ছাতক - দোয়ারায় নির্বাচনী হাওয়া, মাঠে নবীন প্রবীণ প্রার্থীদের তৎপরতা

by News Room

স্টাফ রিপোর্টার : ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ ৫ সংসদীয় আসন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনে সম্ভাব‍্য প্রার্থীদের নিয়ে হাট বাজার চায়ের স্টলে চলছে আলোচনা পর্যালোচনা।

চব্বিশের ছাত্র জনতার গণ অভ‍্যুত্থানে আওয়ামীলীগ রাজনীতির মাঠ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এখন নির্বাচনী মাঠে বিএনপি এবং জামায়াত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। আওয়ামী বিহীন বাংলাদেশে বিএনপির এক সময়ের মিত্র জামায়াত এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি। পাশাপাশি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, এনসিপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও রয়েছে বেশ তৎপর। সারা দেশের ন‍্যায় একই অবস্থা ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সম্ভাব‍্য মনোনয়ন প্রত‍্যাশি হিসাবে মাঠে তৎপর রয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী। আর ইতিমধ্যে এই আসনে জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানীর নাম ঘোষনা করেছে দলটি। অন‍্যান‍্য দলের প্রার্থীদের নাম তেমন আলোচনায় না আসলেও সম্প্রতি প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার জরিপে সম্ভাব‍্য এমপি প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছে ইসলামপুর ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এডভোকেট সুফি আলম সোহেলের নাম। দুই উপজেলার প্রত‍্যন্ত অঞ্চলে তার বিলবোর্ড পোষ্টার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। এরপর থেকেই তিনিও রয়েছেন পুরোদমে আলোচনায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন সাবেক এমপি মিলন অথবা মিজান চৌধুরী যেকোন একজন পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে মাওলানা মাদানীও এখন মাঠে সরব। তবে অতীতের ভোটের পরিসংখ্যান বলছে নৌকা না থাকায় এই আসনে ধানের শীষের বিজয় প্রায় নিশ্চিত। অপরদিকে গোয়েন্দা রিপোর্টে জামায়াতের আরেকজন সম্ভাব‍্য প্রার্থী হিসাবে এডভোকেট সোহেলের নাম আসার পর থেকে তরুণ জনপ্রিয় নেতা হিসাবে তিনিও রয়েছেন আলোচনায়। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির নতুন যেকোনো নির্বাচনী মেরুকরণে এডভোকেট সোহেল অন্য কোন জোট থেকেও প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। যদিও তিনি তা উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে গত কয়েক দিন থেকে সাবেক সিলেট মহানগর শিবির নেতা বতর্মান ইউরোপ জামায়াতের নেতা ইউসুফ চৌধুরী সানীও
সুনামগঞ্জ ৫ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হতে ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন তার সমর্থকরা। আবার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বতর্মান যুক্তরাজ‍্য প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক নব গঠিত এবি পার্টি অথবা এনসিপি থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে শুনা যাচ্ছে। তবে শিক্ষাবিদ আইউব করম আলীও এনসিপির প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

ছাতক-দোয়ারার নির্বাচন নিয়ে সরেজমিনে বেশ কয়েকজন নাগরিকদের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। আলাপকালে তারা জানান, নির্বাচনী আলাপ আলোচনা জমে উঠছে। তবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নৌকা না থাকায় ছাতক দোয়ারাবাজারে একটি অসম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যদি আওয়ামীলীগ নির্বাচনে না আসে আর ইসলাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল যেকোন দল থেকে প্রার্থী হন তাহলে এই আসনে ধানের শীষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠতে পারেন সোহেল। এবং গোয়েন্দা রিপোর্টেও বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব আলোচনা পর্যালোচনাকে জনগণের ভালবাসা বলে আখ‍্যায়িত করে চেয়ারম্যান এডভোকেট সুফি আলম সোহেল জানান, আমি যেহেতু জনগণের রাজনীতি করি জনগণ যেহেতু আমাকে ভালবাসেন তারা তাদের স্বপ্ন ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতেই পারেন। আমি এই অঞ্চলের মানুষের কল‍্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে আমাকে নিয়ে মানুষের প্রত‍্যাশা থাকতেই পারে। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের কথাও আমি শুনেছি। তবে শেষ কথা হলো যেহেতু আমি একটি আদর্শ লালন করি সেহেতু আমার অভিভাবক এবং আমার জনগণের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। জনগণের প্রত‍্যাশা আলোচনা পর্যালোচনাকে আমি সম্মান জানাই।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানী নির্বাচনী প্রচারণাকালে একটি বক্তব্যে বলেন, জামায়াত গত কয়েকটি নির্বাচনে আমাকে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে কিন্তু আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পারিনি। এবছর আমি নির্বাচনে অংশ নিব জনগণের ভোটে বিজয়ী হবো।

জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক এবং দোয়ারাবাজারে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই শক্তিশালী। সুনামগঞ্জ জেলার যেকোন উপজেলা থেকে এই দুই উপজেলায় জামায়াত, শিবির, শ্রমিককল্যাণ ও মহিলা জামায়াত সহ জামায়াত ঘরনার দলীয় ভিত্তি মজবুত রয়েছে সেই সাথে আছে গণভিত্তি। তাই ধানের শীষের সাথে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং জামায়াতের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন।

অপরদিকে একাধিক নাগরিকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে স্থানীয় আওয়ামীলীগ প্রবাসী আইউব করম আলীকে অন্য যেকোন দলের ব‍্যনারে নির্বাচনী মাঠে নামাতে পারে। তাহলে আওয়ামীলীগের ভোট ব‍্যংক তার বাক্সে গেলে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যেতে পারেন।
আবার আইউব করম আলীকে স্বৈরাচার হাসিনার দোসর আখ‍্যায়িত করে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত গণ অভ‍্যত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দলগুলার নেতারা বলছেন ফ‍্যসিবাদের কোন দোসরদের মেনে নেওয়া হবেনা।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ছাতকের আহবায়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, নির্বাচনী রোডম‍্যাপ ঘোষনা হলে দেশে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ হবে। নতুন নির্বাচনী জোট হবে। সুতরাং গণ অভ‍্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দল হিসেবে এনসিপি জনগণের কাছে যাবে নির্বাচনে অংশ নিবে। আমাদের বেশ কয়েকজন তরুণ মেধাবী মনোনয়ন প্রত‍্যাশী রয়েছেন। তারা মাঠেও কাজ করছেন। তবে কোন অবস্থাতেই ফ‍্যসিবাদের কোন দোসরদের জায়গা হবেনা।

বিএনপি নেতারা ছাতক দোয়ারাবাজারে নির্বাচন নিয়ে আপাতত দলীয় কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে একাধিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এই আসনে বিএনপি দু ভাগে বিভক্ত। দল যাকে ধানের শীষ বরাদ্দ দিবে দলীয় নেতা কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে থাকবে। আর গণতান্ত্রিক পন্থায় যেকোন দল যেকোন মানুষের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। নির্বাচনে আমরা সবাইকে প্রতিযোগি মনে করি।

You may also like

Leave a Comment