গোলজার আহমদ হেলালঃ বিশ্বব্যাপী আজ মহামারী চলছে।covid-19এর আক্রমনে ক্ষতবিক্ষত সারা দুনিয়া।মরণের মিছিল চলছে।অপর দিকে চীন ও আমেরিকার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আমাদেরকে আরো ভাবিয়ে তুলছে।করোনাভাইরাস আল্লাহ প্রেরিত জীব না তাদের গবেষণাগারের ফল।তা এখনও বিশ্ববাসী বুঝে উঠতে পারে নি।তার উপর ইসরাইলী গোয়েন্দা অফিসার ও ইরানের সামরিক অফিসারের কথামতে ইহা যে জীবাণু অস্ত্র তার আভাস মিলে।তবে সমরনীতি না হলে রাজনীতি ও হতে পারে।আজকের বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমে চীনে আরেকটি ভাইরাসের উদ্ভবের সংবাদ বিষয়টিকে রীতিমত জটিল করেছে।কেউ কেউ বলেছেন ইহা করোনাভাইরাস এর পরবর্তী রাসায়নিক সংস্করণ। বিজ্ঞানাগারে প্রস্তুত হোক অথবা প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মে মহাজাগতিক ভাবে ভুমন্ডলে পাঠান না কেন তা মানুষের হাতের কামাই।মানবসৃষ্ঠ মহাবিপর্যয়,মহাদুর্যোগ।মহা বিশ্ব বিপর্যয়। জলে-স্থলে আকাশে এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়েছে। মানুষ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে সামান্যতম ধারনা থাকলে তা উপলব্ধি করা সম্ভব।
জাপানের হিরোশিমা ও নাগাশাকী শহরে ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় পারমাণবিক বোমার আঘাতে মানব সভ্যতার উপর অবর্ণনীয় ধবংসলীলা চালানো হয়েছিল।যার খেসারত পৃথিবীবাসীকে এখনও দিতে হচ্ছে।সে সময়ের পরেই তথাকথিত বিশ্ববিবেক নিউ ওয়ার্ল্ড ওর্ডারের মাধ্যমে এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।দেশে দেশে মুসলমানদের নির্যাতন বাড়ানো হয়।মুসলিম রাষ্ট্র গুলোকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়।এর পুর্বে মুসলিম খেলাফত ১৯২৪ সালে পর্যুদস্ত করা হয়।এর সব মুলেই ইংগ মার্কিন ইসরাইলী চক্রের ইউনিপোলার গ্লোবাল সিস্টেম।বিশ্বের দিকে দিকে পুঁজিবাদ কে ছড়িয়ে দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী কায়দায় সুদ কে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে বিস্তৃত করে ব্যবসার হাতিয়ার বানানো হয়।খাদ্য এবং অস্ত্রকে নিজেদের করায়ত্তে নিয়ে দুনিয়াবাসীকে এক ধরনের জিম্মীতে পরিণত করা হয়।
ইতিহাস বলে শতাব্দীকাল পরে সভ্যতার পরিবর্তন ঘটে।চলমান সভ্যতা তার টেকসই ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।মানুষ নতুন পৃথিবী খুঁজতে থাকে।আমরা দেখি ১৯২৪ সাল পর্যন্ত একটি ধাপ ছিল।জ্ঞান-বিজ্ঞ
ান আর নব নব আবিষ্কার, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা এবং রাষ্ট্র সমুহের রাষ্ট্রনৈতিক বিধান, ইংরেজি সভ্যতার খবরদারি ইত্যাধির মাধ্যমে পরবর্তী পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল।কিছুকাল পরেই মার্কিন মুলুকের রসায়নে ইহুদী সাম্রাজ্যবাদ এর গোড়াপত্তন ঘটে।
