নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্রলীগের একের পর এক হুমকী ধমকী ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় জীবন নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যেই দিনাতিপাত করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মাহবুব আলম। প্রতিভাধর ও সম্ভাবনাময় এক ছাত্র নেতা মাহবুব আজ নিজের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০) মাহবুব তার ফেসবুকে ‘ধর্ষক সাইফুর, রনিদের কারণে আর ক্যাম্পাসে যাই না ‘ শিরোনামে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন। এতে তিনি ছাত্রলীগের কিছু কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। এরপর থেকে নতুন করে আবারো একের পর এক হুমকী ধমকী আসতে থাকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। শুধু তাই নয় তাকে প্রাণে মারার হুমকী দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা।ফলে মাহবুব চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তিনি ছাত্র মজলিস এম সি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি। তার ফেসবুক পোস্ট পাঠকের কাছে নিম্নে তুলে ধরা হল-
ধর্ষক সাইফুর, রনিদের কারনে আর ক্যাম্পাসে যাইনা।
———————————————————————–
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সময় টিভি এমসি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিল।
উপস্থিত ছাত্রভাইদের অনুরোধে আমিও এই সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলাম।
সেই সময় বিভিন্ন দাবির সাথে আমার একটি দাবি ছিলো যে, শিক্ষাঙ্গনকে সর্বদা সন্ত্রাসমুক্ত রাখার ব্যপারে সরকার সচেষ্ট হওয়া।
ব্রিফিং শেষে আমি যখন ক্যাম্পাস থেকে বের হবো, তখনই আমাদের দিকে হায়েনার মতো এগিয়ে আসে কয়েকটি যুবক। আমাকে এসে একজন বললো, আমাকে চিনিস? আমি বললাম না ভাই,আমি তো আপনাকে সঠিক চিনলামনা।
তখনই তাদের একজন আমাকে লক্ষ করে বললো,উনি হলেন ছাত্রলীগের লিডার, আর তাকে চিনসনা? তখনই আমার এবং আমার সাথে থাকা সহপাঠীদের উপর ওরা চড়াও হয়, সেদিন ওরা যে আচরণ করেছিলো,তা পশুকেও হার মানায়। মনে হয়েছিলো আমরা যেনো কোনো এক জঙ্গলে হিংস্র পশুদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
যাই হোক! ওরা কেন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলো জানেন?
আমি কেন সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস দাবি করলাম।
আমাকে বললো যে, শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাসমুক্ত মানে কী? এমসি কলেজ সহ দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী কখনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়েছে?
তুই শিবির করছ। তোর এই কথার মর্ম হলো,শিক্ষাঙ্গন ছাত্রলীগমুক্ত করা। নইলে তুই কেন বলতে যে, শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে?
তখন আমি বলেছিলাম,এই সন্ত্রাসীর তকমা নিজেরাই নিজেদের উপর টানছেন কেন?
আমি তো ছাত্রলীগকে ইঙ্গিত করেও তো কিছুই বলিনি।
কিন্তু কে শুনে কার কথা।
তখন তারা আমাদের বলেছিলো, এমসি কলেজের ভিতরে কোনো এক জায়গায় যাওয়ার জন্য। সম্ভবত ওদিকে কোনো টর্চার সেল বা কিছু ছিলো। শেষ পর্যন্ত অনেক মানসিক নির্যাতন শেষে সেখানে থাকা উপস্থিত কিছু বড়ভাইদের সহযোগীতায় তাদের নির্যাতন থেকে রেহাই পেয়েছিলাম শর্তসাপেক্ষে। যেমন, কলেজের গণিত বিভাগের সামনে দিয়ে যেতে হলে ছাত্রলীগের বড় ভাইদের সালাম দিতে হবে। এই জায়গায় তাদের সকল আন্দোলনে শরিক হতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর থেকে আর এমসিতে যাইনা।
# একজন যে বলেছিলো আমাকে চিনেন? সেই লোকটি ছিলো @সাইফুর। আর যে তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল সে হলো @রনি।
আজ তারা এমসি ছাত্রাবাসে স্বামির কাছ থেকে স্ত্রীকে কেড়ে নিয়ে ধর্ষণ করার মুল হোতা। সারাদেশের ছাত্রজনতা ও জনগণ তাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে।
আমি সেদিন নিরবে সহ্য করেছিলাম। আর আল্লাহর কাছে বিষয়টির বিচারের ফরিয়াদ জানিয়েছিলাম।
আল্লাহ তাদের এসমস্ত সীমালঙ্ঘনে শেষ পর্যন্ত পাকড়াও করলেন।
শুধু আমি বা আমরা নয়, দেশের অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা এই সমস্ত কুলাঙ্গারদের হাতে শারীরিক মানসিকভাবে নির্যাতিত, অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাস ছাড়া।
ছাত্র রাজনীতির নামে ওদের সন্ত্রাসী,বেহায়াপনা ও নির্লজ্জ কর্মকাণ্ড বন্ধ হোক। ছাত্রলীগ ফিরে যাক তার গঠণতন্ত্রে। চলুক তার সেই অতীত সোনালী আদর্শ ও নীতি নিয়ে। আমরা তাই চাই।
