সিলেটের খবর ডেস্ক : সোমবার কালো পতাকা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে পদযাত্রার সময় পুলিশের হামলায় আহতদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সেইসঙ্গে গণআন্দোলনের মাধ্যমে আস্তে আস্তে গণঅভ্যুত্থানের সরকারের পতন ঘটানোর ইঙ্গিত দিয়েছে জোটের দলগুলো।
শরিক দলগুলো বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা, হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবির পাশাপাশি আহত এবং গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের নাম প্রকাশ করেছে।
সরকার জনবিচ্ছিন্ন বলেই হামলা: বাসদ (মার্কসবাদী)
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হ্য়াদার চৌধুরী বাম গণতান্ত্রিক জোটের ‘কালো দিবস’ পালনের কর্মসূচিতে পুলিশের নৃশংস হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে নেতৃবৃন্দ কর্মসূচি পালনের কথা বললেও পুলিশ চারদিক থেকে বেধড়ক লাঠিচার্জ করতে থাকে। বিশেষত নৃশংসভাবে মাথায় লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এই হামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। প্রায় ৫-৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকার কতটা জনবিচ্ছিন্ন হলে এই হামলা ও গ্রেপ্তার করাতে পারে, তা এখন দৃশ্যমান। আমি সরকারের এই ফ্যাসিবাদী আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘হামলায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিভিন্ন দলের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। বাসদের (মার্কসবাদী) ১৬ জন এই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য ফখরুদ্দিন কবির আতিকের ডান হাত, চোখ ও পায়ে আঘাত করা হয়েছে। বাসদ (মার্কসবাদী) ঢাকা নগরের ইনচার্জ নাঈমা খালেদ মনিকার হাত ও তলপেটে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়েছে। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সীমা দত্তের পায়ে, হাতে ও পিঠে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানার হাত ও আঙুল ভেঙে গেছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকীর পায়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমার মাথা ফেটে গিয়েছে, তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি সাদেকুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে, হাত ভেঙে গেছে এবং কানে জখম হয়েছে। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ঢাকা নগরের ইনচার্জ সংগঠক সুস্মিতা রায়ের চোখের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। চোখের নিচে ৬টি সেলাই দিতে হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর সুমির সারা শরীরে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হাসানের মাথা ফেটে গেছে এবং সে সংজ্ঞাহীন হয়ে চিকিৎসাধীন আছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা কলেজ শাখার সংগঠক মাহমুদুল হাসানের কপালে আঘাত লেগেছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ শাখার আহ্বায়ক সজীব চৌহানের পায়ে-হাতে ও কাঁধে পেটানো হয়েছে। শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানিক হোসেনের হাত ও তলপেটে আঘাত লেগেছে। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে তারা কাতরাচ্ছে।’
কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী অবিলম্বে গ্রেপ্তার সকল নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং একই সাথে হামলার সাথে যুক্ত পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি জানান, আগামীকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে এই হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে।
গণআন্দোলনের পথ ধরে গণঅভ্যুত্থান: বাসদ
একইভাবে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে পুলিশের হামলায় নেতা-কর্মীদের আহত ও পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারী পুলিশের শাস্তি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তিনি জোটের আহত ও গ্রেপ্তার কর্মীদের নাম প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে রয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, লিপি, রাবেয়া, সৈকত, উজ্জল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, সিপিবি’র মনজুর মঈন, হযরত আলী, আরমান, বিথি; বাসদের নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, সুস্মিতা মরিয়ম, ছাত্র ফ্রন্টের মুক্তা বাড়ৈ, সুহাইল শুভ, তানজিম সাকিব, আনারুল, সুমাইয়া ইসলাম সোমা, মুন্নী সর্দার, সোহাগী সামিয়া, রাতুল, প্রিয়া; বাসদের (মার্কসবাদী) মাসুদ রানা, সুপ্তি, তমা, রাজীব চৌহান প্রমুখ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে বাসদের মো. তামিম, ছাত্র ইউনিয়নের সজল, যুব ইউনিয়নের সজ্জনসহ পাঁচজন।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। ফলে জনগণের যে কোন আন্দোলনকে ভয় পায়, তাই বাম গণতান্ত্রিক জোটের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি ভোট ডাকাতির এই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করতে গণআন্দোলনকে তীব্রতর করে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
দলীয় প্রধানের ওপর হামলায় ক্ষুব্ধ ওয়ার্কার্স পার্টি
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে আজ এক বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কালো পতাকা মিছিলে হামলা করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কে আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সেইসঙ্গে বিনা উস্কানীতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও ২৯ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে জালিয়াতি করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। দেশের জনগণ এটা মেনে নিতে পারছে না। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বাম গণতান্ত্রিক জোট গত এক বছর ধরেই এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার কালো দিবস ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি পালনকালে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকিসহ ২৫/২৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ১৪/১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আরো যারা আহত হয়েছেন তারা হলেন আকবর খান, আবু হাসান টিপু, সাইফুল ইসলাম, মো. আলী. সজীব সরকার রতন, মো. লিটন, তাইজুল ইসলাম, অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, নেওয়াজ হোসেন, নাঈম খানসহ আরো অনেকে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছে।
ভোটে ক্ষমতায় আসেনি বলেই ভয়ে হামলা: কমিউনিস্ট লীগ
বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নাননু বিবৃতিতে বলেছেন, বিক্ষোভ মিছিলটি মৎস্য ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয় এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিনা উসকানীতে হামলা চালিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে গুরুতর আহত করে এবং পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে।
বিবৃতিতে কমরেড মোশাররফ হোসেন নাননু বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি, ফলে জনগণের যে কোন আন্দোলনকে ভয় পায়, তাই বাম গণতান্ত্রিক জোটের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি ভোট ডাকাতির এই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করতে গণআন্দোলনকে তীব্রতর করে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
