জাপানিজ মায়ের দুই কন্যার ঠাঁই হলো ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক:অবশেষে জাপানিজ মায়ের সেই দুই কন‌্যাশিশুর ঠাঁই হলো পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। সোমবার (২৩ আগস্ট) আদালতের আদেশে তাদের তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পালা করে দুই শিশুর আদর, স্নেহ ও যত্ন করবেন বাবা ও মা।

এর আগে ১০ ও ১১ বছরের ওই দুই কন্যাশিশুকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) উদ্ধার করে। তাদের উদ্ধারের পর সোমবার শিশুদের মায়ের আইনজীবী এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মাকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের বাবা সময় কাটাতে পারবেন বলে আদালত আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি সমাধানে উভয় চেষ্টা করেন সে আদেশ দেন আদালত।

এর আগে শিশু দুটিকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপারের মুক্তাধরের নেতৃত্বে এক অভিযানে উদ্ধার করা হয়। পরে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের আদালতে হাজির করে সংস্থাটি।

আদালতের আদেশের পর ওই দুই শিশুকে তেজগাঁও থানা সংলগ্ন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের বাবা-মার আদর, যত্নের সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে তারা যেন সার্বক্ষণিক হাসিখুশি এবং ভালোভাবে দিন কাটাতে পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সাপোর্ট সেন্টার থেকে জানানো হয়।

এর আগে ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট দুই শিশুকে হাজির করতে তাদের বাবা ও ফুফাকে নির্দেশ দেন।

জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকো পেশায় চিকিৎসক। গত ১৯ আগস্ট হাইকোর্টে দুই সন্তানকে ফিরে পেতে আইনজীবীর মাধ্যমে রিট আবেদন করেন। তাদের বাবা বাংলাদেশি শরিফ ইমরানের কাছে সন্তানরা আছে বলে তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন।

আদালত ওই দুই শিশুর নিকট স্বজনসহ গুলশান ও আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) শিশুদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। এছাড়া শিশুদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাদের বাবা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, জাপানি আইন অনুসারে এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শরীফ ইমরান ২০০৮ সালে ১১ জুলাই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তারা টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। এক যুগের দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তাদের তিন মেয়ে টোকিওর একটি স্কুলে পড়াশোনা করছিল। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান।

সোমবার বিকেলে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) লায়লা ফেরদৌসী  বলেন, ‘আদালতের আদেশে শিশু দুটিকে সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা এখানেই থাকবে। সেজন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

সুত্র:রাইজিংবিডি

You may also like

Leave a Comment