ইয়াহইয়া আহমদঃ বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে বাদ দিয়ে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে সাখাওয়াত হোসেন জীবনকে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ইলিয়াস আলীকে বাদ দিয়ে জীবনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হলে তা হবে আত্মঘাতি। বিশেষ করে ‘ইলিয়াস আলী’ শুধু দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নয়, আমজনতার আবেগেরও বিষয়। তাই তাকে বাদ দেয়া হলে চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই ইলিয়াস আলীকে বাদ দিয়ে নয়। বরং ইলিয়াসকে রেখে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে অন্য যে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হলে দলের জন্য-ই মঙ্গল। এমন বক্তব্য তুলে ধরেন জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা। শুধু তাই নয়। ইলিয়াসকে বাদ দেয়ার বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা দলীয় ফোরামে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এদিকে, সিলেটের নেতারা জানান, তারা কারো পদ পদবীর বিরুদ্ধে নয়। তবে আন্দোলনের স্বার্থে ইলিয়াস আলীকে যথাযথ সম্মান দিয়ে যে কাউকে দায়িত্ব দিলে তাদের আপত্তি নেই। সুনির্দিষ্টভাবে দলীয় কোন সিদ্ধান্ত ছাড়া শুধু পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না- এমনটাই মনে করেন বিএনপির কিছু নেতা। জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন, আদৌ ঘটনা ঠিক কি না বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ইলিয়াস আলীকে বাদ দেয়া শুধু দুঃখজনক হবে না, দলের জন্য আত্মঘাতিও হতে পারে। তিনি ইলিয়াস আলীকে রেখে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে যে কাউকে দায়িত্ব দিলে দলের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন। ইলিয়াস আলীর সংসদীয় আসন বালাগঞ্জ বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ইলিয়াস আলী সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা। দলের জন্যই তিনি নিখোঁজ হয়েছেন। তাই তাকে বাদ দেয়া উচিত হবে না। এতে আন্দোলনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। বরং তাকে রেখে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যে কাউকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ইলিয়াস আলীকে বাদ দেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন সংবাদ আমাদের কাছে নেই। ইলিয়াস আলী শুধু দলের নেতা নয়, সিলেটের মানুষের আবেগের স্থানও। তাই দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিষয়টি মাথায় রেখে যে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি মনে করেন।
জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, দলীয়ভাবে কোন সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। শুধু পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তি করে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
উল্লেখ্য, আগামী ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী নিখোঁজের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ী চালক ভাইপো আনসার আলী নিখোঁজ হন। এ ঘটনা নিয়ে দেশ বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দলীয় এক বৈঠকে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব ইলিয়াস আলীকে বাদ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জীবনকে দেয়া হয় বলে খবর প্রকাশ হয়। এরই জের ধরে সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিএনপির নিখোঁজ ইলিয়াস আলীকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে: নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
125
