নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার যে আইন প্রস্তাব করেছে তাকে ‘নির্মম নিয়ন্ত্রণ’ মন্তব্য করে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এ আইনের লক্ষ্য সরকারের সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করা।
রবিবার এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ দাতা দেশ ও সংস্থাকে এই খসড়া আইনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ।
‘বিদেশী অনুদান (স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০১৪’ শীর্ষক আইনটি ইতোমধ্যেই মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে। এটি বিবেচনার জন্য এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
এটি আইনে পরিণত হলে দেশি বিদেশি বেসরকারি সংস্থার তহবিল এবং কার্যালয়ের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পূর্বানুমতি নিতে হবে।
খড়সায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তির কার্যক্রম তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন মনে করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেবে।
এইচআরডব্লিউর ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর ফিল রবার্টসন বলেন, ‘বেসরকারি সংস্থার বৈধ কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং সমালোচকদের আক্রমণ করার জন্য খসড়া আইনটিকে সহজেই অপপ্রয়োগ করা যাবে। সরকারি-বেসরকারি খাতে যখন দুর্নীতির বিস্তার হচ্ছে তখন সরকার এনজিওকে টার্গেট করার জন্য সময় ব্যয় করছে।’
এইচআরডব্লিউ বলছে, খসড়া আইনটি বাতিল করা উচিৎ। তবে সংসদে যদি এটি উত্থাপিত হয়ই তবে এনজিওর তহবিল সংগ্রহ ও তাদেরকে ইচ্ছেমাফিক নিয়ন্ত্রণ করার যে সমস্যাসংকুল বিধান রাখা হয়েছে তা সংশোধন করতে হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোনো এনজিওর প্রকল্প সংশোধন বা বাতিল করতে পারবে। এনজিওর প্রকল্পের সাথে জড়িত কেউ দেশের বাইরে যেতে চাইলে তাকে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইনটি সংসদে পাস হলে এনজিওর তহবিল সংগ্রহ এবং সব ধরনের কার্যক্রমে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। যে কোনো বিষয়ে এনজিও বুরোর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে, আদালতে যাওয়ার সুযোগও রাখা হয়নি খসড়া আইনে।
ফিল রবার্টসন বলেন, ‘এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ একদলীয় এবং স্বৈরতান্ত্রিক দেশে দেখা যায়, বাংলাদেশের মত কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নয়।’
সরকারের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই এনজিওগুলোকে কাজ করতে দিতে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
