আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (৪১)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : সেই ছোটবেলা থেকে দেখেছি বৃষ্ঠির দিনে কুচি মারা লোকদের অভয়ারণ্য।বাইন মাছের মত দেখতে সেই প্রজাতির প্রাণীকে এক সম্প্রদায়ের লোকজন আহার করত বলে শুনেছি।আজ আর গ্রামে গঞ্জে কুচি মারা লোক দেখা যায় না।ঠিক এমনিভাবে ব্যাঙ ও কচচপ ধরতে ও লোকজন দেখেছি।নানীর কাছে তাাদের মন ভুলানো গল্পও শুনেছি হরদম।এগুলো ছিল সেসময়ের বর্ষাকালের অনন্য বৈশিষ্ঠ্য।মুষলধারে বৃষ্ঠি আর গগণবিদারী গর্জনেও তাাদের পথচলা থেমে থাকেেনি।বিরামহীনভাবে তারা কাজ করত ।ছুটে চলত লক্ষ্যপানে।

আমরা গ্রামের ছেলে পিলেরা হ্যামিলিয়নের বাঁশীওয়ালা যেভাবে শিশুদের নিয়েছিল সেইভাবে তাদের পেছনে ছুটে চলতাম।

আমাদের দাদা মজিদ আলী সব সময় বারণ করতেন। তিনি আমাদেরকে ছয়মুল -মুলুক ও বদিউজ্জামাল আর গাজী- কালুর পুঁথি পয়ার সুরে শোনাতেন। আমরা মন্ত্র মুগ্ধের মত সেই আড্ডায় মশগুল থাকতাম। মসজিদের দরস ঘর কিংবা শান বাঁধানো পুকুরঘাট ছিল আমাদের আড্ডাস্থল।কিছুদিন পর আমাকে বানানো হল পুঁথি পাঠক কিংবা উপস্থাপক।পড়াশুনায় ভাল ছিলাম বলে সবাই স্নেহ করত অকৃত্রিম ভাবে।আমি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি তখন মানিক বন্দোপাঁধ্যায়ের ‘পথের পাচালী’ অনুকরণে একটি প্রবন্ধও লিখেছিলাম।

হবই মিয়া আমাদের গ্রামের একজন প্রবীণ মুরুব্বী।যিনি শেষ বয়সে পালং শাক ,কচুর বেক,কচু,কচু লতা,কাকরল,কুরলসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ জাতীয় সবজি গ্রাম থেকে কুড়িয়ে
শহরবাসীর চাহিদা মেঠাতেন।

আমি তখন এম সি কলেজ ছাত্রাবাসে থাকি।শিবগন্জ লামাপাড়া থেকে টিউশনী শেষ করে যখন হোস্টেলে ফিরছি,রাত সম্ভবত সাড়ে দশটা বাজে।দেখলাম হবই চাচাকে শিবগন্জ বাজার মসজিদের সামনে সবজি নিয়ে বসে আছেন।জিজ্ঞেস করলাম, চাচা বাড়ীতে চলে যাও না কি থাকো শহরে।তিনি বললেন ,না বাবা চলে যাই ।রাত তিনটা সাড়ে তিনটা হয়ে যায়। ট্রাকে যাই।
অনেক কষ্টের জীবন।জীবন সংগ্রামে ঠিকে থাকা সত্যি এক বিজয়।

মানুষের পেশা ভিন্ন হতে পারে।কাজ ভিন্ন হতে পারে।কিন্তূ প্রতিটি পেশার প্রতিটি কর্মের কিছু মৌলিকত্ব আছে।যাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে সমাজ বিনির্মান হচ্ছে।যাদের কর্মের উপকারভোগী লাখো জনগণ।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাদের জীবনাচারন তাঁর কবিতায় সুনিপুনভাবে তুলে ধরেছেন।চিত্রায়িত করেছেন অপরুপভাবে।তিনি বলেছেন:
আসিতেছে শুভ দিন
দিনে দিনে বহু বাড়িতেছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ।
হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দুপাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমাদের সেবিতে হইল যাহারা মজুর,মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি,
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদের গান
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান।

দিনে দিনে শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে মানব সভ্যতা। কিন্তু এই শ্রমজীবী মানুষ শোষিত, বঞ্চিত, ও অবহেলিত। তবে শ্রমজীবী মানুষদের যারা শোষণ করছে তাদের দিন শেষ হয়ে আসছে। কেননা, শ্রমজীবীদের নব উত্থানের সূচনা আসন্ন।

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment