মহামারী করোনাভাইরাস এবং চীন ও আমেরিকা-ইসরাঈলের পরস্পরবিরোধী জীবানু অস্ত্রের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

by News Room

করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারী। মহাবিপর্যয়। সারা পৃথিবীর দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।মানুষ আতংক,উদ্বেগ আর উতকন্টার মাঝে দিন কাটাচ্ছে।করোনাভ
াইরাস covid-19 হিসেবে বিশ্বময় আজ বিস্তার লাভ করেছে।মানবসৃষ্ট এ দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষ হম্বিতম্বী খাচ্ছে।সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য কামনাসহ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সকল ফর্মুলা প্রয়োগ করেও মরণের মিছিল থামছে না। বিশ্ব সবাস্থ্য সংস্থা WHO কর্তৃক ঘোষিত এ মহামারী সারা দুনিয়ায় আজ কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে পড়েছে।বিশ্বের পরাশক্তিধর রাষ্ট্র গুলোও আজ ধরাশায়ী। সারা দুনিয়া যেন লক ডাঊন।না জানি কখন যেন মহাপ্রলয় সংঘটিত হয়।এমন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।
এ দিকে মানবতা যখন এই মহাসংকট কালে উপনীত।চিকিৎসাসেবা আর খাবারের অভাবে রিক্তহস্ত। সভ্যতা তার সকল আবরন খুলে ফেলছে।এমনি অবস্থায় চীন ও আমেরিকার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এক ভিন্ন মাত্রার ইতিহাস সংযোজন হচ্ছে আমাদের বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়ে।আমেরিকা জোর দিয়ে বলছে,covid-19 চাইনিজ ভাইরাস। চীনারা বিশ্বজয়ের নিমিত্তে ইহা পরীক্ষাগারে তৈরী করেছে।তাদের ল্যাব থেকে বিস্ফোরিত হয়ে ইহা ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে।এটি চীনাদের তৈরী জীবানু ভাইরাস।জীবানু অস্ত্র। অপরদিকে চীন আমেরিকার এ অভিযোগ প্রত্যাখান করে বলেছে,আমেরিকার এ দাবি সর্বৈব মিথ্যা।এটা গাঁজাখুরি গালগল্প।পৃথিবীবাসীর কাছে আমাদেরকে বিকৃত উপস্থাপনের এক অপপ্রয়াস মাত্র।বরঞ্চ, চীন বলছে আমেরিকায় নিউইয়র্কে ১৯৬০ সালে এ ভাইরাস জন্ম লাভ করে।আমেরিকা ইহা মোকাবেলা করতে পারে নি।সম্প্রতি মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র’র এক সেনা সদসা গোপনে উহান প্রদেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুলোতে এমন তথ্য ফুটে উঠছে।
এ ব্যাপারে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান বলেন,চীনের ওবেই প্রদেশের উহানে একাধিক পরীক্ষাগার আছে।ভাইরাসের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য।এমন কি চীন ভাইরাসের চাষও না কি করছে বলে তিনি গোয়েন্দাগিরি করে পান।জানা গেছে,বিশ্বের নামী-দামী ইসরাইলী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বেশ আগ থেকেই পণ্যের গায়ে covid-19 লিখে রাখত।এর রহস্য এখনও জানা যায় নি।
মিডিয়ায় আসা এসকল ইনফরমেশন যদি বাস্তবে সঠিক হয় তাহলে মানব সভ্যতা কে আর মানব সভ্যতা বলা মুশকিল।
