মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক বলেছেন, রাষ্ট্র ও সরকারের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই গণভোট। তিনি বলেন, গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং দেশের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে অবশ্যই গণভোটে অংশ নিতে হবে।
তিনি ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি ফারুক ই আজম বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল কাজ ছিল গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অল্প সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাষ্ট্রকে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় যাতে ফিরিয়ে নেয়া না যায়, সেজন্য সকল দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সে সনদের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়েই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
যারা জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, তাদেরকে অনেক সৌভাগ্যবান হিসেবে উল্লেখ করে ফারুক ই আজম বলেন, তাদের প্রথম ভোট হবে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের জন্য এবং নিজের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য। গণভোটের পক্ষে সুচিন্তিত মতামতের ফলেই দেশের অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, স্বচ্ছল, সাবলীল ও মানবিকবোধসম্পন্ন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে এবং যে বাংলাদেশের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের সার্বিক মালিকানা জনগণকে বুঝিয়ে দিতে সরকার কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, জনগণ যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে কোনো সরকারই তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার সঙ্গে ভালো প্রার্থী নির্বাচিত করতে হবে এবং ভালো প্রার্থী তৈরি হবে ভালো রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে। রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন ও সুসংহত করা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উঠান বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মোঃ আসলাম উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম এবং সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক রাকিব হাসানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
