গোলজার আহমদ হেলাল:পরীকে দোষারোপ করে কোন লাভ নাই। পরীমণি মেধা ও প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে আজকের “পরী” হয়েছে। পরীমণির জীবন, যৌবন ও সম্মান কে যারা নষ্ট করেছে তাদের কে ফ্রন্ট লাইনে নিয়ে আসুন। অজোপাড়া গাঁয়ের পিতৃহীন ও মাতৃহারা “স্মৃতি” বেদনা ও শোকময় জীবনকে ডিঙিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন। এটা রূপকথার কোন গল্প নয়। তবে রূপকথাকেও হার মানায়। এটা তার নিয়তি ও কর্মের সাধনার ফসল। তাই রাতের রাণী, এই সেই এগুলো কটাক্ষ না করে প্রকৃত বিষয় নিয়ে ভাবুন। পচনশীল সমাজের নষ্ট কারিগরদের নিয়ে ভাবুন। পরীকে হেয় করে তাঁর সম্মান ও ইজ্জতে আঘাত করা যাবে, কিন্তু বিকলাঙ্গ সমাজকে শোধরানো যাবে না।
আইন বলে ইনোসেন্ট, A person is innocent until proven guilty. যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ প্রমাণ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি কেবল অপরাধের জন্য অভিযুক্ত, দোষী নয়।
ক্যামেরা ট্রায়ালে ফাঁসী
মিডিয়া ট্রায়ালে দোষী।
রাজনৈতিক দলে শুদ্ধি অভিযান
দূর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান
জঙ্গী বিরোধী অভিযান
ক্যসিনো বিরোধী অভিযান
মাদক বিরোধী অভিযান
এবার শোবিজে
এবার টার্গেট পরীরা!
মব এবং মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে পরীকে অপরাধী সাজানো হচ্ছে।
বিচারক পরীকে নির্দোষ ভেবেই ট্রায়াল শুরু করবেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষকে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত করতে হবে। অভিযোগের সপক্ষে সাক্ষ্য লাগবে। জব্দকৃত মালামাল ও দ্রব্য’র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী।
সাধারণ নিরস্ত্র একজন নাগরিকের বাসায় এত বিপুল সংখ্যক ফোর্স অভিযানে কেন গেল, মিডিয়াকে পরীর বাসায় প্রবেশে বারণ, পরীর লাইভ, পরীকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এত উৎসাহী প্রতিবেদন, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া মানে ডামেস্টিক মিডিয়ায় যা সম্প্রচার হয় একসাথে ছেলে মেয়ে কে নিয়ে তা দেখতে বাঁধ সাধে, পরীর মা বাবার মরণ কাহিনী ও তার বেড়ে উঠা নিয়ে মুখরোচক প্রতিবেদন সব মিলিয়ে আইন ও মানবাধিকার কি বলে চমৎকার ভাবে বর্ণণা করা হয়েছে বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত ফারজানা হুসাইনের আর্টিকেলে।
এমনিতেই মানুষ মিডিয়া কর্মীদের খারাপ ভাবে। কিন্তু মিডিয়া কর্মীদের অনুষ্ঠান কিংবা বিনোদন উপভোগের সময় কেউ পিছিয়ে নেই। কোন নায়ক কিভাবে চুল কাটে, কোন নায়িকার ড্রেস কি তা গ্রহণ করতে দ্বিধা নাই আবার। ফ্যশনেবল ডিজাইনের অগ্রপথিক এই শিল্পীরা। আজব বাংলাদেশ। চলচ্চিত্র শিল্প কে আরো নেতিবাচক করে তোলা হচ্ছে জনমনে।
শিক্ষার্থী Mahbub Alom যথার্থই লিখেছেন, “পরীমনিকে যেসব অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সেসকল অভিযোগ বাংলাদেশের আইনে অপরাধ নয়। মদপান,ক্লাব,বা একাধিক বিবাহ এগুলো বাংলাদেশে শর্তসাপেক্ষে বৈধ এবং অনুমোদিত। পরীমনিকে নিয়ে অধিকাংশ মিডিয়ার একচেটিয়া নিউজ প্রমাণ করে তিনি একটি মহলের আক্রোশের শিকার।
বাংলাদেশে দূর্নীতির যেসব মহড়া চলছে এর চেয়ে জঘন্যতম অপরাধ আর কী হতে পারে? এবং এসকল দূর্নীতির গডফাদাররাই মদপান,ইয়াবা,আ্যলকোহল বা নাইটক্লাবের সাথে জড়িত। কোনো কারণে কারো অপরাধ ভাইরাল হলে দেখা যায় একেকজনের অপরাধ পাহাড়সম। তারা কিন্তু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাহলে পরীমনি কেন?
তবে পরীমনির কর্মকাণ্ডগুলো অবশ্যই সামাজিক বা ইসলামিক আইনে নিন্দনীয়।৷ তার এসব উশৃংখল চলাফেরা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। আমি শুধু এতটুকুই ভাবছি। তার এসকল অপরাধ বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে কিছুই নয়। সে অবশ্যই একটি মহল বা ব্যক্তিগত আক্রোশপ্রসূত গ্রেফতার হয়েছে।”
মানুষ অপরাধ করতেই পারে। তার জন্য আইন আছে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মসম্মাণ ও অধিকারকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আত্মসম্মাণ ও অধিকার হরণকারীদের প্রমোট করা যায় না।
আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মী ফারজানা হুসাইনের চমৎকার নিবন্ধ…… পড়ে নিতে পারেন।
https://www.banglatribune.com/695002/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0?fbclid=IwAR3cGcoUzLay8wF5QKz2-Ks-aPwpXUleMYzAQUpAoKlgTks1GJbaxSs8IbU