জনশ্রুতি আছে,একজন লেখক তার উপন্যাসে বেশ কয়েক বছর আগে লিখেছেন, চীন কিছু দিনের মাঝে জীবানু অস্ত্র বানাবে।কয়েকবছর আগে কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তার দেশের পরীক্ষাগার পরিদর্শন করে শীঘ্রই জীবানু অস্ত্র তার দেশের বিজ্ঞানীরা তৈরী করবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
সব মিলিয়ে করোনাভাইরাস দুনিয়ার কোন শক্তিধর ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র’র বিজ্ঞানাগারে আবিষ্কার না বিশ্বব্রহ্মাণ্ড’র মালিক আল্লাহর সৃষ্ট কোন জীব না অতিপ্রাকৃতীয় কোন বস্তু তা আমাদের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে ধারণা করা কঠিন।
আমরা বিশ্বাস করি, মানব-দানব থেকে শুরু করে শরীরী বা অশরীরী সহ সকল অতিপ্রাকৃত বস্তু,পদার্থের সুক্ষতম কণা পরমানুসহ সব কিছু এমন কি গাছের একটি পাতা কিংবা সমুদ্রের নিচের জলকণা বা মৃত্তিকা গহবরের ধুলিকনাও আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া নড়তে পারে না।দুনিয়ার সব কিছু আল্লাহ তার অসীম ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা বলে নির্ধারণ করেছেন।পৃথিবীতে এবং বস্তুসমুহের উপর যে বিপদ আসে তা তিনি কিতাবে লিখে রেখেছেন।এটা তার জন্য সহজ।
করোনা ভাইরাস মানুষের হাতের কামাই।মানবসৃষ্ট দুর্যোগ । এ দুর্যোগ মোকাবেলায় মানবীয় কোন পথ সমাধান নয়।জলে- স্থলের এ মহাবিপদ বা বিপর্যয়ের হোতা আমরা মানবমন্ডলী।
আমাদের নবী মোহাম্মদ (সাঃ) মহামারী আক্রান্ত হলে কি করা উচিত তার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রেখে গেছেন।এগুলা ফলো করা জরুরী। হাদিস থেকে আমরা তা পাই।
অপরদিকে কুরআন বিশ্ব মানবতার রহমত।ইহা জ্ঞানগর্ভ ও বিজ্ঞানময়। আল কুরআনের প্রতিটি পরতে পরতে বিজ্ঞান ছড়িয়ে আছে।চিন্তাশীল লোকের জন্য ইহা নিদর্শন।মহান আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে এবং দুনিয়ার সৎ কর্মশীল বাদশাহ দের বিজ্ঞান প্রথমে শিক্ষা দিয়েছেন।বাদশাহ জুলকারনাইন প্রাচীর নির্মাণ করেছেন,নুহ আঃ জাহাজ নির্মান করেছেন,ইব্রাহীম আঃ কাবা ঘর নির্মিত করেছেন,আদম আঃ সকল কিছুর নাম শিখেছেন,উমর রাঃ নগর ও খাল করেছেন,ইরাম জাতি দুনিয়ার বড় বড় অট্রালিকা বানিয়েছেন ইত্যাদি।বিজ্ঞান
ের নব নব আবিষ্কার আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে কোরআনে উল্লেখ করেছেন।পৃথিবীবাসীর অতীত ইতিহাস সুনিপুণ ভাবে তাতে বিধৃত হয়েছে।বিজ্ঞান,জ্ঞান ও সভ্যতায় খ্রীস্টীয় সপ্তম শতক ছিল সর্বকালের সেরা যুগ। ইসলামের সবর্ণ যুগ।
