বুধবার পত্রিকাটির মেমো ফ্রম বাংলাদেশ, টু লিডারর এনমিটি স্টোকস কনসার্ন ওভার ভোট ইন ফ্রাগাইল ডেমোক্রোসি শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে এ জরুরি অবস্থা জারির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে চলমান নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংকট তুলে ধরে বলা হয়েছে, যদি সমঝোতা না হয় এবং বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন বর্জন করেন তাহলে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হবে। এর ফল খুব ভালো হবে না। বিরোধী দল আবার রাজপথে নামবে নতুন নির্বাচনের জন্য। এ পরিস্থিতি জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার নামে সেনা বাহিনীর জরুরি অবস্থা জারির আশঙ্কাকে জোরালো করে তুলবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রতিক্রিয়া ছিল অনুমিত। রাজধানীসহ সারাদেশে জনগণ রাস্তায় গাড়ি পুড়িয়েছে, পুলিশের গাড়ি ও ট্রাকে আগুন দিয়েছে। নির্বাচনের বিরোধিতা করে ২৬ নভেম্বর থেকে বিরোধী দলের দেশব্যাপী হরতাল, অবরোধে এ পর্যন্ত প্রায় ২ ডজন লোক নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়মিত ঘটে আসছে। ১৯৯৬ সালে পরিস্থিতি ছিল উল্টো। শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলের নেত্রী এবং বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় শেখ হাসিনার দলের নেতাকর্মীরা হরতাল করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্বেগ ও উদ্যোগ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই সপ্তাহে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ তাদের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে সংকট সমাধানের লক্ষ্যে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ব্যক্তিগতভাবে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী সচিব নিশা দেশাই সমঝোতার জন্য ঢাকা সফর করে গেছেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ভঙ্গুর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র সামরিক শাসনের ছায়ায় ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। পর্যবেক্ষকরা আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে সন্দিহান। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আগে বহুবার ছিল। ১৯৯১ সালে দীর্ঘ সামরিক শাসন শেষে এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ নিলে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়। ২০০৮ সালে নির্বাচিত শেখ হাসিনা সরকার কোর্টের রুল মোতাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।
প্রতিবেদনে চলমান আন্দোলনে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক রাজনৈতিক সহিংসতা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস এবং জনগণকে বিপর্যস্ত করছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন দুই নেত্রীর প্রতি। দেশের অন্যতম শিল্প গার্মেন্টস সেক্টর আন্দোলনের জন্য বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। – See more at: http://www.dainiksylhet.com/details/newsdetails/1935#.UqB3sid10f0
