চলে গেলেন প্রভুর দরবারে প্রিয় ডাঃ মঈন ভাই

by News Room


ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে আপনার নাম
আল্লাহ মহৎ প্রাণ এ চিকিৎসক কে শাহাদাতের সুউচ্চ মর্যাদা দান করুন
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (মেডিসিন ও হৃদরোগ) ডাঃ মঈন উদ্দিন চলমান করোনাভাইরাস জনিত বৈশ্বিক মহামারী Covid-19 এ আক্রান্ত হয়ে গতকাল ইনতেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ফায়সালা অনুসারেই তার মউত হয়েছে।এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।জীবন প্রদীপ ফুরিয়ে গেলে এ দুনিয়াতে বেচে থাকার আর সুযোগ নেই।
ডাঃ মঈন উদ্দিন ছিলেন এ জাতির এক শ্রেষ্ঠ সম্পদ।অত্যন্ত বিনয়ী,মানবতাবাদী, পরোপকারী, মানবহিতৈষী,নির্লোভ ও নিরহংকার এক ব্যক্তিত্ব। মেধাবী, প্রতিভাবান,দক্ষ ও অংগীকারাবদ্ধ এক অতুলনীয় চিকিৎসক সহসাই কালেভদ্রে জন্মায় না।
করোনাভাইরাস যুদ্ধে তিনি একজন প্রথম সারির সৈনিক।তিনি ভয়কে জয় করেছেন।মানবতাকে করেছেন উচ্চকিত।জীবন-যৌ
বন,সন্তান-স্ত্রী,পরিবার-পরিজন,জগতের মোহ ও দুনিয়ার মায়া-মমতার উর্ধবে তিনি স্থান দিয়েছেন বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কে।জাতি,গোত্র,ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সেবা ও চিকিৎসা সেবা করে গেছেন চরম ও পরমভাবে।
আর্ত মানবতার মুর্ত প্রতীক মহত প্রাণ এ চিকিৎসক মরে যান নি।মরেও তিনি অমর।ইতিহাসে তার নাম সবর্নাক্ষরে লিখা থাকবে।তিনি বিজয়ী এক বীর।করোনা যুদ্ধে শহীদ হয়ে নিজে জয়ী হয়েছেন।পরাজিত হয়েছে রাষ্ট্র। লজ্জিত হয়েছে এ সমাজ।
আমরা কি দায়মুক্ত?
এ দায় রাষ্ট্রের।সেদিন আমরা তাকে এয়ার এম্বুলেন্স দিতে পারি নি।মিথ্যাচারের বয়ান শুনেছি।এ মুখোশ তো একদিন উন্মোচিত হবে।আজকে এ প্রশ্ন এয়ার এম্বুলেন্স কার টাকায় চলে?
যদি রাষ্ট্রের টাকায় চলে তাহলে প্রতিটি নাগরিক কে সমভাবে এর সুবিধা ভোগ করতে হবে।
সময়ে-অসময়ে,বেলা-অবেলায় সব কথা বলা যায় না।রাষ্ট্রযন্ত্রের গঠনমূলক সমালোচনা কিংবা অসংগতি তুলে ধরা বা গণ অধিকারের কথা বলা আর সরকার বিরোধিতা এক নয়।এটা ভুল ধারণা।বরঞ্চ এটা কর্তাব্যক্তিদের চলার পথকে সহজ করে দেয়।এটা সৌন্দর্য।সুতরাং সময়মত পদক্ষেপ না নিলে পরক্ষণেই খেসারত দিতে হয়।
যারা বলছেন সমস্যা সকলের রাষ্ট্র সকলের তাদের উচিত সরকারের ভাল কাজে সহযোগিতা করা।আর খারাপ কাজের প্রতিবাদ করা,শোধরিয়ে দেয়া।এটাকে দোষারোপের রাজনীতি বলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবেন না।
মনে রাখবেন কখনো কারো পক্ষে বললে কল্যাণ হয় কখনো বিপক্ষে বললে কল্যান হয়।পক্ষ-বিপক্ষটা আপেক্ষিক। কিন্তু মুখ বন্ধ করে থাকলে অবিচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।
সততা এবং সাহসিকতা মুল বিষয়।বিরোধিতা নয় ইতিবাচকতার দিকে হাটতে হবে।এ ইতিবাচকতা যেন হয় সত্যের পক্ষে,মানবতার পক্ষে।
মৃত্যুঞ্জয়ী কর্মবীর ডাঃ মঈন উদ্দিন সে শিক্ষাই দিয়ে গেলেন আমাদের।
আমরা মঈন ভাইয়ের বিদেহী আত্মার নাগফেরাত কামনা করছি।তার শোকাহত পরিবার ও সন্তানদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।
হে আল্লাহ।তাদেরকে ও আমাদেরকে ধৈর্য্য ধরার শক্তি দাও।আমীন।

You may also like

Leave a Comment