পাসপোর্ট করে বিদেশ যাওয়া হলো না সুলতানের

by News Room

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি; ঘাতক বাস কেড়ে নিলো স্বপ্নবাজ সুলতানকে। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরা হলোনা সুলতানের। লাশের খাটিয়ায় বাড়ি ফিরতে হলো তাঁর। কথা ছিল পাসপোর্ট করে বিদেশ গিয়ে দিনমুজর বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে সে। যমদূত যে বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে সে খবর কি জানা ছিল সুলতানের। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পিতা আনর আলী।যাকে ঘিরে এতো কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় সেই আদরের সন্তানকে হারিয়ে শোক সাগরে অসহায় পিতা। কার কাছে বিচার চাইবেন। কোথায় গেলে সন্তান হারানোর শান্তনা মিলবে আনর আলীর। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আহসান মারা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত হয় সুলতান মিয়া (২০) নামে এক যুবক। নিহত সুলতানের বাড়ি উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগের সাপেরকোনা গ্রামে।

মঙ্গলবার সকালে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সিলেট-ব ১১০০২৮ নামের একটি বাস। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আহসান মারা এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ১ জন নিহত অন্তত ৫ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে সুনামগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আহসানমারা এলাকার সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এসময় অনেক যাত্রীবাস থেকে বের হয়ে আসেন। বাস থেকে বের হয়ে আসার সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন। বাসের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় এক যাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ইউনিট। হাসপাতালে নিয়ে গেলে উদ্ধারকৃত যাত্রী সুলতান মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্বব্যরত ডাক্তার।

নিহত পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সুলতান সিলেটের একটি ভেকারীতে কাজ করতো। বাবা আনর আলী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শরীফপুর এলাকার শরীফ ব্রিকস এর প্রহরী দায়িত্ব পালন করেন। দিনমজুর আনর আলীর ১ ছেলে ছোট ছোট ৫ মেয়ে রয়েছে। ছেলে সুলতান ও তাঁর আয়ের টাকা দিয়েই কোনো রকম সংসার চলে আসছিল। ছেলে বিদেশ পাঠানোর কথা ছিল। তাই পাসপোর্ট করানোর জন্য ৫ দিনের ছুটি নিয়ে মঙ্গলবার বাড়ী ফিরছিল সুলতান। সকালে ফোন করে মাকে বাড়িতে আসার কথা জানিয়েছিল সুলতান। সুলতান বাড়িতে ঠিকই আসলো তবে লাশ হয়ে। বিদেশ যাওয়া হলো না সুলতানের। সুলতানের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘাতক চালককে সনাক্ত করে অসহায় পরিবারের ক্ষতিপূরণের দাবি করেন তারা।

ঠাকুরভোগ গ্রামের আব্দুল বাসির বলেন, সুলতান বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসছিল সে। বাড়ীতে ঠিকই আসলো তবে লাশ হয়ে আসলো সে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে অসহায় হয়ে গেল পরিবারটি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, সুলতান আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর বাবা একজন দিনমজুর। সেই একমাত্র ছেলে আনর আলী। ছোট ছোট ৫ টি মেয়ে রয়েছে আনর আলী। ঘাতক বাস এভাবে তাঁর পরিবারকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিবে তা কল্পনাও ছিলনা। ঘাতক চালকের বিচার চাই। নিঃস্ব পরিবারটি ক্ষতিপূরণের দাবি করছি।

দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি মো. মোক্তাদির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সুলতান নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

You may also like

Leave a Comment