ছাতক প্রতিনিধি: স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি জামাত-বিএনপি ও তাদের দোসরদের রাষ্ট্র বিরোধি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত্রের প্রতিবাদে ছাতকে আওয়ামীলীগ আয়োজিত প্রতিবাদ গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী বলেছেন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ছাতক পৌরসভার উন্নয়ন ও পৌরবাসীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে পৌরসভার অভুতপূর্ণ উন্নয়নের বিরুদ্ধে সম্পূর্ন মিথ্যাচার ভরা ও বিষেধাগারপূর্ন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। মেয়র বলেন, ছাতক পৌরসভার বেশ ক’টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে অত্যাধুনিক স্যানিটারী ল্যান্ডফিল্ড অন্যতম। এটি একটি বর্জ ব্যবস্থাপনা ফ্যাক্টরীও বলা যায়। পৌরসভার ক্রয়কৃত প্রায় ৬ একর ভুমির উপর ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ প্রায় সমাপ্তের পথে। সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে দু’একটির মধ্যে ছাতকে একটি অত্যাধুনিক স্যানিটারী ল্যান্ডফিল্ড নির্মিত হচ্ছে। যা নিয়ে ছাতক পৌরবাসী গর্ববোধ করছে। এ স্যানিটারী ল্যান্ডফিল্ডকে ডাসবিন বলে স্থানীয় সরকারের এ প্রকল্পকে তুচ্ছ-তাচ্ছুল্য করেছেন তিনি। এ অত্যাধুনিক স্যানিটারী ল্যান্ডফিল্ড প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কতৃর্ক শুভ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। মেয়র হুশিয়ারী উচ্চারন কলে বলেন, এমপি মানিক এ প্রকল্পটিকে ডাসবিন বলে মন্তব্য করে দুঃসাহশিকতা দেখিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, পৌরসভা কর্তৃক ট্রাক থেকে টোল আদায় নিয়েও মিথ্যা ও মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন এমপি মানিক। পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাসমূহ সংষ্কার ও পৌরসভার রাজস্ব আয় বৃদ্ধির স্বার্থে ২০০১ সাল থেকে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী বাৎসরিক ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আহরন শুরু করেন তৎকালিন পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ বছর ধরে সরকারী ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করে পৌরসভার রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে ইজারা প্রদান চলমান রয়েছে। বর্তমানে এর ইজারা মুল্য অর্ধকোটি টাকা। এ বিষয়টি এমপি মানিক চাঁদাবাজি বলে পৌরসভাকে কলংকিত করার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের অসত্য, মিথ্যাচারপূর্ণ ও অন্তঃসারশূণ্য বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানান মেয়র। প্রধান বক্তার বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী বলেছেন, জামাত-বিএনপি ও তাদের দোসরদের সকল ষড়যন্ত্র রাজপথে প্রতিহত করা হবে। দেশের মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। আবারো শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় দেশবাসী। কোন ষড়যন্ত্রই আওয়ামীলীগের অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাতক-দোয়ারায় জামাত-বিএনপি ও তাদের দোসররা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় এমপির ছত্রছায়ায় থেকে তারা অপরাজনীতে মেতে উঠছে। তারা ছাতক-দোয়ারার আওয়ামীলীগকে নিঃশেষ করতে নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মামলা দিয়ে নির্যাতন করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক, ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ এবং সম্প্রতি যুবলীগ নেতা লায়েক মিয়াকে হত্যা করেছে তারা। এখন লায়েক হত্যাকারীদের রক্ষা করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে স্থানীয় এ নেতা। আওয়ামীলীগের ব্যানার ব্যবহার করে চিহ্নিত জামাত-বিএনপির নেতাদের নিয়ে সভা করে স্থানীয় এ নেতা আওয়ামীলীগকে প্রতিহত করার প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়েছেন। এখন নিহত লায়েকের পরিবার এসব জামাত-বিএনপির দোসরদের ভয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে। ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়েও এ পরিবার আশংকায় আছে। