আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (৩৩)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : আমার ভাবতে অবাক লাগে চাচার কথা শুনে।কারাগার থেকে চোখের পলকে বেরিয়ে যাবেন।আল্লাহ চাইলে ভিন্ন কথা।তবে দুনিয়াতে এ রকম অস্বাভাবিক কান্ড ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই।এ পৃথিবীতে আল্লাহর অনেক প্রিয় বান্দাহরা জেল খেটেছেন।নবী রাসুল পয়গম্বরগণও জেলে ছিলেন।বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) শেবে আবু তালিব নামক জেলখানায় বন্দী ছিলেন,হযরত ইউছুফ(আঃ) মিশরের কারাগারে আটক ছিলেন।কিন্তু সেখানে অলৌকিক কোন কিছুর মাধ্যমে কিংবা মুজেজা সেখানে প্রয়োগ হয়নি,যার ফলে তাঁরা মুক্ত হন।বরঞ্চ ঐ সময়ের মুজেজা ছিল তেমন ,বাতিল শক্তির সকল ষড়যন্ত্র স্বাভাবিক নিয়মেই পর্যুদস্ত হয়েছিল।অথচ বৃদ্ধ চাচার বুলি আওড়ানো এক রকম মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
আমাদের জেলমেট তোপখানার নুরুল ইসলাম ভাই।উনার কান্না তো আর থামে না।বয়সে আমাদের অনেক বড়।তারপরও তাঁকে আমাদের শান্তনা দিতে হয়।আহ,নুরুল ভাইয়ের বাসার খাবার দাবার কত না সু স্বাদু, বলে শেষ করা যাবে না।সেই সময়ে জেলে এক যুবকের সাথে পরিচয় হলো।ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।এক সময় জাসদ ছাত্রলীগ করতেন।প্রায় বছরখানেক জেলে।দলের কেউ তার খোঁজ নেয়নি।বাড়ীও সিলেটের বাইরে চট্রগ্রামে।তিনি বললেন তাঁর সহপাঠি যারা জাসদ করত তারা সবাই বিভিন্ন দলে ইতিমধ্যে পাড়ি দিয়েছে।ছাত্রলীগ,ছাত্রদল কিংবা ছাত্রশিবিরে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির তোড়জোড় ছিল।৮০’র দশকে জাসদ ছাত্রলীগ ছাত্ররা গর্ব করে করত।স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রসংগঠনগুলোর বীরত্বপূর্ণ অবদান সর্বজনস্বীকৃত ও যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী গোড়ার দিকের বছরগুলোতেও ছাত্রদের ভূমিকার মধ্যে স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ছাত্রসমাজের অভ্যুদয় সুচিহ্নিত হয়ে আছে। তবে এ সময়কার সরকারের অনুসৃত সবগুলি নীতি ও উদ্যোগের সঙ্গে ছাত্ররা একমত হতে পারে নি। সরকারের সঙ্গে এ বিরোধ থেকেই ছাত্রদের একটি অংশের উদ্যোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রদল নামের একটি নতুন ছাত্রসংগঠনের জন্ম হয়। পাশাপাশি বামপন্থীরা স্বপ্নের সমাজতন্ত্র কায়েমে বিভোর ছিল।৯০’র দশকে ছাত্রশিবির উদীয়মান ছাত্রশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।সাধারণ ও মেধাবী ছাত্রদের নজর কাড়ে এ ছাত্রসংগঠনটি।ফলে অন্যান্য দল থেকে ছাত্ররা এ সংগঠনে যোগ দেয়।আমাদের ঐ ভাইটি বলল তারই সহপাঠি এম সি কলেজের রাজনীতি বিজ্ঞানের ছাত্র আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া ছাত্রলীগ জাসদ থেকে শিবিরে যোগ দেন।পরবর্তীতে কলেজ ছাত্রশিবিরের নেতা হন। তার মন্তব্য সিদ্দিক ছাত্রশিবিরে যোগ দিয়ে ভালই করেছে।
আমি যখন এম সি কলেজে পড়ি,ছাত্রইউনিয়নের দেয়া অনেক বই পড়েছি।পাঠচক্রও করেছি।আমার কাছে খুব ভালো লাগত তুলনামুলক অধ্যয়ন বিভাগ টি।বিভিন্ন মতবাদের আলোচনা করতে গিয়ে অনেকবার পুরস্কৃতও হয়েছি।তবে জীবন ভাইয়ের বাকশাল আমার ভালো লাগেনি।যদিও তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন।আমি এখনও তাঁকে শ্রদ্ধা করি।
কারাগারের ঐ বৃদ্ধ চাচা কিন্তু একটি মতবাদ নিয়েই আছেন।বৈরাগ্যবাদী আর যাদুবিদ্যা।বৈরাগ্যবাদ হল বাস্তব পর্যবেক্ষণের সাথে অমূলক আন্দায-অনুমান সংমিশ্রণের ফলে মানব-জীবনের মৌলিক প্রশ্নের দ্বিতীয় যে উত্তরটি ঠিক করা হয়েছে, তার সংক্ষিপ্ত রুপ। এ মতাদর্শের গোড়ার কথা এই যে, পৃথিবী এবং মানুষের শারীরিক সত্তা স্বয়ং মানুষের জন্য একটি ‘শান্তি কেন্দ্রবিশেষ’ আর মানুষের আত্মাকে একটি দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদীর ন্যায় পিঞ্জিরাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বস্তু জগতের সাথে একটি জড় সম্পর্ক বর্তমান থাকায় মানুষের মধ্যে লোভ-লালসা, ইচ্ছা-বাসনা এবং প্রয়োজনীয় যা কিছুই রয়েছে মূলত তা সবই বন্দীখানার শৃংখল বিশেষ। দ্বিতীয়ত, এই মতাদর্শের প্রবল প্রভাবে সমাজের উত্তম ও সৎলোকেরা পৃথিবীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে লোকচক্ষুর অন্তরালে নির্জন একাকীত্বের নিভৃততম কোণে আশ্রয় নেয় এবং নিজের ব্যক্তিগত মুক্তি সাধনায় একান্তভাবে আত্মনিয়োগ করে। ফলত পৃথিবীর সকল প্রকার দায়িত্ব ও কর্তৃত্বপূর্ণ কাজ কর্মের চাবিকাঠি সমাজের সর্বাপেক্ষা দুষ্ট প্রকৃতির লোকদের কুক্ষিগত হয়ে পড়ে।
যাদুবিদ্যা মূলত: অতিন্দ্রিয় আর প্রাকৃতিক শক্তিকে বশ করার বিদ্যা! ইংরেজি ম্যাজিক শব্দের উদ্ভব হয়েছে ফার্সি মাজি থেকে! মাজিরা যে সব ক্রিয়া-কর্ম পালন করতো, গ্রীকরা তাকেই ম্যাজিক বলে অভিহিত করতেন!সেই প্রাগঐতিহাসিক কাল থেকে আজও পর্যন্ত এর প্রভাব দেখা যায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির উপর!
