বর্ষার সন্ধ্যায় ভাটির সংগ্রামী শ্রীকান্ত দাশকে স্মরণ written by News Room July 12, 2026

বর্ষার সন্ধ্যায় ভাটির সংগ্রামী শ্রীকান্ত দাশকে স্মরণ

by News Room

এই ঘনঘোর বর্ষার সন্ধ্যায় নগর সিলেটে যেনো জীবন্ত হয়ে ওঠলেন ভাটি অঞ্চলের শিল্পী-সংগ্রামী, মুক্তিযোদ্ধা শ্রীকান্ত দাশ; যিনি মারা গেছেন ১৭ বছর আগেই, ২০১৯ সালে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বৃষ্টিমগ্ন সন্ধ্যায় সিলেটে আয়োজিত হয়- ‘শ্রীকান্ত দাশ অবলোকন: সংগ্রাম-সংস্কৃতি ও মানবমুক্তি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
এভাবে বললে নগরের নতুন প্রজন্মও তাকে চিনতে পারবে, বলা ভালো আরেকটু রিলেইট করতে পারবে-শ্রীকান্ত দাসই প্রথম ব্যক্তি এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র, যিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে মরনত্তোর দেহদান করেছেন।
তবে এটি একটি ঘটনা মাত্র, তার পরিচয় নয়, শ্রীকান্ত দাশের পরিচয় তার আজীবন সংগ্রামে। মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী-সংগ্রামী, সংঘঠক- এমন আরও অনেক পরিচয়ই দেয়া যায়।
শ্রীকান্ত দাশের জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে নিয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে অভ্র প্রকাশন। অভ্র সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শ্রীকান্ত দাশকে নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক, অনুবাদক মিহিরকান্তি চৌধুরী।
শ্রীকান্ত দাশ অবলোকন: সংগ্রাম-সংস্কৃতি ও মানবমুক্তি’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধে শ্রীকান্ত দাশের প্রসঙ্গে তিনি লিখেন- ‘শ্রীকান্ত দাশ সেইসব মানুষদের একজন, যাঁদের জীবন বুঝতে হলে প্রচলিত ইতিহাসেই বাইরে তাকাতে হবে। তিনি এমন কোন ব্যক্তি নন, যাঁর পরিচয় রাষ্ট্রক্ষমতা, সরকারি পদ, নির্বাচনী রাজনীতি কিংকা প্রশাসনিক কর্তৃত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর পরিচয় নির্মিত হয়েছে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরলস সাংগঠনিক কাজ, কৃষক আন্দোলনের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, গণসংস্কৃতির বিকাশ এবং অসাম্প্রদায়িক মাববিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে। ফলে তাঁর জীবনকে মূল্যায়ন করার জন্য প্রচলিত রাজনৈতিক-জীবনী রচনার কাঠামো যথেষ্ট নয়। তাঁকে বুঝতে হলে সমাজের নীচুতলার ইতিহাস, আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের জীবনজগতের দিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তাকাতে হবে।’
লেখক-গবেষক ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল।
প্রধান অতিথিব বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রীকান্ত দাশ বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী।  তাঁর কর্মক্ষেত্র নানা দিকে বিস্তৃত। তিনি একাধারে রাজনৈতিক নেতা, শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠক। তার মাধ্যমেই শাল্লায় উদীচী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিপ্লবী রাজনীতির কারণে তিনি জীবনের একটা বড় সময় পালিয়ে বেড়িয়েছেন। তবু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
জহিরুল হক বলেন, শ্রীকান্ত দাশ তাঁর পরিবারকেও নিজ আদর্শে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর স্ত্রী ছায়া রানী দাসও মরনোত্তোর দেহদান করেছেন। সন্তানরাও একই আদর্শ ধারণ করে পথ চলছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, শ্রীকান্ত দাশের জীবন ত্যাগ ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদারহণ। একই শিল্পী, গীতিকার হিসেবেও তিনি অবদান রেখেছেন। সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও মানবিকতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিলো তাঁর মধ্যে। তিনি আমাদের সমাজের বাতিঘত স্বরূপ।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মার সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক, এডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, শিক্ষক পার্থ সারথী দাশ।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন, কবি ও কলেজ শিক্ষক রাজেশ কান্তি দাশ, আজমিরীগঞ্জ কলেজের শিক্ষক মানিক চৌধুরী, সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী, লেখক, এডভোকেট সুব্রত দাশ। পরিববারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শ্রীকান্ত দাশের ছেলে সুশান্ত দাশ এবং নাতনী দিপা দাশ।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী বিমান তালুকদার, বিমলেন্দু দাশ ও মুগ্ধ দাশ। কবিতা আবৃত্তি করে প্রিয়ন্তী দাশ।-বিজ্ঞপ্তি

You may also like

Leave a Comment