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া জামাত-বিএনপির দোসরদের ছাতক-দোয়ারায় প্রতিহত করা হবে। প্রকৃত মুজিব সৈনিকরাই ছাতক-দোয়ারা থেকে আওয়ামীলীগে ঘাপটি মেরে থাকা হাইব্রিডদের ঝেটিয়ে বিদায় করবে। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, ছাতক-দোয়ারার শান্ত রাজনীতিকে অশান্ত করে তুললে এর পরিনাম হবে ভয়াবহ। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়ামে আওয়ামীলীগের গণ সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে শামীম চৌধুরী এসব কথা বলেন। দোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক, দোহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে ও ছাতক উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আজমল হোসেন সজলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রিয় কার্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য শাহীন আহমদ চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যন দেওয়ান পীর আব্দুল খালিক রাজা, ইউপি চেয়ারম্যন, প্রভাষক জহিরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল, সাইফুল ইসলাম, আবুল হোসেন, পৌর কাউন্সিলর ইরাজ মিয়া, হাজী নাজিমুল হক, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা আশিকুল ইসলাম আশিক, আওয়ামীলীগ নেতা রেজা মিয়া তালুকদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আহবাব মিয়া তালুকদার সাজু, যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ আলী, শ্রমিকলীগ নেতা সজীব মালাকার, জাহাঙ্গির হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হুমায়ূন কবির রুবেল প্রমূখ। সভায় যোগ দিতে দুপুর থেকে ছাতক-দোয়ারার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খন্ড-খন্ড মিছিল আসতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে গোটা শহর। কানায়-কানায় ভরে উঠে শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম। সভা শেষে পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও শামীম আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শহরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এসময় আওয়ামীলীগ নেতা রুহুল আমিন তালুকদার, শফিকুল ইসলাম আর্মি, হবিবুর রহমান শেখচান, নূরুল হক, হাজী আবুল হায়াত, শামছুল ইসলাম খা, আফিক আলী, দেওয়ান আবুল কালাম মাষ্টার, হাজী জয়নাল আবেদীন, ডাঃ রেদওয়ানুল হক আরজু, আব্দুল মমিন, শরীফ আলম, নিজাম মিয়া, শামছুল আলম, শাহীনুর রাজা চৌধুরী, পীর আমিনুল হক টুনু, শাহীন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, লায়েক তালুকদার, সুন্দর আলী বুলবুল, কবির মিয়া, মুজিবুর রহমান, আলী আশগর, নেছার আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর আখলাকুল আম্বিয়া সোহাগ, দিলোয়ার হোসেন, সুদীপ দে, মাসুক মিয়া, ফারুক তালুকদার, ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া, খছরু মিয়া, আওয়ামীলীগ নেতা আখলুছ মিয়া, রাসেল হাসান, দোলোয়ার হোসেন, ফারুক আহমদ চৌধুরী, শ্রমিকলীগ নেতা স্বপন তরফদার, আবু সামা, মঈন উদ্দিন আহমদ, যুবলীগ নেতা নজরুল চৌধুরী, ফজলে রাব্বী জনি, রিয়াদ আহমদ চৌধুরী, আব্দুল কাদির তালুকদার, সামীউল হক সানি, জাহাঙ্গির আলম তারেক, সোহাগ আহমদ, সাজিমুল হক, আনোয়ার হোসেন, রুকন আহমদ, রহিম মিয়া, আজিজুল হক রুমন, রুবেল চৌধুরী, মাসুম মিয়া, সাহেদ আহমদ, মোফাজ্জল হোসেন, জোবায়ের আহমদ, হাজী ইকবাল হোসেন, শামীম মিয়া, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মামুন মিয়া, কামরুজ্জামান কাজল, জামায়েল আহমদ ফরহাদ, শাহীন মিয়া, বিলাল আহমদ, মিসবাহ আহমদ মিছহাক, সুজন মিয়া, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আতাউল সানি, মোস্তফা কামাল চৌধুরী মাহির, জেলা ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমদ তালুকদার, তাসরিফ আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা রুবেল তালুকদার জনি, শাহ আলম বাছিত, সাজ্জাদ আহমদ, হাফিজুর রহমান, নাঈম আহমদ, জিবরান আহমদ, রানা মিয়া, রিহাত আলম নাঈম, মাহিম চৌধুরী, ফখরুল আলম জেনিস, জাকির হোসেন সহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছাতক দোয়ারার জনগন শেখ হাসিনাকে আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়
508
