সিলেটের খবর ডেস্ক:গত ২৬ জুন মধ্যরাতে রাজধানীর কলাবাগানে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাগ্নে ওবায়দুল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রী তাসমিন খাদিজা সোনিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তারের পর তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়েছে। এছাড়াও, এ হত্যাকাণ্ডে সোনিয়ার প্রেমিক রুবেল ও পাপ্পু নামে তার এক ভাগ্নেকে খোঁজছে পুলিশ।
শুক্রবার সোনিয়াকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম। ইতোমধ্যে রুবেলের দুই ভাগ্নে মাহমুদুর হাসান মিঠু ও তানভীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাশরেকুর রহমান জানান, সোনিয়া ও রুবেলের পরিকল্পনায় ওবায়দুলকে হত্যা করা হয়। রুবেল ও তার দুই ভাগ্নে মিঠু ও তানভীর এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় মটরসাইকেলের সামনে ছিলেন মিঠু, মাঝে রুবেল ও পেছনে তানভীর। তানভীরই ওবায়দুলের কাছ থেকে তার ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে মাথা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।গত ২৬ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সার্কুলার রোডের বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান থানার কাছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওবায়দুল। পরে রাতে আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।ওবায়দুল চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাগ্নে এবং তার মালিকানাধীন সানোয়ারা গ্রুপের ড্রিংকস অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক ছিলেন। পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ছিল তার অফিস। ওবায়দুল সার্কুলার রোডে তার বাড়িতেই থাকতেন।ওবায়দুলকে হত্যার রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামিকরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গিয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে রুবেলের দুই ভাগ্নে মিঠু ও তানভীরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা থেকে প্রথমে মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পাবনা থেকে তার ভাই তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর দুজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।জানা গেছে, রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে (স্নাতক) পড়ার সময় সোনিয়ার সঙ্গে রুবেলের প্রেম হয়। দুই পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে ওবায়দুল হক ও সোনিয়ার বিয়ে হয়। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বিয়ের পরেও সোনিয়া ও রুবেল নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। সম্পর্কের এক পর্যায়ে তারা ওবায়দুলকে হত্যা করে ঘটনাকে ছিনতাই বলে চালিয়ে দিয়ে পরে নিজেরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।উপকমিশনার মাশরেকুর জানান, সোনিয়া ও রুবেলের পরিকল্পনায় ওবায়দুলকে হত্যা করা হয়। সোনিয়া রুবেলকে এজন্য ৬০ হাজার টাকা দেয় অস্ত্র কিনতে। পরে অস্ত্র কিনে রুবেল তার তিন ভাগ্নেকে ওবায়দুলকে হত্যা করতে অনুরোধ করে।গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাশরেকুর বলেন, ‘ওবায়দুলের স্ত্রী, তার প্রেমিক ও ভাগ্নেরা এ হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করে একে নিছক ছিনতাই বলে প্রচার করতে চেয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিন ভাগ্নেকে নতুন মোবাইল সিম কেনার পরামর্শ দিয়েছিলেন রুবেল।’উপকমিশনার মাশরেকুর রহমান জানান, ওবায়দুল খুন হওয়ার পর শ্বশুর বাড়িতেই ছিলেন সোনিয়া।তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দারা হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি চট্টগ্রামের ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে জ্বর নিয়ে ভর্তি হন। পুলিশ চট্টগ্রামে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে আশঙ্কায় হাসপাতাল থেকেও পালিয়েছিলেন তিনি।’
