নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাটের দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের দর্পনগর পূর্ব গ্রামে সম্প্রতি ফৌজদারি মামলার নথিপত্র ও সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে এক সুসংগঠিত পাল্টা প্রতিশোধ ও শত্রুতামূলক হয়রানির চিত্র। সাধারণ মানুষ যখন আইনের আশ্রয় নেন, তখন অপরাধী চক্র কীভাবে তাদের বলির পাঁঠা বানায়, তারই যেন উদাহরণ এই ঘটনা।
গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে কানাইঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি হন স্থানীয় ইয়াছিন আলী (৪০), পিতা মৃত ইলিয়াস আলী। রাত আনুমানিক ০২টা ০৫ মিনিটে ৩ নং দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের সিংগাইর আলা কবরস্থানের পশ্চিম পাশে স্থানীয় জনতা ইয়াছিন আলী ও তার সহযোগীদের হাতেনাতে আটক করে। পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭০ বোতল (২৬.২৫ লিটার) ভারতীয় ‘অফিসার্স চয়েস প্রেস্টিজ হুইস্কি’ উদ্ধার করে। এই মামলায় পুলিশ বাদী হয়ে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৪(খ)/৪১ ধারায় মামলা রজু করে। ওই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন অধিবাসী সেবুল আহমদ আব্দুল্লাহ পুলিশকে সহায়তা করেন এবং তিনি মামলার সাক্ষী হন। এরপর থেকে ইয়াছিন আলী তাঁকে দেখে নেওয়ার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
মাদক মামলার ঠিক চার মাস পর, গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সেবুল আহমদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(খ) ধারায় ভারতীয় মালামাল চোরাচালানের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের এজাহারে দাবি করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেবুল আহমদের বসতঘরের বারান্দা থেকে ৯৯ বোতল ভারতীয় মবিল এবং ০৫টি এমআরএফ টায়ার উদ্ধার করা হয় এবং তিনি পালিয়ে যান। তবে এই বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সেবুল আহমদ অভিযোগ করে বলেন, বসতঘরের বারান্দা থেকে মালামাল উদ্ধারের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি জানান, তাঁর গরুঘরের পাশে এগুলো আগে থেকেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে থানা থেকে তাকে ডেকে আনা হয় এবং তিনি থানায় গেলে গ্রেফতার করা হয়।
এ মামলার সাক্ষী মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, তিনি বাজারে যাওয়ার সময় থানার এক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে সেবুল আহমদের বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে গরুঘরের পাশ থেকে কিছু অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়। পরে তাকে সাক্ষী হওয়ার কথা বলা হলেও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে সেবুল আহমদকে চেনেন এবং তিনি এই ধরনের কাজ করেন না, কেননা এটি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কিন্তু পরে জোরপূর্বক তাকে সাক্ষী করা হয়।
অভিযোগের বিপরীতে উক্ত মামলার বাদী কানাইঘাট থানার এসআই আশীষ চন্দ্র তালুকদার দাবি করেন, তিনি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেবুল আহমদের বাড়ি থেকে অবৈধ মালামাল উদ্ধার করেন এবং মামলা দায়ের করেন। তবে সেবুল আহমদকে কীভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তিনি তা জানেন না। এই বক্তব্য স্থানীয় মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ মামলার বাদী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনবগত থাকলেও মামলার নথিতে গ্রেফতারের কথা উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন স্থানীয় সুধীজন।
