বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেছেন,“উনি সংবিধান বানান করতে পারেন কি না আমার সন্দেহ আছে। অথচ উনি লন্ডন থেকে আমাদের একটা বাণী শুনিয়ে দিলেন, বাহাত্তরের সংবিধান জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়।”
আইনমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া সম্ভব।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘বাহাত্তরের সংবিধান বাংলাদেশের অস্তিত্বের দলিল’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি।
আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন,“বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল একটি গোষ্ঠীর অশ্রদ্ধা আছে। আমাদের সেই অবস্থা থেকে এই সংবিধানকে রক্ষা করতে হবে। সে জন্যই আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরো অভিযোগ করেন, পাকিস্তানি ও সামরিক আর্দশ প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট চেষ্টা করছে।
বাহাত্তরের সংবিধানের আদর্শ ও চেতনায় ফিরে যাওয়া সম্পর্কে আনিসুল হক বলেন,“আমার বিশ্বাস, আমরা পুরো পাঁচ বছর সরকার চালাতে পারলে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া যাবে। সম্পূর্ণভাবে না পারলেও অনেকটা এগিয়ে যাওয়া যাবে।” তিনি মনে করেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা, প্রয়োজন, বিশ্বাস ও অধিকারের কথা লেখা আছে বাহাত্তরের সংবিধানে।
আনিসুল হক বলেন,“জনগণের হাত শক্ত হলেই আমরা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরতে পারব। জনগণের হাত দুর্বল থাকলে বাহাত্তরের কেন, কোনো সংবিধানে আমরা যেতে পারব না। আমরা হয়তো দেশই হারাব।”
আইনজীবী আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ, এ এম আমিন উদ্দিন, শ ম রেজাউল করিম, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি শেখ আখতার উল ইসলাম প্রমুখ।