ইসলাম একটি যুক্তিসংগত জীবন ব্যবস্থার নাম।অতিপ্রাকৃত বা অস্বাভাবিক কোন পন্থা তার নীতি ও রাতি বিরুদ্ধ। ইহা আল্লাহ ও রাসুলের সুন্নাতের পরিপন্থী। আল কুরআন এমন একটি কিতাব যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।তা আল্লাহ সার্টিফাই করে কুরআনে বলে দিয়েছেন।সুতরাং আল কুরআনের বিশ্বাসযোগ্যতা কিংবা এর সত্যতা নিয়ে আমাদের প্রমাণের দায়ভার নয়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী রাসুল বা তার নেককার বান্দাহদেরকেও বিভিন্ন সময়ে বালা মুসিবত রোগ ব্যাধি দিয়েছেন।তিনি কুরানে বলেছেন,আমি ভয়-বিপদ,দারিদ্র্য -ক্ষুধা,জান-মালের ক্ষতি,মৃত্যু,আয়-উপার্জন কমিয়ে,ফসলের ক্ষতি দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করব।আমি বছরে একবার বা দুবার তোমাদের বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করি।তিনিও এও বলেছেন,কোন বালা মুসিবতই তার অনুমোদন ছাড়া আসে না।তিনি এসব দিয়ে কখনও পরীক্ষা করেন,কখনও সতর্ক করেন,কখনও গোনাহ মাফ করেন আর কখনও শাস্তি হিসেবেই দেন।আর এমন অবস্থায় সবর ও নামাজের মাধ্যমে তার কাছে সাহায্য চাওয়ার কথা বলেছেন।
আমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবন সর্বোত্তম আদর্শ। আল কুরআনের জীবন্ত রুপ রাসুলের জীবন।সুন্নাহ হল কুরআনের ব্যাখ্যা।মহামারি মোকাবেলায় আল্লাহর রাসুলের নির্দেশনা অত্যন্ত সাইন্টিফিক। আধুনিক বিজ্ঞানের লক ডাউন,সোসাল ডিস্টেন্সিং,কুয়ারেন্টিন,আইসোলে
শন,স্ট্যাট ইমারজেন্সী সবই হাদিস শতভাগ সমর্থন করে।একটি বিষয় খেয়াল করুন, জমীনে বিচরণশীল সব জাতিকেই আল্লাহ রিজেক দেয়ার কথা বলেছেন।আপনাকে জমিতে বীজ বপন করেই আল্লাহ চাইতে হবে।খালি মাঠে নয়।ঠিক তেমনি মহামারী কালে আল্লাহর কাছে ধরনা দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সতর্কতাই ইসলামের বড় শিক্ষা।
আমরা আল্লাহর দাস।দাসত্ব, উপাসনা,গোলামী ও আনুগত্য অর্থাৎ তার ইবাদত বন্দেগী এবং তার প্রতিনিধিত্ব করার উদ্দেশ্যেই মানব জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে।আমাদের শ্রদ্ধেয় আলেমগন অতি আবেগপ্রবণ হয়ে কিছু কথা বলে বিজ্ঞান,কুরআন আর ইসলাম কে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেন।ইসলামে মহামারী এবং সংক্রামক ডিজিজের ব্যাপারে যে কয়েকটি হাদিস আছে আপাত দৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী মনে হলেও ব্যাখ্যা পড়লে একে অপরের পরিপুরকই বুঝা যায়। তাই এ নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে নির্দেশনা ফলো করা জরুরী।হাদিসে রাসুল সাঃ সাহাবাদের বিভিন্ন নসিহত দিতেন।সেই সাথে তার ফলও বলে দিতেন।যেমন নিয়মিত কুরআন মজিদ তেলাওয়াত করলে আকাশরাজ্যে নাম উচ্চারণ হবে এবং জমীনে নুর হইবে।
কুরআনেও এভাবে বর্ণনা আছে।নামাজ একটি ফরজ ইবাদত।নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখে।ইহা মুমিন ও কাফেরদের মাঝে পার্থক্য তৈরী করে।নামাজ কায়েমের কথা আছে বার বার।উদ্দেশ্য জনগনের চরিত্র সংশোধন করা।হাদিসে নামাজ কে মুমিনদের মেরাজ ও জান্নাতের চাবি বলা হয়েছে।বিপদের সময় নামাজ পড়তে হবে।আল্লাহ সাহায্য করবেন ডেফিনিটলি।মহামারী তে মারা গেলে শহীদ।রাসুল বলেছেন।কিন্তু নামাজ পড়লে ভাইরাস আক্রান্ত হবেন না।হলে কুরআন ভুল।এ ধরনের ধৃষ্টতাপুর্ন ওয়াজ তারাই করতে পারে যাদের এ সম্পর্কে অজ্ঞতা আছে।নবীদের সাথে এমন উদ্ভট প্রশ্ন অতীতে বনী ইসরাইল রা আর কুরআন নিয়ে সমালোচনা আজকের যুগে চীনারা করেছিল।
