আব্দুর রহিম, সিলেট প্রতিনিধি | ১১ জুলাই ২০২৬
সিলেটের গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মিনহাজ আহমদ (গ্যাজেট নং: ১৪, কেইস আইডি: ৫১) নামে এক তরুণ মেকানিক শহীদ হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে গোলাপগঞ্জ থানা অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে তিনি নিহত হন।
শহীদ মিনহাজ গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আলাউদ্দিন ও সিতাই বেগম দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার মেকানিক মিনহাজ কর্মস্থলে থাকা অবস্থায়ও রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিয়ে সাহস জোগাতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বল এবং হাস্যরসের মানুষ, যিনি ছিলেন পুরো পরিবারের আনন্দের উৎস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৪ আগস্ট বিকেলে গোলাপগঞ্জে আন্দোলন তীব্র রূপ নিলে পুলিশের গুলিতে চারজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। সহযোদ্ধাদের মরদেহ নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা গোলাপগঞ্জ থানা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। এ সময় কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে হাতে লাঠি নিয়ে মুক্তিকামী জনতার সাথে যোগ দেন মিনহাজ। মিছিলটি গোলাপগঞ্জ সানরাইজ পার্টি সেন্টারের সামনে পৌঁছালে থানা থেকে পুলিশ অতর্কিতে গুলি চালায়। এ সময় মিনহাজ গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিনহাজের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে এখনো শোকের মাতম চলছে। পরিবারের স্বজনরা জানান, মিনহাজের চলে যাওয়ার শূন্যতা আজও তারা প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করছেন। মেধাবী ও কর্মঠ এই তরুণের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া, যা আজও তাজা ক্ষত হয়ে আছে এলাকাবাসীর হৃদয়ে।
সম্পাদকের নোট: শহীদ মিনহাজ আহমদের জীবনের আত্মত্যাগ ও সেই দিনের ঘটনার ভয়াবহতা আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইল।
