ট্রেন যখন সিলেটের মাইজগাঁও স্টেশনে পৌঁছলো তখন রহস্যটা খোলাসা হতে শুরু করলো। টিকিট কালেক্টর মালেক ও জয়নালের মধ্যে শুরু হলো বাগবিতণ্ডা। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে যা শুনা গেল তাতে তো চোখ ছানাবড়া। প্রায় ৫ মিনিট তারা ঝগড়া করলেন। এক পর্যায়ে মালেক জয়নালকে বলেন, আজ তো স্যার (ফরিদ উদ্দিন) ট্রেনে আছেন। সবকিছু তিনি দেখছেন। যদি স্যারকে কম দেয়া হয় তা হলে সমস্যা হবে। এখনো চারটি টিকিট রয়ে গেছে আমার কাছে। এগুলো কী করব? তখন জয়নাল বলেন, অল্প টাকায় বিক্রি করে দেন।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল কেন বেশিরভাগ যাত্রীর কাছে টিকিট নেই। তারা জানালেন, উপযুক্ত সময়ে টিকিট পাওয়া যায় না। নিয়ম অনুয়ায়ী স্টেশন থেকে টিকেট দেয়ার কথা থাকলেও সময় মতো স্টেশনে গিয়েও তা পাওয়া যায় না। অনেক যাত্রী এর পেছনের কারণ হিসেবে বললেন, কৌশল করে ট্রেনের কমকর্তারা সব টিকেট সংগ্রহ করে নেন। আর যাত্রীরা টিকেট কিনতে গেলে স্টেশন মাস্টাররা বলেন, টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তখন নিরূপায় যাত্রীরা টিকিট ছাড়াই ট্রেনে চেপে বসেন।
অনুসন্ধানে জানা গেল, প্রতিটি স্টেশনের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে একটি চক্র গঠন করা হয়েছে। আর এই চক্রই প্রতিটি স্টেশন থেকে সময়ের আগেই সব টিকিট সংগ্রহ করেন। পরে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। এমনকি ট্রেনের ভিতরে চা-পান বিক্রি করা হকাররাও তাদের সহযোগিতা করে।
এ ব্যাপারে ট্রেনের পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করলেন। সোজাসুজি বললেন, ‘আমি কিছুই জানি না। আপনে কে? দয়া করে আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না।’ পরে তিনি কুলউড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে যান।
