আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম বলেন, “সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চর্চা এবং দুর্নীতি রোধের জন্য তথ্যের উন্মুক্ততা অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী যে সকল তথ্য প্রকাশযোগ্য নয় সেগুলো ব্যাতিত সকল তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। আর এ কাজের জন্য জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীনে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টাল হচ্ছে অন্যতম একটি মাধ্যম। যাদের ওয়েব পোর্টাল পুরোপুরি হালনাহাদ নেই তাদেরকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে স্ব স্ব ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদ করার জন্য তিনি সভায় নির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসন, সিলেট ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সিলেট এর উদ্যোগে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ০৯.৩০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ সারওয়ার আলম, জেলা প্রশাসক, সিলেট।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সনাক-সিলেট কর্তৃক পরিচালিত সিলেট জেলার সরকারি অফিসসমূহের ওয়েব পোর্টাল পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সনাক সভাপতি সৈয়দা শিরীন আক্তার (অ্যাডভোকেট)।
উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, নোটিশ বোর্ড/খবর, একনজরে প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা সংক্রান্ত তথ্য, কর্মচারী সংক্রান্ত তথ্য, সেবা সংক্রান্ত তথ্য, যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য, এপিএ সংক্রান্ত তথ্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিও) সংক্রান্ত তথ্য; এ বিষয়গুলোর আলোকে ৯৭টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টাল চেকিং/যাচাই করে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টালে শতভাগ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তবে পিডিবি, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ ও উদ্ভিদ সংগ নিরোধ কেন্দ্র, স্থলবন্দর. জকিগঞ্জ, সিলেট -এর ওয়েব পোর্টালে উল্লিখিত বিষয়সমূহে কোনো ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি অর্থাৎ হালনাগাদের হার শূন্য। অনদিকে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন এর ওয়েব পোর্টাল লিঙ্কগুলো অ্যাকটিভ পাওয়া যায়নি। ৯৭টির মধ্যে ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টালে ৫০% বা এর বেশি তথ্য পাওয়া গেলেও ২৮টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টালে হালনাগাদ তথ্যের হার ৫০% এর কম রয়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের পোর্টালে আংশিক তথ্য দেয়া আছে, যেমন: কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম, পদবী আছে কিন্তু মোবাইল, ই- মেইল নেই।
সিলেট জেলার সরকারি অফিসসমূহের ওয়েব পোর্টালসমূহ শতভাগ হালনাগাদকরণের লক্ষ্যে সনাক-সিলেট এর পক্ষ হতে অনুষ্ঠানে ৭ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়-
১. ওয়েব পোর্টালগুলোর হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ ক্ষেত্রে ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদের সময়-সীমা নির্ধারণসহ অফিস আদেশ/চিঠি প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা;
২. তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ এর নাম, পদবি, ফোন ও ই-মেইল ওয়েব পোর্টালের হোমপেজে নিয়মিত হালনাগাদ রাখার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা প্রদান করা;
৩. পরিবর্তনযোগ্য তথ্যগুলো নিয়মিত হালনাগাদ রাখতে মাসে একাধিকবার ওয়েব পোর্টাল ভিজিট করার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্দেশনা প্রদান করা;
৪. আংশিক তথ্যের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য বিস্তারিতভাবে হালনাগাদ রাখা (যেমন: প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীর নাম ও পদবীর সাথে তাঁদের মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল যুক্ত করা);
৫. যে সকল প্রতিষ্ঠানের জাতীয় তথ্য বাতায়নের পোর্টাল ছাড়া স্বতন্ত্র ওয়েব সাইট রয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উক্ত স্বতন্ত্র ওয়েব সাইট-এর লিঙ্কটি জাতীয় তথ্য বাতায়নের সাথে যুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা;
৬. নিস্ক্রিয় ওয়েব পোর্টালগুলোকে সম্ভব হলে সক্রিয় করা অথবা পোর্টাল থেকে মুছে ফেলা। অন্যদিকে যেসকল প্রতিষ্ঠানের একাধিক লিঙ্ক সক্রিয় রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লিঙ্কটি পোর্টাল থেকে মুছে ফেলা। এবং
৭. ওয়েব পোর্টালকে জনগণের জন্য কার্যকর করতে জনসম্প্রচার বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক সনাক সদস্য, ইয়েস সদস্য ও টিআইবি কর্মীসহ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
