আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (১৩)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : আমার অনেক বন্ধু-শুভাকাংখী আমাকে প্রশ্ন করেন আমি কি লিখছি,কেন লিখছি?প্রতিউত্তরে আমি তাদেরকে বলি লেখককে লিখতে দিন।লেখার মধ্যেই আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব নিহিত আছে।সেই ছোটকাল থেকেই লেখালেখী কিংবা সাহিত্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল।মধ্যেখানে তা ভাটা পড়েছিল।আমার মনে আছে পাঠশালা,মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্য বইয়ের বিশেষ করে কবিতা ও প্রবন্ধ প্রায় সবকটিই আমার ছিল ঠুঠস্থ।মানে পুরোপুরি মুখস্থ।

আজ পত্রিকার পাতায় “উপোস থেকেও জিপিএ-৫ পেয়েছে তাহমিনা” সংবাদটি দেখে মনে পড়ল আমার ছেলেবেলার সেই করুণ কাহিনী।বেলা-অবেলায় দু-মুঠো খাবারও ভাগ্যে জুটেনি রীতিমতো।কেরোসিনের হাহাকারে খড়কুটো জ্বালিয়ে পাঠ করতে হয়েছে অনেকদিন।চেয়ার-টেবিলের কল্পনা তো দূরের কথা,চিনতামই না তা।পাটি বিছিয়ে অধ্যয়ন চলতো।

আমার এক বড় ভাই কিছু দিন পূর্বে আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন “আপনি যেখান
থেকে আজকের জায়গায়
এসেছেন তা রুপকথার
রাজকুমারের মত।”আসলে আমি এতটুকু নই।তবে অনেক চড়াই-উৎরাই, অনেক সংগ্রাম ও সাধনা করে আমাকে আসতে হয়েছে তা ঠিক।

আমার আজ গভীরভাবে মনে পড়ছে আমার শ্রদ্ধেয় নানীজির কথা।যিনি আমাকে অত্যন্ত আদর-যত্ন ও স্নেহ-মমতা করতেন।বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে যতদুর দৃষ্টি যায় আমার পানে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতেন আমাকে দেখার জন্য।

নাম তাঁর সোনাবান বিবি।নামের মতোই বিশাল হৃদয়ের সতি-সাধবী এক নারী।রুপে-গুণে গুণান্বিত এক মহিলা।তাঁর অসীম ঔদার্যে পুরুষশুন্য ঐতিহ্যবাহী হাজী আসরব আলী সাহেবের পরিবারকে সংরক্ষণ করতে পেরেছিলেন তিনি।

আমি এ যাবত কয়েকটি বইয়ের খসড়া পান্ডুলিপি তৈরী করেছি।বড় চিন্তিত ছিলাম বইগুলো কিভাবে প্রকাশনা করবো।সেদিন গল্পে গল্পে আমার এক বন্ধু একটি বইয়ের প্রকাশনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment