ডেস্ক: বিয়ানীবাজারে চালককে ধারালো অস্ত্রদিয়ে হত্যা করে অটোরিক্সা নিয়ে পালানোর সময় জনতার সহায়তায় পুলিশ ৫ ছিনতাইকারীকে আটক করেছে। রোববার মধ্যরাতে বিয়ানীবাজার-শিকপুর সড়কের তক্তারপুল এলাকায় এ দুর্ধর্ষ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে ধৃত ছিনতাইকারিদের জেলহাজাতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিলেটের কদমতলী থেকে ধৃত পাঁচ ছিনতাইকারী বিয়ানীবাজারে আসার কথা বলে অটোরিক্সা (সিলেট থ ১২-৩১৫৫) ভাড়া করে। কুশিয়ারা নদীর শিকপুর ফেরী পার হয়ে বিয়ানীবাজার-শিকপুর সড়কের তক্তারপুল এলাকায় আসার পর ছিনতাইকারীরা পূর্ব পরিকল্পনামতো চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রাস্তায় ফেলে অটোরিক্সা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বিয়ানীবাজারের কলেজ রোডের মুছা মার্কেটের সামনে আসার পর অটোরিক্সা বিকল হলে স্থানীয় মানুষের সন্দেহ হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে টহল পুলিশ কলেজ রোড থেকে অটোরিক্সা উদ্ধার ও পাঁচ ছিনতাইকারীকে আটক করে।
আটককৃত সুমন আহমদ (১৯), জাকারিয়া (১৮) শহীদুল ইসলাম (১৮) সিপু মিয়া (১৮) ও রুহুল আমিন (১৮)। ধৃতদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়।
এদিকে আহত চালককে পথচারীরা উদ্ধার করে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। দুই সন্তানের জনক চালক হযরত আলীর (৩৫) বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর থানার জাহাঙ্গীর নগর গ্রামে হলেও দীর্ঘ দিন থেকে মংলোবাজার থানার আলমপুর এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর পেটসহ শরীরের ১৭ জায়গায় জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় চালক হযরত আলীর ভাই শুক্কুর আলী বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৫, তারিখ ১৮-০৮-২০১৪ ইংরেজি।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা ছিনতাই করার কথা স্বীকার করেছে। আটককৃত ছিনতাইকারীদের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