যাদুবিদ্যার প্রাচীন ইতিহাস যদি আমরা খুজে দেখতে চাই তাহলে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে সেই প্যালিওলিথিক যুগের গুহামানবদের গুহাচিত্রের দিকে।প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থ গুলোতেোও নানা আঙ্গিকের যাদুবিদ্যা চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায় সমসাময়িক ধর্মগুরু আর জনগনের ! পারস্যের জোরেয়াস্তার (আনু: ১০০০ খ্রি:পূ) মাজিয়ান ধর্মের প্রচলন করেছিলেন যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ভাল ও মন্দের মধ্যের ভালোর জয় লাভ। কিন্তু পরে এ ধর্মমতের মধ্যে যাদুবিদ্যার উদ্ভব হয়!
মাজিয়ান ধর্মের ধর্মীর আচার অনুষ্টান গুলো পালনের নেতৃত্ব দিত যারা তাদের বলা হয় মাজি! এই মাজিরা মূলত: জ্যোতিষী, গনৎকার হিসাবে পরিচিত ছিল, এরা সূর্য, চন্দ্র, মাটি, পানি বাতাস প্রভৃতির উদ্দ্যেশে শিশু ও পশু বলি দিয়ে দেহ রক্ত শুদ্ধ করত!প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে যাদুবিদ্যার নিন্দাবাদ করা হয়েছে।
মূলত: হযরত মুহাম্মদ স এর নবুয়ৎ প্রাপ্তির আগ পর্যন্ত সেমেটিক জাতি গুলোর মধ্যে ব্যাপক ভাবে যাদুবিদ্যা চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়!
মেসোপটেমিয় সভ্যতা গুলো থেকে যাদুবিদ্যার প্রচুর ট্যাবলেট পাওয়া গিয়েছে, যেখানে তিন শ্রেনীর পুরোহিতের কথা বলা হয়েছে—-বারু,এরা ছিল যাদুকর ও গুনিক, এরা মৃত প্রানীর যকৃৎ, নাড়ি ভুড়ি দেখে ভবিষ্যৎ গণনা করতো। অসিপু নামের আরেক শ্রেনীর পুরোহিত ছিল ওঝা, এরা ভুত প্রেত তাড়াত!
তবে যাদুবিদ্যায় যারা সবচাইতে বেশি ভূমিকা রেখেছে তারা হলো প্রাচীন মিশরীয়রা। চতুর্থ রাজবংশ প্রতিস্ঠা হাবার আগে থেকেই মিশরে ব্যাপক হারে যাদুবিদ্যার চর্চা শুরু হয়!
কিছু লোকবিশ্বাস মানুষের দৈনন্দিন আচার-আচরণের সাথে মিশে গিয়ে জীবনযাত্রার পথে স্থায়ী ও প্রথাগত স্বীকৃতি লাভ করে। আচরণসিদ্ধ এবং প্রথাগত বিশ্বাসের এ পর্যায়কে সংস্কার বলা হয়। এগুলো অমূলক ও অকারণ বলেই এগুলোকে বলা হয় কুসংস্কার।সব ধরনের কুসংস্কারের পেছনে রয়েছে অমঙ্গল চিন্তা। অর্থহানি, স্বাস্থ্যহানি, শাস্তিভোগ, বিচ্ছেদ-বিড়ম্বনা, বিপদের আশঙ্কা থেকে অমঙ্গল চিন্তা জন্ম নেয়। এসব অকল্যাণের জন্য দায়ী করা হয় অপদেবতা, শয়তান, ভূত-প্রেত ইত্যাদিকে। এদের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আশ্রয় নেয়া হয় যাদুবিদ্যার। সারা বিশ্বজুড়ে যাদুবিদ্যা নিয়ে রয়েছে অপার কৌতূহল। পৃথিবীর সব প্রাচীন জাতিগুলোর মধ্য যাদু ও মন্ত্রের প্রচলন ছিল। আদিম মানবজাতির কাছে যাদু ছিল ধর্মের অঙ্গ। প্রাকৃত বা অপ্রাকৃত ঘটনাকে অলৌকিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করার নামই হলো যাদুবিদ্যা।

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক,দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি,সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment