ডেস্ক রিপোর্ট: মঙ্গলবার পুরো দিন আয়েশি মেজাজে ব্যাটিং করে সফরকারী শ্রীলঙ্কা সংগ্রহ করেছে ৫ উইকেটে ৩৭৫ রান। তাতে তাদের লিড ১৪৩ রানের। টাইগারদের ক্যাচ মিস আর নো বল না হলে মিরপুর টেস্টের এই দ্বিতীয় দিনে উইকেটের সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারত। তবে দিন শেষে কিছুটা হলেও হাসিমুখ নিয়ে হোটেলে ফিরেছেন মুশফিকরা।
বিনা উইকেটে দ্বিতীয় দিন শুরু করা লঙ্কাকে মূলত নিয়ন্ত্রণ করেছেন ৩ উইকেট শিকারী সাকিব। আর সঙ্গে পেসার আল আমিন ও স্পিনার গাজী একটি করে উইকেট শিকার করে দলকে ভালোই সাহায্য করেছেন। যেভাবে লঙ্কানরা ব্যাট করছিল, তাতে দিনের শেষ ভাগে সাকিব, আল আমিন ও সোহাগ উইকেট তুলে না নিলে সফরকারীদের লিডটা আরো বড় হতে পারত। সেটা হয়নি বলে উজ্জীবিত টাইগাররা তৃতীয় দিন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লঙ্কানদের অলআউট করার লক্ষ্য নিতেই পারেন।
ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে নামার আগে অধিনায়ক মুশফিক বারবার স্পোর্টিং উইকেট চেয়েছিলেন। কিন্তু যে উইকেটে মিরপুরে প্রথম টেস্ট খেলা হচ্ছে, সেটা বাংলাদেশের জন্য না স্পোর্টিং, না স্পিন! টস হেরে ব্যাট হাতে প্রথম দিন শেষ হওয়ার আগেই অলআউট ২৩২ রানে। ওই দিনই শেষ বিকেলে ব্যাট হাতে জবাব দিতে নেমে ৬০ রান সংগ্রহ করে অতিথি শ্রীলঙ্কা হোটেলে ফেরে।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে মুশফিকদের করা ২৩২ রানের জবাবে ব্যাট হাতে অপরাজিত ছিলেন ওপেনার করুনারত্নে ২৮ আর সিলভা ৩০ রানে। দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের আগে সাকিব অনেকটা সাধনা করেই করুনার উইকেটটি পকেটে জমা করেন রবিউলের হাতে ক্যাচ বানিয়ে। দল তখন ১১৮ রানে। আর করুনার টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থ ফিফটির পালকটা মাথায় গেঁথে গেছে। অপর ওপেনার সিলভার সঙ্গী তখন সাঙ্গাকারা। তারা দুজন ১৫৫ রানের জুটি গড়েন। ১২০ টেস্টে ৩৩ সেঞ্চুরির মালিক সাঙ্গাকারাকে ৭৫ রানের মাথায় পেসার আল-আমিন ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডার নাসির হোসেন তিনবারের চেষ্টায় তালুবন্দী করলে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি নেমে আসে। শ্রীলঙ্কার দলীয় সংগ্রহ ততক্ষণে ৩০২।
ওপেনার সিলভা সাঙ্গা ফিরে যাওয়ার আগে করেছেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ১৩৬ রানে সাকিবের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। কিন্তু মুশফিক ব্যর্থ হন। পরের বলেই সিলভা আটকা পড়েন সাকিবের স্পিন জাদুতে। এরপর লঙ্কান মিডল অর্ডারের ভয়ংকর জুটি জয়াবর্ধনে আর চান্দিমালের পর্ব। এই জুটি রানের চাকা ঘোরানোর আগে লঙ্কানরা ৭২ রানে এগিয়ে। স্কোর ৩ উইকেট ৩০৪ রান।
চতুর্থ জুটিতে চান্দিমাল আর জয়াবর্ধনে ৭২ রানের জুটি গড়ার পর সাকিব ৪২ রান করা চান্দিমালকে বোল্ড করলেন। দলীয় রান তখন ৩৭৪। দিন তৃতীয় দিন শেষে ৩৭৫ রান ১৪০ রানের লিড নিয়ে হোটেলে ফেরে লঙ্কানরা। জয়াবর্ধনে অপরাজিত ৪২ রানে। তার নতুন সঙ্গী লাকমাল।
