ডেস্ক: ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে পুরোদমে মাঠে নেমেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সিলেট নগরজুড়ে নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের সাথে সাথে গোয়েন্দা শাখা ও স্পেশাল শাখাও নগরজুড়ে ওঁতপেতে আছে। তাছাড়া যেকোনো ধরনের ঘটনার মোকাবেলা করতে ‘স্ট্যান্ডবাই’ রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ টিমকে। এদিকে ঈদের দিন নগরীর সবকয়টি ঈদগাহে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলেও সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নগরীর ছিনতাই ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্ক নজরদারি রাখার পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী এদের ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করে এই বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এই গোয়েন্দা তৎপরতায় এবার রমজানে সিলেট নগরীতে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, রাহাজানির ঘটনা কম ঘটেছে বলে জানায় সূত্রটি। তবে এই গোয়েন্দা তৎপরতার সাথে ঈদকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশের প্রায় দুই হাজার সদস্য। স¤প্রতি ঈদ উপলক্ষ্যে মহানগর পুলিশের একটি বিশেষ সভায় এই পুলিশ সদস্যদেরকে নগরীতে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়।
বর্তমানে পুরো নগরী জুড়ে দুই শিফটে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করছে পুলিশের একটি টিম। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মাঠে থাকছে আরেকটি টিম। উভয় টিম নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেই কাজ করছে। এছাড়া নগরীর ২৮টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। পুলিশের ৩৫টি টিম পুরো নগরীতে তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও জানায় সূত্রটি। তাছাড়া এই পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরাও নগরজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। গোয়েন্দা শাখার সাথে সাথে বিশেষ শাখার সদস্যরাও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন একজন উর্ধ্বতন গোয়েন্দা তৎপরতা।
এদিকে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিমকে মাঠে নামিয়েছে প্রশাসন। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে এই টিমের সদস্যরা চার ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। নারী পুলিশের এই বিশেষ টিমটিতে রয়েছেন ১২ জন করে সদস্য। প্রত্যেক টিমের ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছেন একজন করে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা। যেকোনো পরিস্থিতিতে এদেরকে সহয়তা করার জন্য রয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
এছাড়া সাদা পোশাকধারী থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। নগরীর প্রত্যেকটা মাকের্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানও। এদিকে র্যাব-৯’র সদস্যরা নগরীতে টহল জোরদার করেছে। গত ৩ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে র্যাব তাদের নজরদারি শুরু করে। ঈদকে সামনে রেখে এই নজরদারি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ঈদের দিন নগরীর সবকয়টি ঈদগাহে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেও বলে এসএমপি সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই কিভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেই পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ঈদের দিন ভোর বেলা থেকেই সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ছড়িয়ে পড়বে নগরীর প্রত্যেকটা ঈদগাহে। সাধারণ মুসল্লীদের সাথে মিশে গিয়ে যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে তৎপর থাকবে তারা। এছাড়াও পোশাকধারী পুলিশের ব্যাপক নজরদারি থাকবেও বলে জানায় সূত্রটি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রহমতউল্লাহ এ ব্যাপারে বলেন,‘ঈদকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থা ঠেকাতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় রাখা হয়েছে এসএমপির অধীনস্থ ৬টি থানার পুলিশকে।’
তিনি বলেন,‘ঈদে মানুষের বাসা-বাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রয়েছে এসএমপির। তাছাড়া ঈদগাহে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে, নির্বিঘেœ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে, সেই লক্ষ্যে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এসএমপির পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।’
