আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আসামের সাম্প্রতিক মুসলিম নিধনযজ্ঞের পেছনে ভোটের রাজনীতি আছে বলে মনে করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আর আক্রান্তদের অভিযোগের আঙ্গুল কংগ্রেসের এক মিত্রের দিকে।
স্বায়ত্বশাসিত আঞ্চলিক পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে ভোটের ধরন পাল্টে দিতেই এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১ মে মধ্যরাতে ভুটান সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্যটিতে বাংলা ভাষাভাষি মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় বড়ো উপজাতি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন হাজার হাজার মুসলিম।
তদন্ত কর্মকর্তারা রক্তপাতের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসহ অন্যান্য মোটিভ খতিয়ে দেখছেন। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) মাধ্যমে তদন্তে সহযোগিতা করতে আসাম সরকার কেন্দ্রীয় সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রায় দুই বছর আগে একই ধরনের এক দাঙ্গায় শতাধিক নিহত হন যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম। ওই রক্তপাতে চার লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
রাজ্যের রাজধানী গোহাটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. অখিল রঞ্জন দত্ত বলেন, ‘আগামী বছরের বড়ো পরিষদ নির্বাচনের ভোটের ধরন পরিবর্তন করে দিতে এ ধরনের হামলা হতে পারে বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘এখন যদি নন-বড়োদের থেকে একজন প্রার্থী দেয়া যায়, তাহলে কোকরাঝার লোকসভা আসনে সে জিতে যাবে। আর তা আলাদা বরোল্যান্ড দাবিতে বরোদের দাবির বিরুদ্ধে গণরায় হিসেবে দেখা হবে।’
গত ৭ এপ্রিল থেকে ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়েছে। নয় দফায় ভোটগ্রহণ শেষে আগামী ১৬ মে ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে জয় পেতে যাচ্ছে কট্টরপন্থি হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি।
নন-বড়ো রাজনীতিকদের দাবি, বর্তমানে বড়োল্যান্ড আঞ্চলিক পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বড়ো পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) আসন্ন পরিষদ নির্বাচনে ‘বিশেষ একটি পক্ষকে’ ভোট দিতে মুসলিমদের বাধ্য করতেই এই হামলা চালিয়েছে।
গত ২০০৩ সালে বড়োদের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এক চুক্তি অনুযায়ী বড়োল্যান্ড আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়। এছাড়া বড়োরা আলাদা রাজ্য দাবি করে আসছে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বড়োরা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। সেখানকার ৩২ লাখ অধিবাসীর ২৭ ভাগ বড়ো আর সাড়ে ১৯ ভাগ মুসলিম। বাকিরা অন্য জাতিগোষ্ঠীর।
অল বড়োল্যান্ড মুসলিম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (এবিএমএসইউ) নেতা লাফিকুল ইসলাম আহমেদ বলেন, আক্রান্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে একজন ফরেস্ট রেঞ্জার এবং সাতজন ফরেস্ট গার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয় যাদের অন্তত দুজন বড়ো লিবারেশন টাইগারসের সদস্য ছিলেন। এতে বুঝা যায়, হামলা রাজনৈতিক।
এদিকে, কংগ্রেসের মিত্র বিপিএফ’র এমপি প্রমিলা রানী ব্রাহ্মা’র এক বিবৃতির বরাত দিয়ে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইডিএফ) এর এমপি আবদুর রহিম খান বলেছেন, ‘প্রমীলা তার বিবৃতিতে বলেছেন- মুসলিমরা তার দল বিপিএফ প্রার্থীকে ভোট দেয়নি, এতে বড়োদের কিছু অংশ ক্ষুব্ধ হয়।’
