মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন”

by News Room

গোলজার আহমদ হেলাল

কোটা সংস্কারের দাবীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে মুক্তিযোদ্ধা – রাজাকার খেলা চলছে। একদিকে সরকার অন্যদিকে ছাত্রসমাজ।স্বাধীন বাংলাদেশে রাজাকার কোন ভালো উপাধি নয়।এটি নিয়ে গর্বের কিছু নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে সম্মুখে থেকে কাজ করেছে রাজাকার বাহিনী।পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ‘রাজাকার অর্ডিন্যন্স’ এর মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে সরকারীভাবে এবাহিনীতে জনবল রিক্রুট করেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, মেম্বার ইত্যাদি পেশার লোক রাজাকারী করে পাকিস্তান সরকারের ভাতা গ্রহণ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়।

২০২৪ সালে কোনো স্কুল কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থী কিংবা ছেলেমেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকার বললে তাতে কিছু আসে যায় না এটি আমাদের বুঝতে হবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো,কর্তৃত্বশীলদের পক্ষ থেকে ৫৩ বছর আগের ঘটনা কিভাবে আজকের তরুণদের ঘাড়ে চাপানো হয়!এটি অযৌক্তিক ও অপরিণামদর্শী। এ নির্লজ্জতা আর কতকাল চলবে?

বৈষম্যবিরোধী চলমান ছাত্র আন্দোলনের দাবী হলো কোটা সংস্কার। কোটা নির্মুল নয়। তারা চাকুরী ও সুযোগের সমতা চায়। শতকরা ৫৬ ভাগ কোটায় চলে গেলে থাকছেটা কি?কখনো কখনো তা শতকরা ৬১,৭০,৮২,৯৬ তে চলে যায়।  মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, উপজাতি ও জেলা কোটা থাকার যৌক্তিকতা আছে। তবে সব মিলিয়ে শতকরা ৫ ভাগ কোটা হিসেবে থাকুক, এ প্রস্তাব অনেকের।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের মুল মন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারকে ধারণ করেই আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। আমরা মনে করি শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা বাংলাদেশে স্পষ্টত বৈষম্য। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে আমাদের। এখানে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছি একথা বলার কোন সুযোগ নেই। তারা বলেন, যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজাকার ট্যাগ, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ইত্যাদি ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের জায়গা থেকে এধরনের কথা বলা হচ্ছে। এই আন্দোলনের সাথে রাজাকার শব্দের কোন সম্পর্ক নেই। তবে হ্যাঁ এর সূত্রপাত কিভাবে ঘটলো? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এর সূত্রপাত করেছেন। তিনি আন্দোলনকারী ছাত্রদের রাজাকারের নাতিপূতি বলে ইঙ্গিত করেছেন। ফলে ছাত্ররা এর পাল্টা জবাব দিয়েছে মাত্র। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। তাই আমাদেরকে কে রাজাকার বলল বা কি বলল তাতে কিছু যায় আসে না।আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন আমরা চালিয়ে যাব। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখানে তৃতীয় পক্ষ প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী চীন সফর থেকে এসে কোটা ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য কথা বলবেন।সমাধানের কথা বলবেন। কিন্তু আশাহত হয়েছি আমরা। তারা বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি শিক্ষার্থীদের দাবী যৌক্তিক। দাবী পূরণ হয়ে গেলেই এ আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা দাবী পূরণ না করে ভিন্নরকম কথা বলছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের আবেগ ও গর্বের, রাজাকাররা ধিকৃত ও ঘৃণিত। দেশ স্বাধীন হয়েছে আপামর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে।কারো একক কোন সংগ্রামে নয়। দেশের সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিজয় অর্জন হয়।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব ও অহংকার –

You may also like

Leave a Comment