কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া নূর হোসেন ৮ দিনের রিমান্ডে

by News Room

ডেস্ক রিপোর্ট:  কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন এবং তার দুই সহযোগীর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর বারাসাতের দ্বিতীয় মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম এ আদেশ দেন।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে নিয়ে বাগুইয়াটি থানা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। এরপর ওই তিনজনকে আদালতের গারদখানায় রাখা হয়।

শুনানি শেষে তিনজনের প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীর পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়নি।

কলকাতার পুলিশ সূত্র জানায়, কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর-সংলগ্ন বাগুইয়াটি থানা এলাকার কৈখালির ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের চারতলা থেকে গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে নূর হোসেন ও তার দুজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে ভারতে আসার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। অনুপ্রবেশ, অস্ত্র আইন ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাগুইয়াটি থানার পুলিশ।

পুলিশের বরাতে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আগে থেকেই পুলিশের নজরে ছিলেন নূর হোসেন। গতকাল রাতে পুলিশ জানতে পারে, কৈখালির একটি আবাসনে নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা জুয়ার আসর বসিয়েছেন। এরপর কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা বাগুইয়াটি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী কলকাতায় চিকিত্সার নাম করে কৈখালির ওই আবাসনের চারতলার ঘর ভাড়া করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ একসঙ্গে সাতজন অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার ১২ দিন পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উভয় মামলায় কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার এবং রক্তমাখা মাইক্রোবাস জব্দ করে। এরপর গ্রেফতার করা হয় আরো বেশ কয়েকজনকে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। নজরুল ইসলামের শ্বশুর অভিযোগ করেন, ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে র্যা বকে দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন নূর হোসেন।

You may also like

Leave a Comment