নিউজ ডেস্ক: সহাস্য, সদালাপী, সুশিক্ষক তথা আদর্শ শিক্ষক হিসেবে যার জুড়ি খোঁজে বের করা খুবই কঠিন তিনি হলেন মরহুম রশীদ আহমদ চৌধুরী।জীবদ্দশায় স্যার প্রথমে কয়েক বছর গোবিন্দশ্রী উচ্চ বিদ্যালয় ও পরবর্তি সময়ে ডি.এম. হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্য পড়ানোর যতগুলো যোগ্যতা প্রয়োজন তার তার চেয়ে ও অনেক অনেক বেশী যোগ্যতা নিয়েই পাঠদান করতেন তিনি। শ্রেণি কক্ষে স্যার যে টুকু সময় থাকবেন, সে সময়ে সকলকে হাসতেই হবে।স্যারের পাঠ বাড়িতে গিয়ে মুখস্ত করা ছাত্র খুঁজে পাওয়া মুশকিল।তিনি পড়াচ্ছেন না কি কোন কৌতুক বা নাটকের অভিনয় করছেন তা বলা মুশকিল। সামনের বেঞ্চ থেকে পেছনের বেঞ্চে বসা সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাঠগ্রহণ করত। যে কোন পরিস্থিতিতে, যেকোন লোক উনার সম্মুখে যেতে হলে অবশ্যই হাসি মুখে যেতে হবে।উনার দৃষ্টিগোচর হলেই কখন যে কি বলবেন তা আগে অনুমান করা খুবই কঠিন, তবে যতই আপনার মন খারাপ থাকুক না কেন নিমিষেই আপনার মুখে হাসি ফুটে উঠবে তাতে সন্দেহ নেই।দূর থেকে দেখলে ও রসাত্বক দু একটি কথা শোনার জন্য স্যারের কাছে যেতাম। এলাকায় দীর্ঘ ৫ যুগের অধিক সময় অতিবাহিত করলেও কারো কাছ থেকে কখনো স্যারের ব্যাপারে একটি নেতিবাচক শব্দ শুনিনি। ২ জুলাই সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় পরিবার পরিজন, হাজার হাজর শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষের প্রিয় ব্যাক্তিত্ব মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন।মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি,আল্লাহ যেন মহান স্যারকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনকে ধৈর্য ধারণের তওফিক দান করেন।
লেখকঃ বিলাল আহমদ, প্রধান শিক্ষক, ফুলমলিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
