২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে নিজের গাড়ির চালকসহ নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। দীর্ঘ ২১মাসেও তাদের সন্ধান দিতে পারেনি প্রশাসনসহ কেউই। ইলিয়াস আলীকে সরকার গুম করেছে এ অভিযোগে তাঁর জন্মস্থান সিলেটের বিশ্বনাথে গড়ে ওঠা আন্দোলনে প্রাণ হারান তিন যুবদল কর্মী। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী। এ সংক্রান্ত মামলায় নাজেহাল হচ্ছেন বিশ্বনাথের ৭ ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রায় ৫ হাজার লোক।
কিন্তু কবে শেষ হবে এই অপেক্ষার পালা, কবে ফুটবে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ির চালক আনসার আলীর পরিবারের মুখে হাসি এই বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা ইলিয়াস আলীকে সরকারের বিশেষ বাহিনী গুম করেছে বলে অভিযোগ করে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। নিখোঁজের পর মাস খানেক ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে হরতাল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে উত্তাল ছিল সিলেট তথা সারাদেশ। এসব কর্মসূচীতে ৮জন প্রাণ হারান। কিন্তু এরপরও ইলিয়াস আলীর কোন হদিস নেই। তিনি বেঁচে আছেন কি না কিংবা সরকারের কোন বাহিনী তাকে গুম করেছে কিনা তাও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না কেউ।
সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক ইলিয়াস আলীর বৃদ্ধা মা সূর্যবান বিবি। তিনি পুত্র শোকে শয্যাশায়ী। স্বামীর খোঁজে দিশেহারা ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা। পিতাকে ফিরে পাবার আশায় বুকে পাথর বেঁধে দিন যাপন করছে ইলিয়াসের পুত্র আবরার ইলিয়াস, লাবিব সারার ও মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল। পরিবারের একটাই দাবি তারা যে কোন মূল্যে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ী চালক আনসার আলীকে অক্ষত এবং সুস্থ অবস্থায় তাদের মাঝে ফিরে পেতে চান।