আজ পৃথিবীতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে।মানুষ আর মেশিন অনবরত যুদ্ধ করছে।এটাই চলমান সোসাইটির অশনিসংকেত। বাষ্পীয় ইঞ্জিন,বিদ্যুত,ইন্টারনেট আর ডিজিটালাইজেশনের ক্রমধারায় সংঘটিত শিল্পবিপ্লবের দুনিয়ায় মানুষ বাসযোগ্য পৃথিবী চায়।
সভ্যতার উত্থান পতনের দুটি মৌলিক বিশ্বাস আমাদের মাঝে কাজ করে।কিন্তু গভীরভাবে অনুধাবন করলে বুঝা যায় এর কোন তফাৎ নাই।বিশ্ব জাহানের মালিক মহান আল্লাহ অতীতে অনেক জাতি অনেক প্রজন্মকে দায়িত্ব না পালন করার কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন।তিনি প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীর কাছে ভিন্ন ভিন্ন কর্মগত বিধান সহ নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন।সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিকে খেয়াল রেখেই শরীয়া দিয়েছেন।তাই আমরা দেখি একেক সময় একেক সভ্যতা গড়ে ঊঠেছে।নুহ আঃ এর সময় প্লাবন পরবর্তী আরেক সভ্যতা,দাউদ আঃ ও সুলাইমান আঃএর সময় এক দিকে বিপুল শক্তি ও গৌরবময় শান-শওকত ছিল,অপরদিকে সাবা জাতিকে ধবংশ করে দিলেন,বাদশাহ জুলকারনাইনের সভ্যতা,ইউসুফ আঃ এর দুর্ভিক্ষ পরবর্তী সমাজ ও আগের রাষ্ট্র ব্যবস্থা,ইরাম জাতির বিলাসবহুল সভ্যতা,লুত জাতি ধবংস,ইসরাইলী ফেরাউনী সভ্যতা,রোমান,পারস্য, গ্রীক সভ্যতা ও সর্বকালের সেরা সভ্যতা খ্রীস্টীয় সপ্তম শতকের সভ্যতা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি সভ্যতার পতন ঘটেছে।কিন্তু কেন?
এটাই চিরায়ত নীতি।মানুষ যখন মুল থেকে বিচ্যুত হয় তখনই পতন ঘটে।মানুষ যখন আন্দাজ অনুমান নির্ভর পথ রচনা করে তখন তারা আর ঠিকে থাকতে পারে না।কারণ অনুমান সত্যের ধারে কাছেও যেতে পারে না।
ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ভাবে প্রতীয়মান হয় যে চলমান সভ্যতার ধবংস অনিবার্য। যে কোন দৈব দুর্বিপাক, মহামারী কিংবা মানবসৃষ্ট দানবীয় অত্যাচারে নতুন সভ্যতার পথ সৃষ্টি করবে এবং গড়ে উঠবে নতুন এক পৃথিবী।
আজকে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস। সারা দুনিয়া লক ডাউন হয়ে গেছে।এর পরবর্তী অধ্যায়ই নির্ধারণ করবে এটার cause of action.কিন্তু আমরা জানি সভ্যতার দবান্ধিক যুদ্ধ চলছে।কে হবে বিশ্ববাসীর নেতা।আমেরিকা ইসরাইল চীনের অভাবনীয় জাগতিক সাফল্য ও প্রযুক্তির উন্নতি মেনে নিতে পারে নি।অপর দিকে
মানব জাতির চুড়ান্ত যুদ্ধ এক কেন্দ্রিক বিশ্ব কে চালাবে।মুসলমান না ইহুদি সেটাও এ সময়ের প্রাসঙ্গিক বিষয়।
খেয়াল করুনঃপাল্টে যাচ্ছে পৃথিবী।
দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে হু হু করে কমছে দূষণের মাত্রা! চীন, ইটালী বা ব্রিটেনের আকাশে অবিশ্বাস্য গতিতে কমছে নাট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা!নিউইয়র্কের আকাশে দূষণের মাত্রা কমেছে ৫০%।
দল বেঁধে ফিরে আসছে পরিযায়ী পাখির দল। সভ্যতা থেকে দূরে সরে যাওয়া নিরীহ ডলফিনের ঝাঁক ফিরে আসছে মানুষের কাছে, ভেনিস থেকে মুম্বাই সর্বত্র! রাশ পড়েছে বিশ্ব ঊষ্ণায়নের হারেও। অবিশ্বাস্য, তাই না?
