ঘৃণ্য লকডাউন: এ কেমন নির্যাতন!

by News Room

এনামুল হক:  লকডাউনের নামে দেশব‍্যাপী চরম অমানবিকতার নির্লজ্জ মহড়া চলছে। নিরীহ ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জনগণের উপর মানসিক ও আর্থিক খড়গ চালানো হচ্ছে।
কথিত কঠোর লকডাউনে সাংবিধানিক বাধ‍্যবাধকতা রক্ষায় সংসদীয় আসনের উপ নির্বাচন বন্ধ হলোনা কেন? যদি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য লক ডাউন দেওয়া হয় তাহলে ঐ নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনের দায়িত্ব কি নির্বাচন কমিশন ঠিকাদারি নিয়েছে?

যদি সাংবিধানিক বাধ‍্য বাধকতা রক্ষা জবাব হয় তাহলে প্রশ্ন রাখতে চাই মানুষের জন্য সংবিধান না সংবিধানের জন্য মানুষ?

ব‍্যংক খোলা, গার্মেন্টস খোলা, বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সবজি ও মাছ বাজার খোলা। আবার বলা হলো বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে গ্রেফতার জরিমানা!

এখন আমার প্রয়োজন কি কেন আমি ঘর থেকে বেরিয়েছি নড়াইল নওগা আর গোপালগঞ্জের লোককে আমি কিভাবে বুঝাবো?

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার পথে। চোখের সামনে একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

অধিকাংশ স্কুল কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকার ঘরে পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আর এক বছর যদি এভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে তাহলে এদেশের ৫০ ভাগ শিক্ষক শিক্ষিকার সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে। এর কারন সংগত কারনে ব‍্যখ‍্যা করা সম্ভব নয়।

ব‍্যবসায়ীদের মাথায় হাত। ঘর ভাড়া, কারেন্ট বিল, কর্মচারী বেতন মিলিয়ে লসের পর লস গুনতে হচ্ছে।

সিলেট অঞ্চলের পাথর ব‍্যবসা পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করে এই সেক্টরের লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে অসহায় করা হয়েছে।
বাবা তার দুধের সন্তানদের জন্য দুধ কিনতে হিমসিম খাচ্ছে।

সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৫০ টাকা ছুইছুই। চাল ডাল সহ নিত্য পণ‍্যের কথা নাই বললাম।

রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতি নেই। তোফায়েল আহমদের মতো কিংবদন্তি যখন সংসদে দাড়িয়ে এই আক্ষেপ করেন তখন বিষয়টি আর ব‍্যখ‍্যার দরকার মনে করছিনা।

রাজনীতিবিদদের জায়গায় আজ রাষ্ট্রের চাকররা রাষ্ট্রের মালিক জনগণের উপর ছড়ি ঘুরায়!

যারা প্রাইভেট চাকরি করে এরা একটি মারাত্মক আতঙ্ক নিয়ে রাত পার করছে।

সামনে কোরবানির ঈদ। একটি অজানা আতঙ্ক আর মানসিক চাপ নিয়ে দিন পার করছে মানুষ। আমরা কোরবানি দিতে পারবতো?

মৌসুমী জ্বরের প্রকোপ চারদিকে বেড়েই চলেছে। অথচ হায়েনার দল নাপা এক্সটেন্ড এর কৃত্রিম সংকট তৈরী করেছে বাজারে। এই বিষয়ে ম‍্যাজিষ্ট্রেটদের কোন অভিযান বা জরিমানা নেই।

অসংখ্য শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্ততি নিচ্ছে। কিন্তু বারবার লকডাউনের কারনে ব্রিটিশ কাউন্সিল পরীক্ষা স্থগিত করছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আজ ধ্বংসের মুখে।

ব‍্যাটারী চালিত অটো রিকশা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে চলেছে। এই যন্ত্রণা আমদানি বন্ধ না করে বিক্রি করার শোরুম বন্ধ না করে গরীব খেটে খাওয়া শ্রমিককে কেন নির্যাতন করা হয়, কেন তার রিকশা ভাঙ্গা হবে কেন তাকে জরিমানা করা হবে? এই প্রশ্ন কে কাকে করবে আর জবাবই বা কে দিবে?

প্রতিটি সেক্টর প্রতিটি মানুষ আজ কোন না কোন ভাবে নির্যাতনের শিকার।

কিন্তু কেউ কিছু বলেনা। সবার মধ‍্যে একটি অজানা জুজুর ভয় কাজ করে। আমরা লিখলে পরিচিতজনেরা বলেন কেন এগুলো লিখ অযথা লিখার কি দরকার? অমুক তমুকের পরিনতি দেখছো?

যেদিন লকডাউন ঘোষনা করে মনে হচ্ছিলো আমি হার্ট এটাক করে মারা যাবো! আমার জীবন বিপন্ন হওয়ার পথে। দুই দিন আগে খুব কষ্টে একটি খারাপ শব্দ ব‍্যবহার করে একটি স্প‍্যাটাস দিয়েছিলাম। আমি বুঝেছি আমার সাথে এসব শব্দ মানায় না। তবুও আমি তো মানুষ আমি আর সহ‍্য করতে পারছিনা। একজন ভাইয়ের পরামর্শে সেই স্ট‍্যাটাস প্রত‍্যাহার করি।

ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে।
কি করবো, কোথায় যাবো, কি সিদ্ধান্ত নিবো। আমার সাথে আরও দুটি জীবন জড়িত। সেই সাথে আমার বৃদ্ধ বাবা মা।

সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে একজন পরিবহন শ্রমিকের বক্তব্য শুনে কান্না চলে আসছিলো।

এই তিলে তিলে শেষ হওয়ার চেয়ে মনে হয় একেবারেই মেরে ফেলুক এই মানুষ গুলোকে। যে বাবা তার সন্তানকে মুখে খাবার তুলে দিতে পারেনা ভাল একটা জীবন উপহার দিতে পারেনা সেই বাবাদের বেচে থেকেও মরার মতো থাকা সমান। আমাদের বাচিয়ে রেখে ঘরে বন্দি রেখে, রাস্তায় জরিমানা করে, চাকরিচ‍্যুত করে তিলে তিলে মারার চেয়ে গুলি করে মেরে ফেলো।

আর তো তেমন কিছু করতে পারবোনা তবে সেজদায় পড়ে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে বলবো এই অন‍্যায় অবিচার জুলুমের বিচার যেনো হাসরের মাঠে নিজ চোখে দেখার সুযোগ দেন।

মনে রেখো ৬০/৭০ বছর পর কিন্তু জীবন শেষ হয়ে যাবে। অবশ্যই তোমাদের দুনিয়া এবং আখেরাতে এর জবাব দিতে হবে।

শেষ অনুরোধ – মানুষের স্বাভাবিক জীবন জীবিকা ফিরিয়ে দিন। আমরা সাধারণ মানুষ করোনায় মরবো না হোচট খেয়ে মরবো তা আল্লাহ্ নির্ধারণ করবেন।

আমি দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি যেদিন আমার দুনিয়ার সফরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে সেদিন দুনিয়ার কোন চিকিৎসক কোন হাসপাতাল কোন রাষ্ট্র প্রধান কোন সরকার প্রধান আমার জীবন ধরে রাখতে পারবেননা।

 

You may also like

Leave a Comment