ভারতীয় বিচারকের আপত্তি উপেক্ষিত

by News Room
অনলাইন ডেস্ক:

সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতের পাঁচ বিচারকের অন্যতম ছিলেন ভারতের প্রেমারাজু শ্রীনিবাসা রাও। তিনি দেশটির ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি যুক্তিতে আপত্তিপত্র দেন। কিন্তু তার এই আপত্তিপত্র ৫-১ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশি আদালত (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন-পিসিএ) সোমবার বাংলাদেশ-ভারতের সমুদ্রসীমা নিয়ে ওই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাংলাদেশ ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা পেয়েছে।উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণ এলাকা ছিল প্রায় ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটার।

সালিশি ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ছিলেন জার্মানির রুডিগার উলফ্রাম, ফ্রান্সের জ্যঁ-পিয়েরে কত, ঘানার টমাস এ. মেনশাহ, অস্ট্রেলিয়ার ইভান শিয়ারার ও ভারতের প্রেমারাজু শ্রীনিবাসা রাও। প্রেমারাজু শ্রীনিবাসা রাও বাদে বাকি চার বিচারক বাংলাদেশের পক্ষে একমত ছিলেন। ৪-১ ভোটে বিচারকরা প্রেমারাজু শ্রীনিবাসা রাও আপত্তিপত্র প্রত্যাখ্যান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে বৈদেশিক কৌঁসুলি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পল রাইখলার ও লরেন্স মার্টিন, যুক্তরাজ্যের জেমস ক্রফোর্ড, ফিলিপ স্যান্ডস ও এলান বয়েল এবং কানাডার পায়াম আখাভান ছিলেন।

আদালতের কার্যবিধি অনুযায়ী, গত জুন মাসে রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু তা বিলম্বিত হয়। স্থায়ী সালিশি আদালতে ২০১৩ সালের ৯ থেকে ১৮ ডিসেম্বর সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পক্ষে বাংলাদেশ ও ভারত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

এদিকে এ রায় মেনে নিয়েছে ভারত। বিকালে ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের প্রতি ভারত সরকারের শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং আমরা ওই রায় ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বিষয়ে সমাপ্তি টেনে সমুদ্রসীমা নিয়ে ঘোষিত এই মীমাংসা ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার করবে। এর ফলে বঙ্গোপসাগরের এই অংশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রসারিত হবে, যাতে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

You may also like

Leave a Comment