চীন একটি ঐতিহাসিক সভ্যতার নাম।জ্ঞান-বিজ্ঞানে সব সময় উন্নত ও পারদর্শী ছিল।নবী মুহাম্মদ সাঃ জ্ঞানার্জনের জন্য সুদুর চীন দেশে যাওয়ার কথা বলেছেন।ইরান বিজয়ী সেনাপতি বিশ্ববিজয়ী বীর রাসুলুল্লাহর বিখ্যাত সাহাবী ও জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশ জন সাহাবীর একজন হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ চীনে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেছেন।চীন দেশেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি।তার নামে সেখানে বিশাল মসজিদ আছে।সে সময়ে চীনের বাদশাহ ইসলামের প্রচারে যথেষ্ট সহযোগীতা করেছেন।একটি বিষয় খেয়াল রাখুন,ইসলামের চুড়ান্ত যুদ্ধ হবে আহলে কিতাবের অনুসারী হলেও এরা অভিশপ্ত জাতি হিসেবে চিহ্নিত সেই ইহুদী গোষ্টীর সাথে।আর তাদের সাথে ফাইনালি হাত মিলাবে আহলে কিতাবের আরেক অনুসারী পথভ্রষ্ট জাতি খ্রিস্টানরা।ইতিহাস থেকে তা আমরা পাই।চীনে আবারো ইসলামের বিজয় পতাকা উড়বে।রাশিয়া এর বাস্তব উদাহরণ। তাই তায়েফ বাসীর মত চীন কে ঘৃণা না করে বলতে হবেঃএদের জ্ঞান দাও প্রভু,এদের ক্ষমা কর।
আমরা লক্ষ করছি, বিশ্বব্যবস্থায় একটি নতুন সভ্যতার আগমন ঘটতে যাচ্ছে।প্রকৃত পক্ষে নতুন একটি সিভিলাইজেশনের পদধ্বনি আমরা শুনতে পাচ্ছি।চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখানে কাজ করছে না। রোমান,পারস্য,চৈ
নিক,আমেরিকান,ভারতীয় পৌরানিক সভ্যতা কিংবা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী, সামন্তবাদী, পূঁজিবাদী, বস্তুবাদী সভ্যতার পতন কিংবা মৃত্যুঘন্টা দুয়ারে দাঁড়িয়ে।সময়ের ব্যাপার মাত্র।আগামীর লড়াই কিংবা যুদ্ধ হবে য়াহুদাবাদ তথা ইসরাঈলী দাজ্জালীয় সভ্যতা বনাম ইসলাম।নিউ ওয়ার্ল্ড ওর্ডারের ধ্বজা ধারী জায়নবাদী গোষ্ঠীর সাথে ইসলামের সংঘাত অনিবার্য।
মানব সভ্যতার উথ্বান বা পতন প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম।বিশ্বজনীন এক অমোঘ বিধান।পৃথিবীর ইতিহাস তার নির্মম সাক্ষী।সুুরম্য ইরাম নগরীও নাই,দুনিয়ার প্রভাবশালী বাদশাহ আল্লাহর প্রিয় বান্দা যুলকারনাইনের সেই প্রযুুক্তি কিংবা ইতিহাসের দাম্ভিক শাসক ফেরাউনের পিরামিড প্রযুুক্তিও আর নাই।আসলে ঐতিহাসিক সেই অভাবনীয় ,অসাধারণ কৌশল ও প্রযুুক্তি ছিল সৃষ্টিকুল/ মানব জাতির জন্য সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন।
সুতরাং সভ্যতার এ ক্রান্তিলগ্নে সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতা ও পাশবিকতাধর্মী গোষ্ঠীগত রাজনীতি পরিহার করে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসুন।ইসলামের বিশ্বজনীন মানবতাবাদী ও সাম্যের দীক্ষায় শিক্ষিত হোন।

You may also like

Leave a Comment