আমার লাশের খবর বন্ধু শুনবে একদিন জানি,কাঁদবে সবাই ফেলবে শুধু দু’নয়নের পানি (১১)

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল : ‘মতি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’,’মতি তোমায় কথা দিলাম…..’,’মতি ভাইয়ের কিছু হলে….’, ইত্যাদি শ্লোগানে মুখরিত রাজপথ।হাতে গোনা কয়েকজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রনেতার নেতৃত্বে স্কুল ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল।এক সময় বাংলাদেশে জাসদের রাজনীতি খুব তুঙ্গে ছিল।বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিতে তাদের প্রভাব ছিল অভাবনীয়,অতুলনীয়।

দেশের প্রায় প্রতিটি স্কুলেও তাদের সংগঠন ছিল।আমার মনে পড়ছে ,আমি যখন পাঠশালার পাঠ শেষ করে হাই স্কুলে ভর্তি হই,তখন আমাদের স্কুলে বাকশাল ছাত্রলীগ,মুজিববাদী ছাত্রলীগ,ছাত্র ইউনিয়ন,জাসদ ছাত্রলীগ,ছাত্রশিবির,ছাত্রদল ইত্যাদি সংগঠনের তৎপরতা চোখে পড়ে। আমাদের টিফিন ঘন্টার সময় একদিন বিদ্যালয়ের পাশে এক বাড়ীতে সহপাঠীদের সাথে গিয়েছিলাম।সেখানে জয়-বাংলা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মর্মস্পর্শী বক্তৃতা শুনেছিলাম।আমাদের পাশের গ্রামের এক বড় ভাই বাড়িতে গিয়ে বাকশালের মহাত্ম্য বুঝালেন।বললেন ‘ভাত,কাপড়,বাসস্থান বাকশাল দেবে সমাধান’।

এককালের মেধাবীদের সংগঠন বলে খ্যাত বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কৃতি ছাত্র সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল।সেখানে মেধাবীদের নিমন্ত্রন করা হয়েছিল।আর জাসদ ছাত্রলীগ, মিছিলই যেন তাদের আসল কর্মসুচী।২১শে ফেব্রুয়ারীর দিন খালিপায়ে প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহণ এক আবেগঘন বেদনাবিদূর পরিবেশ তৈরী হত।এতে’ আল-বদর রাজাকার,এই মুহুর্তে…..’,’গোলাম আযম-সাঈদী,বাংলার….’ ইত্যাদি শ্লোগান দেয়া হত।

নববই দশকের শেষ দিকে মতি নামক একজন ছাত্রনেতাকে কিছুসংখ্যক বখাটেরা সারীঘাট নামক স্থানে আহত করে রক্তে লাল করেছিল।তারই প্রতিবাদে সম্মিলিতভাবে সর্বদলীয় ছাত্রজনতা রাজপথে বিক্ষোভে মেতে উঠে।

আমি তখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।আমার মনে পড়ছে সেদিন সিনিয়র ভাইয়েরা আমাদেরকে স্কুল থেকে স্যারদের বলে মিছিলে নিয়ে এসেছিলেন।তবে একটি কথা না বললে অবিচার হয়ে যাবে,আর তা হল সকল দলের সিনিয়র নেতারা কনিষ্ঠ ছাত্রদের খুব স্নেহ করতেন।

লেখক:নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

You may also like

Leave a Comment