বিভাজন কি মুসলিমদের কোনো স্বার্থসিদ্ধি করতে পেরেছে? আমার এমন কিছু জানা নেই। দেশ ভ্রমণের সময় আমি মানুষকে বলতে শুনেছি, তারা খুশি যে অন্তত ‘কিছু জায়গা’ পেয়েছে, যেখানে নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারবে, মুক্ত ভাবতে পারবে ‘হিন্দু অত্যাচার’ ও ‘হিন্দু আগ্রাসন’ থেকে। কিন্তু আমি অনুভব করি, মুসলমানরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এখন তারা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথক তিনটি দেশে- ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে। ভাবুন তো, যদি এটি একীভূত উপমহাদেশ থাকত তবে সংখ্যাগত দিক দিয়ে তারা কতটা শক্তিশালী হতো, তাদের ভোট কতটা বিশালসংখ্যক হতো! তারা হতে পারত মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সীমানা পৃথক হওয়ার পর দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শুধুই দূরত্ব বেড়েছে। বেড়েছে একের প্রতি অন্যের দোষারোপ। আমি ভাঙা মন নিয়ে ফিরে এসেছি ওয়াঘা-অমৃতসর থেকে, এ কারণে নয় যে, সেখানকার সৈন্যরা সূর্যাস্তের কুচকাওয়াজে এখনো অংশ নেয় বুক ফুলিয়ে, এ জন্য যে, সেখানে জায়গা করে নিয়েছে নতুন পৈশাচিকতা। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ সেখানে সাজিয়েছে ১০টি বিষয়। এর মধ্যে তারা প্রদর্শন করেছে হিন্দু ও শিখরা কীভাবে হত্যা করেছে মুসলিমদের আর বিভাজনের সময় কীভাবে তারা লুট করেছে মুসলিমদের সম্পদ। এটি এমন একটি স্থানে প্রদর্শন করেছে, যা শুধু দেখা যায় ভারত থেকে। এটি পাকিস্তান ভূখণ্ড থেকে দেখা যায় না। সেখান থেকে এটিকে মনে হয় একটি বড়সড় বিলবোর্ড। সেখানে এমন কিছু বিষয় প্রদর্শন করা হয়েছে, যা কিনা আক্রমণাত্দক, এর অন্তর্নিহিত অর্থ অত্যন্ত কলুষ। এগুলো করা হয়েছে সম্ভবত বিগত দুই মাসে। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের শান্তি আলোচনার দাবি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে এবং এ কারণে যে, গোটা পঞ্চাশেক লোক গত বছর এখানে এসেছেন প্রথমবারের মতো ছয় দশক আগে লব্ধ স্বাধীনতাকে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। তবে এটা ঠিক যে, ভারতে মুসলিমরা আর পাকিস্তানে হিন্দু ও শিখরা হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে ব্যাপকভাবে। এ সময় মূলত টার্গেট করা হয়েছে নারী ও শিশুদের। যদি কেউ আমাকে বলে যে, হিন্দুত্ববাদ মহত্ত্বের দিক দিয়ে মহান, কিংবা ইসলাম ভালোবাসাকে বিস্তৃত করে, তবে আমি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করব। কারণ আমি দেখেছি দুই ধর্মের অনুসারীরাই বিশ্বাসের ধুয়া তুলে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা হর হর মহাদেব বা ইয়া আলী বলে স্লোগান দিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শরীরে তলোয়ার বা বল্লম বিদ্ধ করে।
লেখক : ভারতীয় সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনীতি বিশ্লেষক
