আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (২৬)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল :  সাজ্জাদ ভাই । জেলা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী । বাড়ী দক্ষিণ সুরমায় ।সবেমাত্র অবসরে গেছেন । তারপরও মায়ার টানে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল আদালতের আঙ্গিনায় মাঝে – মধ্যে আসেন।

রিপনের আব্বা যখন সিলেটে কর্মরত ছিলেন ( অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ , নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক ) তখন সাজ্জাদ ভাই চাকুরীতে ছিলেন ।রিপনের আব্বা উনার বস।রিপন আটক হওয়ার কিছু দিন পূর্বে তাঁর আব্বাকে রাজশাহীতে বদলী করা হয়। সাজ্জাদ ভাই অবসরে চলে যান। তবে তিনি স্যারের ছেলেকে চিনতেন ।

remand শুনানীর দিন রিপনকে যখন আদালতে হাজির করা হয় , তখন সাজ্জাদ ভাই রিপনকে চিনতে পারেন এবং বিষয় সম্পর্কে অবগত হয়ে তৎক্ষনাৎ সেই-ই রাজশাহীতে রিপনের মা- বাবা কে তা জানিয়ে দেন ।

জজ সাহেব ও জজ সাহেবের স্ত্রী এ রকম করুন কাহিনী ও ছেলের কারাবন্দীর কথা শুনে বিচলিত না হয়ে দ্রুত সিলেট চলে আসেন। রিপনকে বন্ধু মহল থেকে জানানো হয়েছিল বাবাকে জানানোর দরকার নেই। কিছু দিন পর মুক্তি পেয়ে যাবেন । অপর দিকে রিপনের ও মন খারাপ । পুলিশ যখন গ্রেফতারের পর নাম -ঠিকানা জানতে চেয়েছিল তখন সে যে জজ সাহেবের ছেলে সে কথা কোনো পুলিশ বিশ্বাসই করেনি ,বরঞ্চ ঠাট্রা – তামাসা করেছিল। তাই সে অপমানিতবোধ করে মা- বাবাকে খবর দেয়নি । এতে রিপনের মা একটু রাগান্বিত হয়েছিলেন । অথচ তিন- তিনটি মামলা থেকে জামিন পেতে সময় লাগাটাই স্বাভাবিক । যদি ও তা আমরা বুঝতে পারিনি।

এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ফৌজদারী ,অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত এবং সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক পৃথক ৩টি মামলার সুত্রপাত হয়েছে । যদিও ঘটনা একটিই ।

বিশেষ ক্ষমতা আইন নিয়ে এ যাবতকালে কম সমালোচনা হয়নি। বিশেষ ক্ষমতা আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা-সমালোচনা হয়, আইনটি বাতিল করার জন্য। মৌলিক মানবাধিকার পরিপন্থী এ আইনে সরকার ও প্রশাসনের মর্জিমাফিক গ্রেফতার করা যায়। স্বাধীনতার পর অনেক সরকার দেশ শাসন করেছে। কেউ এই আইন রদ করে নি। বরং উক্ত আইনকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য।

যাই হোক প্রায় ২ মাস কারাভোগের পর আমরা জামিনে মুক্তির স্বাদ গ্রহন করলাম ।ইতোমধ্যে রিপনের আব্বা – আম্মা সিলেট আসলেন । তাদের সাথে আমাদের ও দেখা সাক্ষাৎ হলো । জজ সাহেব আমাদের অনেক উপদেশ দিলেন ও শান্ত্বনা প্রদান করলেন।

লেখক :নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment