ঘুরে দাঁড়াতে চায় “দেউলিয়া” সিলেট বিএনপি

by News Room
সাইফুর তালুকদার:

স্থানীয়ভাবে যোগ্য নেতৃত্বের সংকটে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়েছে সিলেট বিএনপি। অবস্থা এমন যে রাজপথের আন্দোলনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতেও খুঁজে পাওয়া যায় না অন্যতম বৃহত্তর এই দলটির নেতাকর্মীদের। ধীরে ধীরে ফটোশেসনেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে সিলেট বিএনপির কর্মসূচি। এজন্য ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মতোও কোন লোকও ছিল না সিলেট বিএনপিতে।

তবে, সম্প্রতি জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে আবারো এক প্লাটফর্মে দাঁড়াতে চাইছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এজন্য তৃণমূল কর্মীরা চাইছেন নেতৃত্বের পালাবদল।

সম্প্রতি সিলেট জেলা বিএনপির সব গ্রুপের নেতাদের একত্রিত করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তবে এই কমিটিকেও অনেকে বলছেন ‘সমঝোতার আহ্বায়ক কমিটি’। বহিষ্কৃত ও তিরস্কৃতদেরই নাকি কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও করছেন দলটির কয়েকজন নেতা।

জানা যায়, তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে একমাত্র ইতিবাচক দিক হচ্ছে কমিটিতে নিখোঁজ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদ্য সাবেক জেলা সভাপতি এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর সম্পৃক্ততা। যদিও তিনি উপযুক্ত মূল্যায়ন পাননি বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা। তবে তারা মনে করছেন ইলিয়াস পত্নীর নেতৃত্বেই আগামীতে গুছিয়ে উঠতে পারে দলটি। এই কমিটির মাধ্যমে ইলিয়াস পত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনার রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক অভিষেকও হয়েছে।
আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যেসব নেতা রাজপথে ছিলেন না এমনকি কর্মীদের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন ছিলেন, মামলার ভয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত সেসব সুবিধাভোগীরাই আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। আর বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে যেসব নেতারা জুলুম অত্যাচার উপেক্ষা করে আন্দোলন সফল করেছেন, গুম হওয়ার আতঙ্ক আর একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রাজপথে লড়েছেন, পাশে থেকে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখেছেন তাদের যথাযথ মূল্যালয় করা হয়নি।’

সিলেট বিএনপিতে নেতৃত্বের সংকট নতুন নয়। স্থানীয়ভাবে দলটিতে দীর্ঘ দিন একচ্ছত্র নেতৃত্ব ধরে রাখেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান। বর্ষিয়ান এ নেতার মুখের কথাতেই চলত সিলেট বিএনপি। এ নিয়ে অনেকের মনে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস ছিল না। সাইফুর রহমানের এই বলয় ভেঙে দেন ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের আলোচিত ছাত্রনেতা ও পরবর্তীতে সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী।

সিলেট বিএনপিত স্পষ্টত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর একচ্ছত্র আধিপত্য চলে আসে ইলিয়াস আলীর হাতে। তবে সাইফুর বলয়ের নেতারা ইলিয়াসের বশ্যতা না মেনে নতুন বলয় তৈরি করে চলতে থাকেন। উপযুক্ত নেতা না পাওয়ায় তাদের বলয় ওঠে আসতে ব্যর্থ হয়। সব বলয়কে এক কাতারে নিয়ে আসা আর সম্ভব হয়নি।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন তৎকালীন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। দুই গ্রুপেই নেতৃত্ব সংকটের কারণে মাঝারি সারির প্রভাবশালী নেতারা প্রত্যেকেই নিজেদের শীর্ষ নেতা দাবি করতে শুরু করেন। এক সময় সিলেট বিএনপির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরীর হাতে। বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তিনিও গ্রহণযোগ্যতা হারান নেতাকর্মীদের কাছে।

সর্বশেষ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর এখন সকল গ্রুপকে সঙ্গে নিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে চাচ্ছেন দলটির নেতারা। তারা যে কোন মূল্যে ঐক্য চান সিলেট বিএনপিতে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করেছেন। এখন সিলেটে কোন গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই একই প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষে কাজ করছি।

You may also like

Leave a Comment