত সুলতান ভুয়া আইডি খুলে দু’জনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি পোস্ট করায় সোমবার সন্ধ্যায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজের রুমের সিলিং-এ ঝুলে আত্মহত্যা করে ছাত্রীটি।স্কুলছাত্রীটি ভৈরব পৌরশহরের চরচণ্ডিবের উত্তরপাড়ার কাতারপ্রবাসীর কন্যা এবং স্থানীয় মুর্শিদ মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক সুস্মিত সুলতানকে রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে একই এলাকার হাজী বাচ্চু মিয়ার ছেলে। সে গত বছর ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃত সুস্মিত সুলতান মঙ্গলবার বিকালে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান জিলানী’র নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২ বছর ধরে সুস্মিত সুলতানের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। অন্তরঙ্গতার সুবাদে দু’জন বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন ধরে সুস্মিত সুলতানকে বিয়ের জন্য চাপাচাপি করলে এ দু’জনের সম্পর্কে কিছুটা অবনতি ঘটে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সুস্মিত সুলতান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করায় তাকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান জিলানী আসামি সুস্মিত সুলতানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন বলে ভৈরব থানার ওসি মু. সরাফত উল্লাহ জানিয়েছেন।