যত মানুষ সেঁধিয়ে যাবে ঘরে, বন্ধ হতে থাকবে মাঝারি ও বড় শিল্প, কমবে গাড়ীঘোড়া বা বিমানের জ্বালানী দূষণ। শুধু চীনেই গত দু’মাসে জ্বালানীর ব্যবহার কমেছে ৩০%য়েরও বেশী।
গোটা মানবসভ্যতাকে মাত্র সাত-আট সপ্তাহে কেউ যেন প্রবল ঝাঁকিয়ে ছেড়ে দিয়েছে!
বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের মতে এ স্রেফ শুরু! এই আপাতঃ নিরীহ এক ভাইরাস (মৃত্যুহার যেহেতু ১%য়ের আশেপাশে) গোটা দুনিয়ার ভোল পাল্টে দেবে। পাল্টে দেবে আমাদের মানসিকতা, আমাদের জীবনযাত্রা।সীমান্ত মুছে গিয়ে গোটা পৃথিবী দাঁড়াবে এক আকাশের নীচে, অজানা অচেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে একজোট হয়ে।ঘরবন্দী হয়ে যাওয়া প্রাথমিক ধাক্কাটুকু সামলে হাত বাড়িয়ে দেবে প্রতিবেশীর দিকে।
করোনাঢেউ স্রেফ এই এক-দু’মাসের গল্প নয়। একটা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে বাজারে আসতে সময় নেবে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ মাস। এরমধ্যে পৃথিবীর অন্ততঃ দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আক্রান্ত হবে দফায় দফায়। যতদিন ভ্যাকসিন না আসছে, করোনায় ইমিউনিটি তৈরী হওয়ার একমাত্র পথ এতে আক্রান্ত হওয়া।
WHOর মতে এখনও ভারত সহ বিশ্বের প্রায় কোনো দেশেই মাস-টেস্টিং শুরু হয়নি। কেবল সন্দেহভাজন উপসর্গ দেখলেই টেস্ট হচ্ছে। মজা হল এই ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর উপসর্গ দেখা দিতে সময় নিচ্ছে ৭-১০ দিন। ততদিন ধরে ঐ ধারক বা বাহক জানতেই পারছেন না যে তার শরীরে ভাইরাস আছে অথচ নিজের অজান্তেই তিনি সেই ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন আরো ১০০ মানুষের শরীরে।
তাহলে কী দাঁড়ালো? আক্রান্তের যে ছবি বা পরিসংখান আমাদের সামনে এই মুহূর্তে আছে, সে ভারতের হোক বা পৃথিবীর, আসল সংখ্যাটা হয়ত তার বহুগুণ বেশী!
এই পৃথিবীরও যে একটা ইমিউনিটি সিস্টেম আছে, তা ভাবিনি কখনো! যেন অতিবিরক্ত ধরণী আর সইতে না পেরে সেই বোতামটাই টিপে দিয়েছেন!
বিজ্ঞানীদের মতে আগামী একবছরে করোনা-বিপর্যস্ত মানুষ, দফায় দফায় ঘরবন্দী থাকা মানুষ পৃথিবীর দূষণ কমিয়ে ফেলবে প্রায় ৪৫%! পরিবেশ ফিরে যাবে ৫০০ বছর আগে, বিশুদ্ধতার নিরিখে। মাস’ছয়েকের মধ্যে কমতে থাকবে হিমবাহের গলন, বন্ধ হয়ে যাবে বছরখানেকের মধ্যে।
নতুন পৃথিবীতে নতুনভাবে নামবে মানুষ, ভাঙাচোরা অর্থনীতি, থমকে যাওয়া শিল্প, আমূল বদলে যাওয়া জীবনকে নতুন করে বাঁধতে। ধূলো-ধোঁয়া-অন্ধকার পেরিয়ে সেই নতুন পৃথিবীর সোনালী আলোর রেখা হয়ত দেখা যাচ্ছে এখন।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক- দৈনিক আলোকিত সিলেট, সহ সভাপতি- সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
