সিলেট সিলেটে সরকার বিরোধী আন্দোলনে চাপা পড়ে যাচ্ছে ইলিয়াস নিখোঁজ ইস্যূ: নিখোঁজের ২১ মাস আজ, ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় নেতাকর্মী ও পরিবার

by News Room
উজ্জ্বল ধর, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৪ : বিরোধী দলের সরকার হটানোর আন্দোলনে চাপা পড়ে যাচ্ছে ইলিয়াস নিখোঁজ ইস্যুটি। এদিকে বিএনপির কেন্দ্রিয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি এম ইলিয়াস আলী মাঠে না থাকায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে দাঁড়াতেই পারছেন না দলীয় নেতা-কর্মীরা। ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের দলীয় অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমান আন্দোলন মুখর সময়ে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন। দলীয় রাজনৈতিক কর্মসুচিতে নেতৃত্ব শূন্যতায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। কার্যতঃ এম ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতে সিলেটে দলীয় কোন কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে পারছে না দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটি।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে নিজের গাড়ির চালকসহ নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। দীর্ঘ ২১মাসেও তাদের সন্ধান দিতে পারেনি প্রশাসনসহ কেউই। ইলিয়াস আলীকে সরকার গুম করেছে এ অভিযোগে তাঁর জন্মস্থান সিলেটের বিশ্বনাথে গড়ে ওঠা আন্দোলনে প্রাণ হারান তিন যুবদল কর্মী। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী। এ সংক্রান্ত মামলায় নাজেহাল হচ্ছেন বিশ্বনাথের ৭ ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রায় ৫ হাজার লোক।

এদিকে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর তার সন্ধানের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। বিএনপি’র পাশাপাশি ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ ও ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। পাশাপাশি তার নিজ উপজেলা বিশ্বনাথেও পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি।এম. ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে ইলিয়াস মুক্তি ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সর্বশেষ গত ১৬ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে সিলেটে মিছিল-সমাবেশ করেছে। ১৭ ডিসেম্বর বিকালে মিছিল-সমাবেশ করেছে বিশ্বনাথ থানা বিএনপি। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও তার কোন সন্ধান না পাওয়ায় ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর অপেক্ষায় এখনো প্রতিক্ষার প্রহর গুনছেন তাঁর পরিবারসহ দলের আশাবাদী নেতা-কর্মীরা।

কিন্তু কবে শেষ হবে এই অপেক্ষার পালা, কবে ফুটবে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ির চালক আনসার আলীর পরিবারের মুখে হাসি এই বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা ইলিয়াস আলীকে সরকারের বিশেষ বাহিনী গুম করেছে বলে অভিযোগ করে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। নিখোঁজের পর মাস খানেক ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে হরতাল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে উত্তাল ছিল সিলেট তথা সারাদেশ। এসব কর্মসূচীতে ৮জন প্রাণ হারান। কিন্তু এরপরও ইলিয়াস আলীর কোন হদিস নেই। তিনি বেঁচে আছেন কি না কিংবা সরকারের কোন বাহিনী তাকে গুম করেছে কিনা তাও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না কেউ।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর সারাদেশে পাঁচদিন হরতাল পালন করা হয়। হরতালে সারাদেশের ন্যায় ইলিয়াস আলীর নিজ সংসদীয় এলাকাও ছিল উত্তাল। গত বছরের ২৩ এপ্রিল বিশ্বনাথে স্মরণকালের ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় বিএনপি কর্মী মনোয়ার, সেলিম ও জাকির। বিশ্বনাথে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামী করে দায়ের করা হয় ৬টি মামলা। এসব মামলায় বিশ্বনাথের চার ইউপি চেয়ারম্যানসহ দু’শতাধিক নেতাকর্মী কারাবরণ করেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হবার পর ইলিয়াস আলীর পরিবারের ভর করে দীর্ঘশ্বাসের কালোমেঘ। এখনো থামেনি মায়ের চোখের জল।

সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক ইলিয়াস আলীর বৃদ্ধা মা সূর্যবান বিবি। তিনি পুত্র শোকে শয্যাশায়ী। স্বামীর খোঁজে দিশেহারা ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা। পিতাকে ফিরে পাবার আশায় বুকে পাথর বেঁধে দিন যাপন করছে ইলিয়াসের পুত্র আবরার ইলিয়াস, লাবিব সারার ও মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল। পরিবারের একটাই দাবি তারা যে কোন মূল্যে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ী চালক আনসার আলীকে অক্ষত এবং সুস্থ অবস্থায় তাদের মাঝে ফিরে পেতে চান।

You may also like

Leave a Comment