স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের খাদিমনগরে প্রবাসী এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়া গেছে। গত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টায় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে বাসায় অনধিকার জোরপূর্বক প্রবেশ করে ঘরের লোকজনকে ব্যাপক মারধর করে।নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। উক্ত ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিদ্দিক আহমেদের মাতা সুফিয়া খানম গতকাল শনিবার এসএমপি’র শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী(জিডি) করেন। যাহার নং১৬০৮, তারিখঃ ১৫/০২/২০২৫।তিনি জীবননাশের হুমকি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার বিষয়ে এ জিডি করেন বলে জানা যায়।
সুফিয়া বেগম জিডিতে উল্লেখ করেন, গত সোমবার রাতে কিছু অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তাদের হাতে থাকা অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে আমার বাসায় প্রবেশ করে। তারা আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আমার মালিকানাধীন ওয়েস্ট বি. হিল বিউ টাওয়ার, খাদিমপাড়া, সিলেট এর পাশেই ২ একর জমি তাদের নামে হস্তান্তর করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং সাথে আরও ৫০ লক্ষ টাকা নগদ চাঁদা দাবি করে। এছাড়া, তারা আমার ছেলে মোহাম্মদ সিদ্দিক আহমদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায় এবং তার ঠিকানা প্রদান করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। বিগত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ এবং বিগত ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ তারিখ একইভাবে তারা আমাদেরকে হুমকি প্রদান করে। এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং বর্তমানে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায়, আমি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনাও করছি, কারণ তারা আমার সম্পত্তি দখল করতে চায় এবং আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করছে। এর আগেও তারা আমার বাসায় এসে আমার ছেলেকে মারধর করে, যার ফলে সে মৃত্যুর মুখে পড়ে। নিজের জীবন বাঁচাতে সে বর্তমানে কানাডায় আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছে। উক্ত সন্ত্রাসীরা সমাজের প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যু চক্রের সদস্য, যারা রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে পরিচালিত হয় এবং প্রয়োজন মতো তাদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে।
জানা যায়, সন্ত্রাসীরা ভূমিদস্যু ।এরা বারবার হামলা করে জমির মালিকানা হস্তান্তরের জন্য বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর করা সহ পরিবারের লেকজনকে মারধর করে।ইতোপুর্বে ঐসকল সন্ত্রাসী কর্তৃক বড় ধরনের হামলার শিকার হয়ে জীবনের নিরাপত্তার জন্য সিদ্দিক আহমেদ দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়ে কানাডায় অবস্হান করেন।বর্তমানেও এরা সিদ্দিক আহমদের বাসায় হামলা করে পরিবারের লোকজনকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করছে। জীবন বাঁচাতে বার বার মোটা অংকের টাকা চাঁদা দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেছেন সিদ্দিক আহমদের পরিবার।
জানা যায়, সন্ত্রাসীরা হামলা করার পর একাধিক বার পুলিশ প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত করার পরও পুলিশ কোন ব্যাবস্হা নিচ্ছে না। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন ঐ পরিবারের সদস্যরা।
প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা বাসায় প্রবেশ করে পিস্তল ধরে সুফিযা খানম সহ পরিবারের সবাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।দুই একর ভুমি তাদের নামে মালিকানা হস্তান্তর করা সহ আরো ৫০ লক্ষ টাকা নগদ চাঁদা দাবী করে সন্ত্রাসীরা।এই সময় সন্ত্রাসীরা সিদ্দিক আহমদ কোথায় আছে জানতে চায় এবং তাঁর ঠিকানা প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করে।পরিবারের লোকজন সিদ্দিক আহমদের অবস্হান সম্পর্কে না বলায় সন্ত্রাসীরা পিস্তলের ফাঁকা গুলি ছুড়ে এবং বাসার ভেতর ভাংচুর করা সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত ভুমি জোরপু্র্বক দখল করার কথা ব্যাক্ত করে।
এসব অমানবিক নির্যাতনের শিকার সিদ্দিক আহমদের বৃদ্ধ মাতা সুফিয়া খানম মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
তাদের ভয়ে তিনি আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিনিও দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ সিদ্দিক আহমদের মাতা সুফিয়া খানমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিলেট শহরের পাশেই তাহার জায়গা সম্পত্তি রয়েছে। এখানকার হাউজিং অথরিটি তাহার এই সম্পত্তির নায্য মুল্য না দিয়ে দুই একর জমি জোরপুর্বক ভোগ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উক্ত ভুমির কিছুটা দখল করে ভূমিদস্যুরা বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মান করে রেখেছে। এই ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী কর্তৃক আরো বেশি নির্যাতিত হচ্ছেন।।
সুফিয়া খানম নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের জন্য ও নিজস্ব মালিকানাধীন ভুমি রক্ষার্থে প্রশাসনের উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন ও সহযোগিতা কামনা করেন।
জানা যায়, সন্ত্রাসীরা এর আগে গত ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মধ্যরাতে ভয়ংকর হামলা করেছিল সিদ্দিক এর বাসায়। তাদের দাবী পুরণ না করলে অস্ত্র ও পিস্তল দিয়ে প্রাণনাশের ভয়ভীতি সহ বাচ্চাদেরকে অপহরণ এবং মহিলাদেকে ধর্ষণ করার হুমকিও দিয়েছিল তারা। ঐদিন এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা সিদ্দিক আহমদের মাথা ও পিঠে গুরুতর আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্হায় প্রতিবেশীর সহযোগীতায় নগরীর নিকটস্থ হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।অতঃপর অনেকটা সুস্হ হওয়ার পর প্রাণভয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন। পরবর্তী সময় মোহাম্মদ সিদ্দিক আহমেদ জীবন রক্ষার্থে কানাডায় চলে যান।এই বিষয়ে সিদ্দিক আহমদের মাতা সুফিয়া খানম থানায় জিডিও করেন।তিনি পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ কোনধরনের সহযোগিতা করেনি।
এমনকি সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহরণের আশঙ্কায় সিদ্দিক আহমদের দুই সন্তান সাইয়ারা আহমেদ সারা ও জাহরা আহমেদ জারা স্কুল যাওয়া বন্ধ করেছিল।
এবং তাঁর স্ত্রী জাফরিন আক্তার আইভি জানের নিরাপত্তা ও ইজ্জতের ভয়ে গোপনে চলাফেরা করছেন।
এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, এই সকল সন্ত্রাসীরা চিহ্নিত ভূমিদস্যু চক্রের সদস্য। এরা প্রায়ই মুখোশ পরিধান করে হামলা করে। বিভিন্ন স্হানে চাঁদা দাবি করে অনেক অসহায় ও নিরীহ মানুষের জায়গা জমি ভোগদখল করতেছে।
স্থানীয় লোকজন জানান,সিদ্দিক আহমেদ সহ পরিবারের সকলেই শান্ত ও অত্যন্ত ভদ্র মানুষ।সিদ্দিক আহমেদ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর ছেলে এবং তাদের অনেক বেশি জায়গা জমি রয়েছে।।
এইসব বিশাল সম্পত্তিতে ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের কুদৃষ্টি পড়েেছে।সম্পত্তি ভোগদখলের লোভে সন্ত্রাসীরা সিদ্দিক আহমেদ সহ পরিবারের লোকজনের উপর বার বার হামলা করতেছে।তারা বলেন,নিজের এবং পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য সিদ্দিক আহমেদ কানাডায় চলে যান। তিনি আবার দেশে ফিরে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে,এমন আশংকা রয়েছে।সিদ্দিক ও তার পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো অত্যন্ত অমানবিক বলে উল্লেখ করেন এলাকার লোকজন।
